• বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নালায় ডুবে ঝরছে প্রাণ, দায় এড়াতে ব্যস্ত সিডিএ-চসিক

  কাজী হুমায়ুন কবির, বিভাগীয় প্রধান, চট্টগ্রাম

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৩৬
নালা
নালায় ডুবে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও দায় এড়াতে ব্যস্ত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশন। ছবি : অধিকার

মানুষের জন্য উন্নয়নের অবকাঠামো ও পরিকল্পিত একটি সুন্দর শহর চট্টগ্রাম। তবে সেই মানুষই যদি সুন্দর শহরটি না দেখে উল্টো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তবে তা দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছু নয়। উন্নয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের অসাবধানতা ও অবহেলায় যদি বলি হতে হয় সাধারণ জনগণকে তবে এর দায় কে নেবে?

চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও নগরীর খাল-নালাগুলো উন্মুক্ত ও অরক্ষিত থাকায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। নগরীর খাল-নালাগুলো ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় এসব খাল-নালা একাকার হয়ে যায়। এরমধ্যে বহু খালই আবার দখলবাজিতে ভরাট হয়ে হারিয়ে গেছে। যে কয়েকটা খাল-নালা আছে সেগুলোর দুইপাশ হয়ে গেছে সংকীর্ণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় সড়কের পথ ও খাল বুঝা মুশকিল পথচারীদের। যার ফলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লেই মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা যেন কাটে না।

গত ৩০ জুন নগরীর চশমা খালে যাত্রীবোঝাই সিএনজি অটোরিকশা পড়ে চালক সুলতান ও যাত্রী খাদিজা বেগম নিহত হয়। এরপর গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুর মোড়ে নালায় পড়ে সবজি ব্যবসায়ী সালেহ আহমদের নিখোঁজ হওয়ার এক মাস হলেও এখনো তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে আগ্রাবাদে নালায় পড়ে নিহত হন চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) ছাত্রী সাদিয়া।

এর আগে মোহাম্মদ আলী রোডে নালায় পড়ে মারা গিয়েছিলেন এক পথচারী। এ ছাড়া গত বছর হালিশহর ইসলামিয়া ব্রিক ফিল্ড এলাকায় মহেশখালে পড়ে দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়। পরপর মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় নগরবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। অনেকেই বলছেন, এটা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের বড় ব্যর্থতার কারণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের একজন বাসিন্দা বলেন, সংশ্লিষ্টরা শহরকে এখনো নিরাপদ শহরে পরিণত না করায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর দায় এড়াতে পারেন না। যেভাবে একের পর এক নালায় পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তাতে এরপর কার কপালে এই দুর্ভাগ্য জুটবে- তা নিয়ে ভাবছি। কেউ কেউ বলছেন- পৃথিবীর কোনো বাসযোগ্য শহরে এভাবে নালায় পড়ে একের পর এক মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।

এ দিকে, হামিদ নামে এক পথচারী প্রশ্ন রেখে বলেন, এভাবে তরতাজা মানুষ নালায় পড়ছে, মরে যাচ্ছে। আর কত প্রাণ গেলে কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে?

অন্যদিকে, সালেহ আহমদ নালায় পড়ে নিখোঁজ হওয়ার পর সিটি করপোরেশন ও সিডিএ সিদ্ধান্তে উঠে এসেছিল নগরীর খোলা খাল ও নালা স্লাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে। কিন্তু গত এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও নগরীর অন্যান্য স্থান তো দূরের কথা মুরাদপুরের সেই দুর্ঘটনাস্থলেও ব্যারিয়ার নির্মিত হয়নি। উল্টো স্থানটিকে শুধু রশি দিয়ে ঘিরে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। আর স্লাব বসানোর কাজও শুরু হয়নি।

এসব ঘটনার দায় এড়ানোই যেন এখন মুখ্য বিষয়! দুর্ঘটনাস্থলে নালার মুখে নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকার জন্য সিডিএকেই দুষছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলছেন, ‘দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের যে কাজ চলছে, এর মেইনটেন্যান্স থেকে শুরু করে সমস্তকিছু চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সিটি করপোরেশনের করা রেলিং ছিল নালার উপরে, স্লাব ছিল। সিডিএ কাজ করতে গিয়ে তা নষ্ট করে ফেলেছে। এখানে এখন বড় বড় গর্ত হয়েছে। পানিতে রাস্তা এবং নালা এক হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, খুঁটি গেড়ে, লাল পতাকা টানিয়ে দিলেও মানুষ সতর্ক হতে পারত। এখানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ যারা করছে, তাদের অবহেলা আছে। তাছাড়া ফুটপাত ছিল ৬ ফুটের মতো, কিন্তু কেটে সিডিএ আড়াই ফুট থেকে দুই ফুট করে ফেলেছে। সিডিএর সাথে কথা হয়েছে, কিন্তু তারা কথা অনুযায়ী কাজ করছে না। দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে।

এ দিকে, বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় দুর্বিষহ অবস্থা হয় নগরের। দুর্ঘটনাসহ প্রাণহানি যেন মামুলি ব্যাপার। মানুষ কাঙ্ক্ষিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত স্থানে যেতে পারছে না। জনগণ কার বলি?

আরও পড়ুন : ধান কাটা মেশিন প্রদানে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

এ ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এই সংস্থাটির চেয়ারম্যান বা পদস্থ কর্মকর্তারা কখনো মুখ খুললেও তারাও বিভিন্ন ঘটনার দায় সিটি করপোরেশনের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেরা দায় সারেন।

চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন পাল্টাপাল্টি দোষারোপ আর দায় এড়ানোর খেলায় নালার মুখ সুরক্ষিত করার বিষয়টি যদি অবহেলায় থেকে যায়, তবে নগরে জলাবদ্ধতা ও নানা দুর্ভোগ শেষ হবে না বলে দাবি নাগরিকদের।

ওডি/নিলয়

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড