• বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনায় জয়পুরহাটে বৃদ্ধি পেয়েছে ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীর হার

  আল মামুন, জয়পুরহাট

০৭ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৩৬
করোনায় জয়পুরহাটে বৃদ্ধি পেয়েছে ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীর হার
শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে (ছবি : অধিকার)

করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় জয়পুরহাটে বেড়েছে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর হার। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের ধারণা বেকারত্ব ও পারিবারিক দারিদ্রতাসহ নানা প্রতিকূলতার কারণেই এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেকে শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। আবার অনেক শিক্ষার্থীকে বাল্যবিবাহের শিকার হতে হয়েছে।

জয়পুরহাট শহরের পাচুঁর চক উচ্চবিদ্যালয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনার আগে ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির গড় হার ছিল ৯৮ শতাংশ। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানেই এখন উপস্থিতির হার নেমে এসেছে ৫৫ শতাংশে।

আরও জানা যায়, শুধু পাচুঁরচকই নয়, সদর উপজেলার কাশিয়াবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়, হেলাকুন্ডা উচ্চবিদ্যালয়, তাজপুর মডেল উচ্চবিদ্যালয়, শ্যামপুর উচ্চবিদ্যালয়, পাঁচবিবি উপজেলার জীবনপুর উচ্চবিদ্যালয়, একই উপজেলার নিলতা উচ্চবিদ্যালয়, কালাই উপজেলার শান্তিনগর উচ্চবিদ্যালয়, একই উপজেলার ইন্দাহার উচ্চবিদ্যালয়, ক্ষেতলাল উপজেলার নওটিকা কেশরত আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় আক্কেলপুর উপজেলার কানুপুর উচ্চবিদ্যালয়সহ জেলার ১৮টি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতির হার ৫৫ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে।

পাচুঁরচক উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তনিমা খাতুন ও সাদিয়া খাতুন তারা দৈনিক অধিকারকে জানান, করোনার আগে তারা ক্লাস করত ৩৪জন শিক্ষার্থী। বর্তমানের করোনার পরে প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর এখন তারা ক্লাস করছে মাত্র ১০-১২জন।

তারা আরও বলেন, তাদের ক্লাসের মুনিরা, কাজল ও মুনি খাতুনের বাল্যবিবাহ হয়েছে, সেই কারণে তারা আর ক্লাসে আসে না এবং পড়াশোনাও বাদ দিয়েছেন। এতোমধ্যে তাদের আরও কতজন বন্ধুও এখন বিভিন্ন কাজে লিপ্ত থাকায় তারাও আর ক্লাসে আসেন না।

কাশিয়াবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর দুজন শিক্ষার্থী জান্নাতুর ফেরদৌস ও শাকিলা খাতুন দৈনিক অধিকারকে জানায়, করোনার আগে তাদের ক্লাসে ১২জন ছাত্রী ছিল। এখন তাদের মধ্যে ক্লাস করছে মাত্র ৫জন ছাত্রী।

তারা বলেন, অনেকেই বাল্যবিবাহ হয়ে গেছে সেই কারণে তাদেরকে আর ক্লাসে দেখা যাচ্ছে না।

পাচুঁরচক উচ্চবিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের বাল্যবিবাহের প্রবণতা ছিল খুবই কম। কিন্তু দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাল্যবিবাহের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক হারে। তিনি আরও বলেন, আমরা যখন অভিভাবকদের কাছে খোঁজ নিতে যাই। তখন তারা বলেন, প্রতিষ্ঠান হয়তো আর খুলবে না। সেই কারণে তাদের মেয়েদের বিয়ে দিয়েছে। আবার কোনও কোনও অভিভাবকরা পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাদের সন্তানদের বিভিন্ন জায়গায় কাজে লাগিয়েছেন। বিশেষ করে এই করোনায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণেই বৃদ্ধি পেয়েছে ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীর হার।

কাশিয়াবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম জানান, করোনার আগে আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যে উৎসব মুখর পরিবেশ ছিল দীর্ঘদিন পর প্রতিষ্ঠান খোলার পরে সেটি আর দেখা যাচ্ছেনা। তার কারণ হল, অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বাল্যবিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু মেয়েরাই নয়, অনেক ছাত্রদের আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি তারা গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজে লেগেছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির গড় হার শতকরা ৫৫%দিকে নেমে এসেছে।

যার ফলে প্রতিষ্ঠানে যে একটা পড়াশোনার উৎসব মুখর পরিবেশ ছিল সেটি আর দেখা যাচ্ছে না। আবারও সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক জানান, করোনার পর উদ্বেগজনক হারে কমেছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার।

তিনি জানান, আমরা খোঁজ নিয়েছি প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানের ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীর হার অনেকাংশে বেড়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এর সংখ্যাটা বেশি।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা শিক্ষকদের মাধ্যমে যে সকল শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে তাদের একটা তালিকা তৈরি করা চেষ্টা করছি। কি কারণে তারা প্রতিষ্ঠানে আসছে না এবং কতজনের বাল্যবিয়ে হয়েছে আর কতজন শিক্ষার্থীরা শিশুশ্রমে নিয়োজিত রয়েছে তার একটা ডাটা পাওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। জয়পুরহাট জেলায় মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসা মিলে মোট ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার মধ্যে কলেজ ২৬টি, স্কুল ১৫৭টি ও মাদ্রাসা রয়েছে ১১২টি। বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম নিরসনে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন এমনই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

ওডি/এসএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড