• রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধামরাইয়ে উন্নয়ন ও ফলাফলে এগিয়ে যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজ

  মো. মনোয়ার হোসেন রুবেল, ধামরাই (ঢাকা)

০৬ অক্টোবর ২০২১, ১৩:২২
ধামরাই
(ছবি : অধিকার)

ঢাকার ধামরাইয়ে একেবারে উত্তর সীমানা কালিয়াকৈর থানার সন্নিকটে অবস্থিত যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজ। একেবারে অজু পাড়াগাঁয়ে হলেও কয়েক বছর ধরে অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার ক্ষেত্রে ধামরাই উপজেলার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে গ্রামের হত দরিদ্র ছেলে মেয়েদের মাঝে। আধুনিকতার সাথে সমানভাবে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে ঔই প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ধামরাই উপজেলার সর্ব উত্তরের এলাকায় যা কালিয়াকৈর ও মির্জাপুর উপজেলার প্রায় সন্নিকটে ধামরাই পৌরসভা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত যাদবপুর ভুবন মোহন স্কুল এন্ড কলেজ যা সংক্ষেপে বি এম স্কুল এন্ড কলেজ। ৫/৬ বছর আগেও একটি ১ তলা ছোট বিল্ডিং যা শিক্ষক মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহার করা হতো।আর দুটি পুরাতন টিনের ঘর ছিল। কিন্তু বর্তমানে ঔই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে যাদবপুর গ্রামের চেহারা যেন পাল্টে গেছে। আধুনিক ভবন,স্কুল ল্যাব, প্রতিষ্ঠানটির চারপাশে উচু প্রাচীর বেস্টিত একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বিদ্যালয়টির সংগ্রহে রাখা পুরাতন কাগজপত্র ঘাটলে দেখা যায়, যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজটি ধামরাই উপজেলার যাদবপুর, বাইশাকান্দা, বালিয়া ইউনিয়ন এবং গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ঢালজোড়া ইউনিয়ন ও টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের শিক্ষানুরাগী,গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলা ও আসাম রিজিউন সাবেক পি এম জি বাবু হেমন্ত কুমার রাহা তৎকালীন সময়ে ধামরাইয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের জন্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।১৯১৯ সালের ১ জানুয়ারি প্রথমে ১ম -৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়। পরে ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠানটি (এম. ই স্কুলে) ৮ম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়।

তিনি ১৯৩৬ সালে বিদ্যালয়টির নামে ১ একর ৪ শতাংশ জমি দান করে দিয়ে স্বর্গীয় পিতা ভুবন মোহন রাহার নামে ' যাদবপুর ভুবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়' নাম করণ করা হয়।১৯৫৭ সালে ৯ম ও ১০ শ্রেণির পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত হয় এবং ১৯৮৪ সালে এটি এমপিও ভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী শুভাকাঙ্ক্ষীদের আন্তরিকতার কারণে এতদূর এগিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

তবে গত কয়েক বছর ধরে অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষা বিস্তার এবং স্কুলের ফলাফলের দিক থেকে অনন্য ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার। তিনি ২০১৫ সালের ৬ আগষ্ট বিদ্যালয়ে যোগদান করে বর্তমান সময়েও দ্বায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।দ্বায়িত্ব গ্রহণের পরেই ২০১৬ সালে তিনি ভোকেশনাল শাখায় পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত হন।একই বছর শিক্ষকদের মূল ভবন ১ তলা থেকে পাঠদানের জন্য তিল তলায় রুপান্তরিত করতে সক্ষম হয়ে থাকেন।

প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে।প্রতিষ্ঠানের নিজ অর্থায়নে ৮৮ লক্ষ টাকা খরচ করে এটিকে মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে রুপান্তরিত করেন ২০১৮ সালে।যার কলেজ কোড-১৯৩৮। ২০১৮-১৯ শিক্ষা বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পান।বর্তমানে সরকারি অনুদানে ৪ তলা ভবনের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। প্রতিষ্ঠানের নিজ অর্থায়নে প্রায় দের কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জানা যায়, প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার ও প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় ২০১৬ সালে জেএসসি ও এসএসসি পরিক্ষার কেন্দ্র স্থাপিত হয় যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজ এ।এতে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় প্রধান শিক্ষককে।

বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল শাখায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯ শত জন শিক্ষার্থী।যার মধ্যে ছেলে প্রায় ৯ শত জন এবং মেয়ে প্রায় ১ হাজার জন এবং কলেজ শাখায় রয়েছে ২২০ জন শিক্ষার্থী।যার মধ্যে মানবিক শাখায় ৫২ জন, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১৫২ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ১৬ জন। ধামরাই উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে এখানে।

তবে অবাক কান্ড প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে হলেও যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজ এ পাশের হার প্রায় শতভাগ।

২০১৫ সালে এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ জন ও জেএসসি পরীক্ষায় ১২ জন ।২০১৬ সালে প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার যোগদান করার পরে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল উন্নতির দিকে ধাবিত হতে থাকে।২০১৬ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৪ জন ও জেএসসিতে ৫২ জন, ২০১৭ সালে এসএসসিতে ২৬ জন ও জেএসসিতে ১৯৯ জন, ২০১৮ সালে এসএসসিতে ৪২জন ও জেএসসিতে ৯৯ জন এবং ২০১৯ সালে এসএসসিতে ৫২ জন ও জেএসসিতে ৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে।তবে পাশের হার প্রতিবারই শতভাগ ছিল।

বর্তমানে আলী হায়দার প্রধান শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সচিবের দ্বায়িত্ব পালন করছেন এবং আকলিমা আক্তার স্কুল শাখায় সহকারি প্রধান শিক্ষিকার দ্বায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধান শিক্ষক আলী হায়দারের নেতৃত্বে স্কুলের বেদখলি জমি উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল খেলার মাঠ তৈরি করেন।প্রতিষ্ঠানের চতুর্দিকে গড়ে তুলেছেন বিশাল সীমানা প্রাচীর ও প্রধান ফটক।

সবুজ নিসর্গের সঙ্গে সমন্বিত সুরম্য ভবন, সু-বিশাল খেলার মাঠ মনে কেবল ভাবই ধরে না, মনে ঔদার্যও বাড়িয়ে দেয়। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, ছাত্র শিক্ষক অভিভাবক সম্পর্ক, পাঠদান কার্যক্রম সব মিলিয়ে একটি নাম ' যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজ।

এ বিষয়ে যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ আলী হায়দার বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য, বীরমুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ব, আধুনিক পাঠাগার,কম্পিউটার ল্যাব, ফুলের বাগানসহ অনেক কাজ।একটু সময় লাগবে। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হলেও এক সময় এটি ঢাকা জেলার মধ্যে একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড