• বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জাল দলিলে অধিগ্রহণকৃত জমির বিল উত্তোলনের অভিযোগ

  মনিরুজ্জামান, নরসিংদী

১১ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৬
অধিগ্রহণকৃত জমির মালিক সেলিম (ছবি : দৈনিক অধিকার)

নরসিংদীতে সেলিম মিয়া নামক জনৈক ব্যক্তির পৈতৃক মালিকানাধীন জমির জাল দলিল তৈরি করে অলিউল্লা নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে জমি অধিগ্রহণের বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন আটপাইকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর জমির প্রকৃত বৈধ মালিক হিসেবে জেলা প্রশাসকর বরাবর লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেন সেলিম মিয়া। অভিযোগে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অলিউল্লা এ ঘটনা ঘটায় বলে উল্লেখ করা হয়।

সরজমিনে ঘটনাস্থল আটপাইকা গ্রামে গেলে ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া জানান, 'আটপাইকা মৌজায় এস.এ ও আর.এস- ২০২ খতিয়ানে এস.এ- ৪২১নং আর.এস- ৬৭০নং দাগের সম্পত্তিতে আমার দাদা ছমির উদ্দিন জোত স্বত্বে মালিক থেকে এক ছেলে তাইজ উদ্দিন ও দুই মেয়েকে ওয়ারিশ রেখে মৃত্যুবরণ করেন। ছমির উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ছেলে তাইজ উদ্দিন পৈত্রিক সূত্রে মালিক ও দখলকার থেকে মৃত্যুবরণ করলে সে মোতাবেক তিনি পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা প্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখল করে আসছেন। কিছুদিন পূর্বে জমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হলে সেখানে উপস্থিত হয়ে কর্মরত শ্রমিকদের বাধা দিলে শ্রমিকরা এ জমি সরকার অধিগ্রহণ করে নিয়েছেন বলে তাকে জানানো হয়। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক অফিসে যোগাযোগ করার কথা বলেন তারা। পরে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক অফিসের এল.এ শাখায় যোগাযোগ করলে সরকার এ জমি অধিগ্রহণ করে নিয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়াও ইতোমধ‍্যেই এর বিলও প্রদান করা হয়েছে এবং সেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে ও জানান তারা। এল.এ শাখার তথ্য মতে বিল উত্তোলনকারী নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন বালুচর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মহিষাশুড়া ইউপি সদস্য অলিউল্লা।

এল. এ শাখার জমির মালিকানা জানতে চাইলে সার্ভেয়ার তাকে জানান, ১০৪৮৫/৭৩ দলিলে ছমির উদ্দিন চাঁন মিয়াকে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে। বিল উত্তোলনকারী অলিউল্লা উক্ত চাঁন মিয়ার নিকট হতে বিলা এওয়াজ হেবা দলিল মূলে এর মালিকানা দেখিয়ে বিলের চেক গ্রহণ করেন। এ তথ্য পেয়ে সেলিম মিয়া নরসিংদী মহাফেজ খানা হতে ১০৪৮৫/৭৩ দলিলের অবিকল নকল সংগ্রহ করেন। যা নরসিংদী শহরের সড়ক ব্রাহ্মন্দী মৌজাস্থ। আর এ দলিলের গ্রহীতা আলী আকবর ভূঁইয়া, পিতা- দানিছ ভূঁইয়া। দাতা-শ্রী মন মোহন ভূঁইয়া, পিতা- কৃষ্ণ মোহন ভূঁইয়া। পরে এই নকল নিয়ে সেলিম মিয়া পুনরায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এল.এ শাখার স্বরনাপন্ন হয়ে নকলটি ওই শাখার কর্মকর্তাদের দেখান। অবিকল নকলে তার দাদা ছমির উদ্দিন কাউকে এই জমি দান করেননি। এ অবস্থায় তাদের করণীর বিষয়ে জানতে চাইলে ওই শাখার সার্ভেয়ার তাদেরকে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে সেলিম মিয়া বিল উত্তোলনকারী অলিউল্লার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ জমি কিনে নিয়েছে বলে জানান। জমি ক্রয়ের বিষয়টি তার কাছে জানতে চাইলে সে সাব রেজিস্টার, এসিল্যান্ড, নায়েবের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলেন তাদের। অবশেষে উপায়ান্তর না দেখে সেলিম মিয়া গত ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

সৃজনকৃত উক্ত ১০৪৮৫/৭৩ দলিলের দাতা চাঁন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে তার বাড়িতে গেলে তার বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ সময় তার খোঁজ নিতে এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানায়, চাঁন মিয়া ফকির মানুষ। মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়ায়। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি অনেক আগে বিক্রয় করে নিঃস্বত্ববান হয়েছেন সে।

ছমির উদ্দিন চাঁন মিয়াকে জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলাকাবাসী জানান, চাঁন মিয়াকে জমি দান করেছে বা ভোগ দখলে ছিল এই রকম তথ্য তাদের কারো জানা নাই। তাকে কোন দিন ওই জমি চাষ করতে ও দেখেননি তারা। চাঁন মিয়ার বিক্রি করার মত কোন সম্পত্তি ছিল না বলে ও জানান এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য অলিউল্লার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জমির কাগজপত্র দেখেই তিনি তা ক্রয় করেছেন। তবে জাল দলিল করার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

উল্লেখ্য যে, বিল উত্তোলনকারী অলিউল্লা দলিলে সরকারি কর ফাঁকি দিয়ে আত্মীয় সম্পর্ক না থাকলেও বিলা এওয়াজ হেবা দলিল করে। যা আইন বহির্ভূত। এর ফলে সরকারি স্বার্থ নষ্ট ও অধিক রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। অন্যদিক অধিকার বঞ্চিত হয়েছেন জমির প্রকৃত মালিকরাও।

এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের ন্যায্য পাওনা ফিরে পাওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী সেলিম মিয়া।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড