• বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হারিয়ে যাচ্ছে পিঁড়িতে বসে চুল-দাঁড়ি কামানোর সেলুন

  মিলন ইসলাম, বাসাইল (টাঙ্গাইল)

১০ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৪৪
পিঁড়িতে বসে চুল-দাঁড়ি কামানোর সেলুন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

মানুষ নিজেকে সুন্দর রাখতে কতোকিছুই না করে। সেই প্রাচীনকাল থেকে মানুষ নিজেকে অপরের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে আসছে। আর মানুষকে সুন্দর করে তোলা যাদের কাজ তাদেরকে বলা হয় নরসুন্দর। আমরা আঞ্চলিক ভাষায় বলে থাকি নাপিত বা শীল।

অনেক বছর আগের কথা, বিকালবেলা হাট বসতো। তখন বিভিন্ন হাট-বাজারে ১৫ থেকে ২০ কোথাও আরও বেশি নরসুন্দররা পিঁড়িতে বসিয়ে মানুষের চুল-দাঁড়ি কামিয়ে দিতেন। সকালবেলা শীলপাড়ায় থাকতো চুল-দাঁড়ি কামানোর জন্য মানুষজনের হিড়িক। তখন তারা নগদ টাকা নিতেন না। বিনিময়ে গ্রামের মানুষের কাছ থেকে পাটের মৌসুমে পাট এবং ধানের মৌসুমে ধান নিয়েই খুশি থাকতেন।

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে সরেজমিনে ঘুরে প্রথমে কাঁচাবাজারে দেখা মিলেনি মাইশীলের।

উপজেলার কাশিল যেতেই চোখে পড়ল চুলকাটার দৃশ্য। একটু কাছাকাছি গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম দাদা আপনার নাম কি? বললেন, নেপালশীল। বাড়ি বাসাইল উত্তরপাড়া। ৬০ বছরের বৃদ্ধ, প্রায় ৫০ বছর ধরে পিঁড়িতে বসিয়ে মানুষের চুল-দাঁড়ি কামানোর কাজ করছেন।

তিনি জানান, মানুষ এখন মাটিতে এভাবে বসে চুল-দাঁড়ি কাটাতে চায় না, কারণ সেলুনে চেয়ারে বসে কাটতে পারে। তারপরও দিন শেষে প্রায় ৫শ টাকা কামাতে পারি না এখন। বয়সের ভারে এখন আর তেমন কাজ করতে ইচ্ছে হয় না। শুধু ঐতিহ্যটাকে ধরে রেখেছি।

চুল-দাঁড়ি কাটতে আসা শুকুর মাহমুদ জানান, আমি ২০ বছর যাবৎ দাদার এখানে চুল-দাঁড়ি কামাতে আসি। চুল-দাঁড়ি কামাতে আমার বাবাও সকালবেলা নিয়ে যেতো শীলপাড়ায়। পিঁড়িতে বসে কাটানোর অভ্যাসটি হয়তো আর ছাড়তে পারবো না।

চুল-দাঁড়ি কাটাতে আসা আব্দুল করিম মিয়া জানান, ১৫-২০ বছর যাবৎ দাদার এখানে চুল-দাঁড়ি কাটাই। মাত্র ৩০ টাকা দিতে হয়। আধুনিক সেলুনে কাটালে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। আয়-রোজগার কম, তাই এখানে চুল-দাঁড়ি কাটাতে চলে আসি।

আরও পড়ুন : মার্চের মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মানুষের সৌন্দর্যের উপকরণ চুল-দাঁড়ি। একে আরও সুন্দর করার কৌশলগত কারণে শীলদের প্রয়োজনীয়তা ও কদর ফুরাবে না। কিন্তু হাটবাজারে সাজানো পিঁড়িতে বসে চুল-দাঁড়ি কাটার সেই দৃশ্য কালের বিবর্তনে হয়তো হারিয়েই যাবে।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড