• রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ভাইকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর

  রুম্মান হাওলাদার, পিরোজপুর

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫২
পিরোজপুর
গ্রেফতারকৃত দুই ভাই (ছবি : দৈনিক অধিকার)

অভিনব কৌশলে ফাঁদ পেতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া পিরোজপুরকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসান ও তার ভাই বাশারকে র‌্যাবের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে পিরোজপুরে সদর থানা পুলিশ। এর আগে এ সহোদর দুই ভাই বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার একটি বাসায় র‍্যাবর হাতে গ্রেফতার হন। পিরোজপুরে নিয়ে আসার পর একই সাথে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। রাগীব ও তার অপর তিন ভাই বর্তমানে পিরোজপুর কারাগারে আছেন। রবিবার আদালতে তাদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. মাসুদুজ্জামান জানান, প্রতারণা ও জালিয়াতি করে গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাগীব আহসান ও তার ভাই আবুল বাশার খানকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। ও একই দিনে পিরোজপুর সদর থানার পুলিশ রাগীবের অপর দুই ভাই মাহমুদুল হাসান ও খায়রুল ইসলামকে পিরোজপুরের খলিশাখালী গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে। তারা দু’জনই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সদস্য। তাদের মধ্যে মাহমুদুল পিরোজপুর বাজার মসজিদের ইমামের দায়িত্বও পালন করছিলেন। ঢাকায় গ্রেফতারকৃত রাগীব আহসান ও তার ভাই বাশারকে র‍্যাবের কাছ থেকে গ্রহণ করার পর আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাগীবের বাবা মাওলানা আব্দুর রব, শ্বশুর শাহ আলমসহ তাদের পরিবার জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। এছাড়া বিগত দিনে এহসান গ্রুপ তথা মাওলানা রাগীব আহসানের কাছ থেকে নানাবিধ সুযোগ সুবিধা নিয়ে প্রশ্রয় দিয়েছেন পিরোজপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী মহল এবং জেলার বিভিন্ন দফতরের সাবেক কিছু কতিপয় কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, খলিশা গ্রামে একটি মাল্টা চাষ করা প্রকল্পের জনৈক ব্যবসায়ী হুমায়ুন আহম্মেদের সাথে একসময় মাওলানা রাগীরের সুসম্পর্ক ছিল। হুমায়ুনের সাথে নানান ব্যবসায়িক সম্পর্কও তৈরি হয় মাওলানা রাগীবের। সেই সুযোগে হুমায়ুন আহম্মেদের মাধ্যমে সে সময় জেলা প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে মাওলানা রাগীব। পরে উক্ত হুমায়ুনের সাথে মাওলানা রাগীবের দ্বন্দ্ব দেখা দিলে হুমায়ুন প্রতারণার মামলা করেন রাগীবের বিরুদ্ধে।

পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এহসান গ্রুপের নামে লক্ষাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে এককালীন এবং মাসিক কিস্তিতে আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে। এক লাখ টাকায় দুই হাজার টাকা করে মাসিক মুনাফা দেওয়ার নামে আমানত নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, রাগীব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ সংগ্রহ করে নামে-বেনামে সম্পত্তি ও জমি কিনেছেন। দেখা গেছে, তার শ্বশুর প্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি, বাবা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা, ভগ্নিপতি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার। এ ছাড়া তার তিন ভাইও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন।

মাওলানা রাগীব আহসান গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ দিয়ে ১৭টি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে সেসব প্রতিষ্ঠানের নামেও প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেন।

সেগুলো হলো- এহ্সান গ্রুপ বাংলাদেশ, এহ্সান পিরোজপুর বাংলাদেশ (পাবলিক) লিমিটেড, এহ্সান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড, নূর-ই মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি, জামিয়া আরাবিয়া নূরজাহান মহিলা মাদ্রাসা, হোটেল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক), আল্লাহর দান বস্ত্রালয়, পিরোজপুর বস্ত্রালয়-১ ও ২, এহ্সান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডিং অ্যান্ড কোং, মেসার্স মক্কা এন্টারপ্রাইজ, এহ্সান মাইক অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম, এহ্সান ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস, ইসলাম নিবাস প্রজেক্ট, এহ্সান পিরোজপুর হাসপাতাল, এহ্সান পিরোজপুর গবেষণাগার ও এহ্সান পিরোজপুর বৃদ্ধাশ্রম।

আরও পড়ুন : লকডাউনের ফাঁদে বাল্যবিয়ের শিকার কন্যা শিশুরা

ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নামে-বেনামে সম্পত্তি ও জমি কিনেছেন।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড