• শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চন্দনাইশে লেবুর বাম্পার ফলন, চাষিদের মুখে খুশির ঝিলিক

  কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৫:১৩
লেবুর হাট (ছবি : অধিকার)

জনপ্রিয় ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল লেবু। প্রখর রোদ ও তীব্র তাপদাহে মানুষ যখন অতিষ্ঠ, তখন লেবুর চাহিদা বেড়ে যায়। করোনা ভাইরাসের কারণে লেবুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এর দামও ছিল আকাশচুম্বী। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় প্রতি বছর ৫ জাতের লেবুর চাষ হয়। এগুলো হচ্ছে, কাগজি লেবু, পাতি, এলাচি, বাতাবি ও নতুন জাতের হাইব্রিড সিডলেস নামে একটি লেবুর চাষও বর্তমানে হচ্ছে। চট্টগ্রাম ছাড়া দেশের আর কোথাও এত বিপুল পরিমাণ লেবু উৎপাদন হয় না।

স্থানীয়ভাবে লেবুর দুই টুকরি বা ঝুড়ি নিলে এক ভার হয়। সে রকম প্রতি ভারে ৪শ থেকে ৬শ পর্যন্ত লেবু থাকে। বর্তমানে প্রতি ভার লেবুর দাম ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে লেবুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত লেবুর প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে সমর্থ হয়েছে চন্দনাইশের লেবুচাষিরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় লেবুর ফলন ভালো হয়েছে। সেই সাথে লেবুর দাম ভালো থাকায় চাষিরাও বেজায় খুশি।

উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নজুড়ে, দোহাজারী ইউনিয়নের লালুটিয়া, জামিজুরী, হাতিয়াখোলা, হাশিমপুরের ছৈয়দাবাদ, কাঞ্চনাবাদের লর্ড এলাহাবাদসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকাজুড়ে প্রচুর লেবুর বাগান রয়েছে এবং সেখানে প্রতি বছরই প্রচুর পরিমাণে লেবুর চাষ হয়ে থাকে। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে লেবুর ফুল আসে এবং জৈষ্ঠ্য, আষাঢ়, শ্রাবণ মাসজুড়ে ফলন পাওয়া যায়।

দোহাজারী পৌরসভা সদরে কয়েকজন বিক্রেতার সাথে আলাপকালে তারা জানান, প্রতিদিন প্রচুর লেবু বিক্রি হচ্ছে। ১টি লেবু খুচরা মূল্যে আকার ও প্রকৃতি ভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামে সবচাইতে বেশি লেবুর চাষ হয় চন্দনাইশে। এখানকার লেবু চট্টগ্রাম ও ঢাকার কাওরান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় বাজারে সরবরাহ করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে লেবু বাজারজাত হয়। অনেক সময় বিভিন্ন স্থানে দ্রুত লেবু সরবরাহে বিলম্ব হলে শতশত মেট্রিক টন লেবু পঁচে-গলে নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে এ অঞ্চলের লেবু ও পেয়ারা ও সবজি সংরক্ষণে বিভিন্ন সময়ে হিমাগার স্থাপনের দাবি উঠলেও রহস্যজক কারণে তা আজও উপেক্ষিত। ফলে লেবুর বাম্পার ফলন হলেও এর সুফল পাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় চাষিদের মতে, সবজি রাখার জন্য হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত লেবু, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি সংরক্ষণ করতে না পারার কারণে অনেক সময় চাষিরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। লেবু চাষিদের মতে, চলতি বছর প্রতিটি বাগান থেকে গড়ে কমপক্ষে ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকার লেবু বিক্রি করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন : ক্ষুুধার যন্ত্রণায় ২২ দিনের শিশু বিক্রি!

প্রতি মৌসুমে কোটি কোটি টাকার লেবু উৎপাদন হলেও এখানকার লেবু চাষিরা সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ের কোনো সাহায্য সহযোগিতা পান না বলে অভিযোগ করেন। এমনকি লেবু চাষিদের ব্যাপারে কোনো তথ্য ও সরকারি কোনো দফতরে নেই। তাছাড়া চাষিদেরকে লেবু চাষে আধুনিক প্রশিক্ষণসহ সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে লেবু উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং লেবু রফতানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড