• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চট্টগ্রামে ফ্ল্যাট কিনে প্রতারিত মালিকরা, ডেভেলপার বলছে ষড়যন্ত্র

  কাজী হুমায়ুন কবির, বিভাগীয় প্রধান, চট্টগ্রাম

১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:২৩
নির্মাণাধীণ বিল্ডিং
নির্মাণাধীণ বিল্ডিং। ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের বায়েজীদ থানাধীন রূপাবাদ এলাকায় শাহ আমানত টাওয়ারের নির্মাণকারী ডেভেলপার আহমদ কবিরের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট মালিকদের প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। কষ্টে অর্জিত টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনে অর্থ নষ্ট, হয়রানি আর অসম্মান কিনেছেন বলে দাবি করেছেন তারা।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট রাশেদা বেগম থেকে পাঁচলাইশ মৌজার আন্দর ১২০৭৫ নম্বর চুক্তিনামা মুলে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ও একই তারিখের ১২০৭৬ নম্বর আমমোক্তারমূলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে তফশিলোক্ত সম্পত্তি উন্নয়নপূর্বক জমিতে শাহ আমানত টাওয়ার নামে ৯ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ করেন ডেভেলপার আহমদ কবির।

বিভিন্ন আয়তনের ৪০টি ইউনিটের ফ্ল্যাটের মধ্যে প্রায় ২৯টি ফ্ল্যাট পৃথক রেজিস্টার্ড দলিল মূলে বিভিন্ন দামে আগ্রহী ফ্ল্যাট মালিকদের কাছে বিক্রয় করেন তিনি। ফ্ল্যাট মালিকদের কেউ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক, কেউবা ইঞ্জিনিয়ার আবার কেউ ব্যাংকে চাকরি বা ব্যবসায়ী। তবে ফ্ল্যাট কিনে শান্তিতে নেই ফ্ল্যাট মালিকরা।

শাহ আমানত টাওয়ার এপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাজিমুদ্দিন ক্ষোভের সাথে বলেন, পরিবারের মাথা গুজার ঠাঁইয়ের জন্য ফ্ল্যাট কিনেছি। সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের পর ফ্ল্যাট বুঝে নিতে গিয়ে দেখি টাওয়ারের সকল কাজ অসম্পূর্ণ। নিজেদের থাকবার প্রয়োজনে আমরা তাকে চুক্তির বাইরে আর্থিক সহযোগিতা করে লিফট, সিঁড়ি, জেনারেটর স্থাপন করি। কিন্তু বুসিয়ার আর চুক্তি অনুযায়ী ডেভেলপার বরাবরই আমাদের ঠকিয়েছে। এমনকি তার নিজের ঠকানোকে টেকেল দেওয়ার জন্য বিভিন্ন নাটক সাজিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন ও মামলা মোকদ্দমা করে যাচ্ছে। সে এমন প্রতারণা করবে জানলে আমরা নিজের সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এখানে ফ্ল্যাট নিতাম না।

তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা দিয়েও আমরা হয়রানির স্বীকার হচ্ছি। সে আমাদের সাথে শুরু থেকেই চিট করেছে। টাওয়ারের ভেতরে পার্কিং স্পেসের জায়গা দিয়ে পাশের জমিতে যাওয়ার জন্য জমির মালিকের সাথে ১৫ ফিট রাস্তা দেওয়ার চুক্তি রয়েছে তা আমাদের কাছে গোপন রেখেছে। তাদের প্রত্যেককে দলিল মূলে ২১টি আলাদা পার্কিং স্পেস দেওয়ার চুক্তি অনুযায়ী ৩ লাখ টাকা করে ডেভেলপার কবির নিলেও টাওয়ারের ভেতর দিয়ে পাশের বিল্ডিং যাওয়ার ড্রাইভ ওয়ে বা ১৫ ফিট রাস্তা বাদ দেওয়ায় সেখানে আছে শুধু ৮টি পার্কিং স্পেস। তার মধ্যে ৩টি পার্কিং স্পেসই জায়গার মালিকের। বাকী ১৩টি পার্কিং স্পেস না থাকায় ১৩টি ফ্ল্যাট মালিকরা ডেভেলপারের কাছে ৩৯ লাখ টাকা ফেরত চাইলে তিনি আজ ফেরত দেবেন, কাল দেবেন বলে স্বীকার করেও এখন না দেওয়ার নানা ফন্দি আঁটছেন। তাছাড়া ১ হাজার ৪৫০ বর্গফুটের কমিউনিটি হল, বাউন্ডারি ওয়ালের ওপর সেফটি গ্রিল, ইন্টারকম সিস্টেম, সিঁড়ির এস এস রেলিং, ভবনের অভ্যন্তরে কমন স্পেসে ও বয়ডের রঙের কাজ, বাউন্ডারি ওয়ালের বাইরের অংশের প্লাস্টার, ভবনের নামফলক, ইলেকট্রিক কেবল সেইফটি বক্স করার চুক্তি থাকলেও তা না করেই উল্টা হয়রানি করছেন ডেভেলপার আহমদ কবির।

অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুরুল আলম মজুমদার বলেন, আহম্মদ কবির আমাদের সাথে শুধু প্রতারণাই করেনি, আমাদের মান-সম্মান নিয়েও ছিনিমিনি খেলার পায়তারা করছে। আমাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনে যেন আযাব কিনে নিয়েছি। সে ফ্ল্যাট সম্পূর্ণ বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আমাদের টাকায় ঘরের দরজা-জানালা, ইন্টারনাল পেইন্টিং, ইলেকট্রিক ফিটিংস, স্যানিটারি ফিটিংস, কিচেন ফিটিংস স্থাপন করি। শুধু তাই নয়, জেনারেটর বসানোতেও আমরা তাকে ৪০ জন ফ্ল্যাট মালিক অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা করে ৮ লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করি। সে আমাদের পার্কিং স্পেসের টাকা ফেরত ও টাওয়ারের বাকি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করে দেবেন বলে এখনো করে না দিয়ে উল্টো আমাদের হয়রানি করছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৭ জুন সে কয়েকজন সন্ত্রাসী নিয়ে এসেছিল আমাদের সাধারণ সম্পাদককে অপহরণ করতে। আমাদের সচেতনতার কারণে না পেরে সিসি ক্যামেরার ডিভিআর চুরি করে নিয়ে যায়। অপহরণ ও চুরির ঘটনায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম কামাল সাহেব বাদী হয়ে গত ২৯ জুন, ২০২১ তারিখে একটি মামলা করেন।

এ দিকে, ডেভেলপার আহমদ কবিরের কাছে ফ্ল্যাট মালিকদের সাথে চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। টাওয়ারে লাখ খানিক টাকার কাজ ছাড়া সব আমি করে দিয়েছি। টাওয়ারের ভেতর দিয়ে ১৫ ফিট রাস্তা থাকলেও পার্কিং স্পেস ২১টাই আছে। তাই পার্কিং স্পেসের জন্য টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। আর কমিউনিটি হল আমার করার কথা নয়।

আরও পড়ুন : গাজীপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

ডেভেলপার আহমদ কবির দাবি করেন, তারা তাদের প্রয়োজনে কমিউনিটি হল করবে বলে বিষয়টি স্যাটেল। আর বাকি যে সামান্য কাজ আছে তা আমি পর্যায়ক্রমে করে দেব বলেছি। তারপরেও এরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত ২৭ জুন, ২০২১ তারিখে আমি আমার ফ্ল্যাটে গেলে তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চড়াও হয়ে সন্ত্রাসী হামলা করে। এ নিয়ে গত ২৩ আগস্ট, ২০২১ তারিখে ২১ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন বলেও দাবি করেন ডেভেলপার আহমদ কবির।

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড