• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শরীয়তপুরের সেই গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

  তৌফিকুর রহমান মাসুদ, শরীয়তপুর

১৪ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৫০
শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বিষপানে নয়, মারধর করে হত্যা শেষে বিষপানের নাটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্কুলশিক্ষার্থী গৃহবধূ স্বর্ণা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে স্বর্ণা আক্তার নিহত হওয়ার পর থেকে বাল্য বিবাহকে প্রধান কারণ হিসেবে অভিহিত করে এই হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে কালেক্টরেট পাবলিক হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, স্বর্ণার যদি বাল্যবিয়ে না হতো তাহলে এই ঘটনা ঘটতো না। স্বর্ণা আমাদের স্কুলে নতুন ভর্তি হয়েছে, আমরা দীর্ঘদিন পরে জানতে পেরেছি সে বিবাহিত। আমরা বলতে চাই, স্বর্ণার বয়স লুকিয়ে স্বর্ণার মা-বাবা স্বর্ণাকে বিয়ে দিয়েছে। স্বর্ণাকে তার স্বামী আল আমিন, শ্বশুর-শাশুড়িসহ যারা হত্যা করেছে আমরা তাদের বিচার দাবি করছি। সাথে সাথে স্বর্ণার মা-বাবাসহ বয়স জালিয়াতি করতে চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ যারা ভুয়া জন্ম নিবন্ধন দিয়েছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই আমরা। একই সাথে যে কাজী বিয়ে পড়িয়েছেন তাকেও বিচারের আওতায় আনা উচিৎ বলে মনে করি।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, স্বর্ণা হত্যা একদিনে ঘটেনি। স্বর্ণাকে তিলে তিলে মারা হয়েছে, মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আজ স্বর্ণা মরেছে, কাল আমি বা আমার সহপাঠী মরবে। এখন যদি এই হত্যার উচিৎ বিচার না হয় তাহলে সামনের দিনে এমন ঘটনা অহরহ ঘটতে থাকবে। আমরা কিশোর, আমাদের মধ্য থেকে এমন একটি ফুল ঝরে যাক, তা আমরা চাই না। দেশবাসীও চায় না।

জানা যায়, অপ্রাপ্ত বয়স হওয়া সত্ত্বেও বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে স্বর্ণা আক্তারকে (১৪) আল আমিনের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য নানাভাবে চাপ দিচ্ছিল আল আমিন ও তার পরিবারের সদস্যরা। চাহিদামত ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দিলেও আরও যৌতুক ও গহনার জন্য স্বর্ণাকে সাংসারিক, শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে বিষপানের নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বর্ণার পরিবারের।

নিহত স্বর্ণার বাবা হানিফ হাওলাদার জানান, আমার মেয়ের আসার কথা ছিল কিন্তু তারা আসতে দেয় নাই। আমি সারাদিন ধরে ফোন দিলেও কেউ ফোন ধরেনি। ঘটনার একদিন পর রাত আড়াইটা বাজে জামাই (আল আমিন) ফোন দিয়ে জানিয়েছে, ‘আপনার মেয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। ফরিদপুর মেডিকেলে আছে।’ আমার মেয়েকে ওরা হত্যা করেছে আমি এই হত্যার বিচার চাই।

নিহত স্বর্ণার কাকা মানিক হাওলাদার জানান, যদি স্বর্ণা বিষ খেয়েই মরতো তাহলে ওরা লাশ রেখে পালাল কেন? আমাদের জানাল না কেন? আমার ভাতিজিকে ওরা হত্যা করেছে। কারণ লাশের গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি এই ঘটনার উচিৎ বিচার চাই। এ বিষয়ে মামলার জন্য উকিলের সাথে পরামর্শ করা হচ্ছে, আমরা কোর্টে মামলা করব।

স্বর্ণার লাশ গোসল করিয়েছে আয়শা আক্তার ও নাসিমা। তারা জানান, সিনার উপর আঘাতের দাগ রয়েছে, পিঠের মধ্যে দাগ রয়েছে। এছাড়াও কোমরে দাগ রয়েছে। দাগগুলো নীল হয়ে ফুলে গেছে।

এ ঘটনার বিষয়ে ডিএম খালী ইউপির ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালাম হাওলাদার বলেন, মেয়েটাকে নিয়ে যে দ্বন্দ্ব আছে এটা আমি মাঝে মধ্যে অনুভব করতাম। তারা বলতে চাইত না, যেহেতু আমার অজান্তে বিয়ে দিয়েছে। না বলার কারণে আজকে যৌতুক দিতেছে, ভিতরে ভিতরে অনেক কিছুই দিয়েছে। মেয়েটাও আসলে অশান্তিতে ছিল। ওরা আত্মহত্যার জন্য বাধ্য করছে অথবা আত্মহত্যা করছে কি-না তাও আমরা জানি না। নাকি ওরা মারার পরে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে তাও জানি না। আমি অপরাধীদের ফাঁসি চাই।

‘জন্ম নিবন্ধন ওয়ার্ড মেম্বারের অগোচরে পেল কী করে’ এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার হোসেন জানান, পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে আমরা কঠিন ব্যবস্থা নেব।

আরও পড়ুন : শিক্ষককে জেলে পাঠিয়ে ফায়দা নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

উল্লেখ্য, স্বর্ণা আক্তার (১৪) ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরচান্দা হাওলাদার কান্দির হানিফ হাওলাদারের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে। আর আল আমিন (২৫) শরীয়তপুর পৌরসভা সংলগ্ন অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম আকনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার বাবার নাম হানিফ সরদার। স্থায়ী ঠিকানা ভেদরগঞ্জ বাংলাবাজার। আল-আমিন পেশায় প্রাইভেট কারের ড্রাইভার।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড