• মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অস্তিত্ব সংকটে ফেনীর পাগলিছড়া খাল

  এস এম ইউসুফ আলী,ব্যুরো প্রধান (ফেনী)

২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৩০
অস্তিত্ব সংকটে ফেনীর পাগলিছড়া খাল
পাগলিছড়া খাল (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পলিথিন, গৃহস্থালি পণ্য আর ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে ফেনী পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ পাগলিছড়া খাল। দৃশ্যত এই খালটির অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফেনী শহরের হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে যায়, ফেনী পৌরসভার ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় পৌনে এক লাখ মানুষের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ এই পাগলিছড়া খাল। অথচ ময়লা আবর্জনায় পুরো খালটিই এখন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই! এখানকার ভূমি অফিস ও সরকারী নক্সা অনুযায়ী এ খালের গড় প্রস্থ ২০ ফুট। কিন্তু অবৈধ দখলদারদের যাঁতাকলে পড়ে স্থানভেদে এর প্রস্থ দাঁড়িয়েছে এখন ৪ থেকে ৬ ফুটের ড্রেনে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেনী শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রায় ৬ কিলোমিটার পথের মধ্যে পাগলির ছড়া খাল ছাড়াও দমদমা, ভোলভোলা ও মধুয়্যাই খালেও অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বাড়ি, দোকান পাট ও মার্কেট।

অপরদিকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন বর্জ্যের দূষণে হুমকির মুখে পাগলির ছড়া খালের আশপাশের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।

গবেষকদের মতে পলিথিন অপচনশীল পদার্থ।এটি মাটি ও পানি দূষিত করে। মাটির উর্বরতা হ্রাস ও গুণাগুণ পরিবর্তন করে। কৃষিক্ষেত্রে পলিথিন সূর্যের আলো ফসলের গোড়ায় পৌঁছতে বাধা দেয়। ফলে মাটির ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া না মারা যাওয়ায় জমিতে উৎপাদন কমে যায়।

পলিথিন পোড়ালের উপাদান পলিফিনাইল ক্লোরাইড পুড়ে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়ে বাতাস দূষিত করে। পলিথিনের পরিত্যক্ত ব্যাগ শহরের পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পলিথিন ও বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য ব্যাপক ব্যবহার ও যত্রতত্র ফেলার কারনে রাস্তাঘাট, খালবিল, নদীনালা থেকে শুরু করে সমুদ্র পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

এর পরও থেমে নেই পলিথিনের রমরমা ব্যবসা। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই ফেনী জেলার সর্বত্রই পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার হচ্ছে। ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে সবকিছুই এখন বিক্রেতারা পলিথিনের ব্যাগে করেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেন।

ফেনীতে শহরের ডা. গোলাম মাওলা এ প্রতিবেদককে বলেন, শুধু পরিবেশ নয়, পলিথিন মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর। পলিথিন থেকে নির্গত হয় বিষফেনোল নামক বিষাক্ত পদার্থ, যা মানবদেহের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে চর্মরোগ, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে পলিথিন ব্যাগকে চর্মরোগের এজেন্ট বলা হয়। এছাড়া পলিথিনে মাছ, মাংস মুড়িয়ে রাখলে এতে রেডিয়েশন তৈরি হয়ে খাবার বিষাক্ত হয়।

শহরের বাসিন্দা ও ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক যতন মজুমদার বলেন, ফেনী শহরসহ জেলার সকল পৌর শহর গুলোতে ড্রেনেজ সিস্টেমে সবসময় জ্যাম লাগিয়ে রাখা আবর্জনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা পলিথিন। পলিথিনের কারণে অন্যসব আবর্জনাও জট পাকিয়ে থাকে। তাই ফেনী শহরের যখন অপচনশীল পলিথিন রাস্তায় ফেলছেন, তা বহু বছর কোনো না কোনো ড্রেনে বা খালে আটকে থাকে কিংবা ফেনী নদী, মুহুরী নদী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীসহ আশপাশের কোনো খাল বা জলাশয়ে গিয়ে জমে থাকে। এ কারণেই পলিথিন বর্জ্যে শহরের চারপাশের খাল ও জলাশয়গুলো ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে।

ক্যাব'র ফেনী জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু বলেন,আইন অনুযায়ী, ক্ষতিকর পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধে তৎপরতা জোরদার করতে হবে। পলিথিনবিরোধী ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে চটের ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহ জোগাতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিকর পলিথিন ব্যবহার রোধে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। এ নিয়ে গণমাধ্যম গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিধায় এ নিয়ে সরকারের টেকসই পরিকল্পনা জরুরি।

আরও পড়ুন : ফেনীতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ: দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি

ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন , সড়ক ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারনের জন্য আলাদা একটি টিম গঠন করা হয়েছে । তারা প্রতি ঘন্টায় বর্জ্য অপসারনে কাজ করছে । এছাড়া, যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে এমনটা হচ্ছে তাই পৌরসভার পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারনা অব্যহত রয়েছে।

ওডি/এসএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড