• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এক মাদ্রাসায় দুই সুপার, শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ

  সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৩
ছবি : দৈনিক অধিকার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নলকা হেম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দুজন শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত সুপারের দাবি করায় মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পড়েছে প্রশাসন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত সুপার দাবি করায় সহকারী সুপার খাইরুল ইসলামকে চাকরি থেকে অপসারণ দাবি করেছে ছাত্র অভিভাবক ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

সরেজমিন মাদ্রাসা গিয়ে জানা যায়, মো. খাইরুল ইসলাম ২০১৮ ইং সালে মাদরাসায় সহকারী সুপার পদে যোগদান করেন। গত ১৪ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মাদরাসার সুপার জনাব আব্দুল হাই আল-হাদী সাহেব অন্যত্র চাকরি গ্রহণ করায় সুপার পদটি শূন্য হয়। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি বিধি মোতাবেক খাইরুল ইসলামকে পদাধীকার বলে ভারপ্রাপ্ত সুপার নিয়োগ প্রদান করেন।

ভারপ্রাপ্ত সুপার খাইরুল ইসলাম গত ৬ মে ২০২১তারিখে সুপার পদের জন্য জাতীয় ও দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। গত ২০ মে ২০২১ ভারপ্রাপ্ত সুপার খায়রুল ইসলাম সুপার পদে নিয়োগ লাভের জন্য ভারপ্রাপ্ত সুপার পদ হতে সভাপতি বরাবর ইস্তোফা প্রদান করেন এবং সুপার পদে আবেদন করেন। পদটি শূন্য হওয়ায় গত ২২ মে ২০২১ তারিখে ম্যানেজিং কমিটি সভা আহবান করেন। বিধিমোতাবেক পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করে সুপার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শিক্ষক আবু বক্কার সিদ্দিককে ভারপ্রাপ্ত সুপার নিয়োগ প্রদান করা হয়।

এরপর নতুন ভারপ্রাপ্ত সুপার আবু বক্কার সিদ্দিক সুপার পদে প্রার্থীদের আবেদন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সভাপতি এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে আবেদন যাচাই বাছাই করেন। সুপার নিয়োগের লক্ষ্যে ডিজির প্রতিনিধি চেয়ে শিক্ষা বোর্ড বরাবর আবেদন করা হয়। এ সময় বোর্ড কর্তৃপক্ষ আগের সুপারের এমপিও তালিকা হতে নাম কর্তন না হওয়া পর্যন্ত সুপার নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে জুনের এমপিও তালিকা হতে সাবেক সুপারের নাম কর্তন হয়।

এমপিও তালিকা হতে সাবেক সুপারের নাম কর্তন হলেও গত ০৪/০৭/২০২১ ইং তারিখে ম্যানেজিং কমিটি মেয়াদ শেষ হয়ে যায় । গত ০৫/০৭/২০২১ ইং তারিখে ভারপ্রাপ্ত সুপারকে এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাংক ড্রাফটসহ আবেদন দাখিল করলে ১২/০৭/২০২১ ইং তারিখে এডহক কমিটি গঠনের অনুমোদন প্রদান করা হয়। এডহক কমিটিতে ১ জন অভিভাবক সদস্য নিয়োগ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। একজন শিক্ষিক প্রতিনিধির জন্য জেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করলে করোনার প্রকোপ বেশী হওয়ায় অফিস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরমধ্যেই শুরু হয় ভারপ্রাপ্ত সুপার পদ হতে পদত্যাগকারী এবং সুপার পদে আবেদনকারী সহ সুপার খায়রুল ইসলাম এর নানা ষড়যন্ত্র।

অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই গত ০৯/০৮/২০২১ ইং তারিখে সহকারী সুপার খাইরুল ইসলাম মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড নিজে ভারপ্রাপ্ত সুপার দেখিয়ে এডহক কমিটি অনুমোদনের তারিখ গ্রহণ করেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসে মিথ্যা তথ্য প্রদান পূর্বক অভিভাবক সদস্য গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয় জেলা শিক্ষা অফিসে শিক্ষক প্রতিনিধি জন্য আবেদন করেন। এ সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি ধরে ফেলেন এক প্রতিষ্ঠান দুজন ভারপ্রাপ্ত সুপার হয় কিভাবে। জরুরী ভিত্তিতে ঘটনা তদন্তে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। চতুরসহ সুপার খাইরুল ইসলাম এখানেই খ্যান্ত হয়নি। তার ভারপ্রাপ্ত সুপার পদটি ফিরে পেতে তিনি উচ্চ আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

সহকারী সুপার খাইরুল তার হীন স্বার্থ হাসিলের জন্য বিধি বহির্ভূত ভাবে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপারকে বিভিন্ন মাধ্যমে পদত্যাগ ও শারীরিক মানসিকভাবে শায়েস্তা করার জন্য হুমকি প্রদান করছেন। গত ০৭/০৯/২০২১ ইং তারিখে ভারপ্রাপ্ত সুপার বেতন বিলে স্বাক্ষর করতে গেলে সহকারী সুপার ও তার সন্ত্রাসী দ্বারা অপমান অপদস্থ হয়। এই ঘটনায় গত ০৯/০৯/২০২১ ইং তারিখে মাদ্রাসায় জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অত্র এলাকার শিক্ষানুরাগী সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছাত্র অভিভাবক খাইরুল ইসলাম উপস্থিত থাকেন। সভায় সহকারী সুপার তার কার্যকলাপে সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে উপস্থিত সকলের নিকট দুহাত তুলে করজোরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আবু বক্কার সিদ্দিক জানান, সহকারী সুপার তার নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং মাদ্রাসার সকল কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। মাদ্রাসার সভাপতি আবু বক্কার সিদ্দিক জানান, বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনা তদন্তে উভয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ জানান, একটি প্রতিষ্ঠানে দুজন ভারপ্রাপ্ত সুপার থাকতে পারে না। তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড