• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৯ দিনেও ফেরত আসেনি দুই বাংলাদেশির লাশ

  সুমন খান, লালমনিরহাট

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪৯
রংপুর
(ছবি : সংগৃহীত)

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ গত ৯ দিনেও ফেরত পায়নি পরিবার। সীমান্তে নিহত ছেলের মুখ এক নজর দেখার জন্য পরিবার ও স্বজনদের দিনের পর দিন চলছে কান্না আর আহাজারি। প্রতিদিন সকাল থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত লাশ পাওয়ার খবরের আশায় থাকে পরিবার। নিহত দুই ব্যক্তির পরিবারে সাথে কথা বলে এসব জানা গেছে।

রবিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে বুড়িমারী সীমান্তে নিকট দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় গরু নিয়ে ফেরার সময় ভারতীয় ১৪৮ রাণীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়ন ও জলপাইগুড়ি সেক্টরের চ্যাংরাবান্ধা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে বুড়িমারী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বুলবুল হোসেনের ছেলে ইউনুছ আলী (২৭) ও নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ধনবার রায়ের ছেলে জগন্নাথ রায় সাগর (৩৮) নিহত হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভারতের জলপাইগুড়ি সেক্টরের বিএসএফ ও মেখলিগঞ্জ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। পরে মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট লাশ হস্তান্তর করে বিএসএফ। নিহতদের লাশ ময়না তদন্ত শেষে ভারতের মাথাভাঙ্গা হিম ঘরে রাখা হয়েছে। নিহতের লাশ ফেরত চেয়ে দুই পরিবার স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে আবেদন জানায়। লাশ ফেরতের ব্যাপারে বিজিবি স্পষ্ট করে কিছু না বলায় নিহতদের স্বজনেরা লাশের দাবিতে গত ৩১ আগস্ট দুপুরে প্রায় ৩০ মিনিট বুড়িমারী স্থলবন্দর বিজিবি তল্লাশি চৌকি অবরোধ করে রাখে। পরে দুই দফায় পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদেরকে সরিয়ে দেয়। সন্তানকে হারিয়ে উভয় পরিবারের সকলে শোকে কাতর হয়ে লাশ পাওয়ার প্রতীক্ষায় রয়েছে। এর আগে গত ২৯ জুন ভোরে একই উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের পূর্ব জগতবেড় গ্রাম সীমান্তের পিলারের নিকট দিয়ে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারায় রিফাত হোসেন (৩২) নামে এক যুবক।

নিহত রিফাতের বাড়ি উপজেলার মুন্সিরহাট মোহাম্মদপুর গ্রামে। নিহতের পিতা ইসমাইল হোসেন ও এলাকার ইউপি সদস্য রবিউল ইসলামসহ লাশের জন্য কয়েক দফা শমসের নগর বিজিবি, স্থানীয় সাংসদ সদস্যের কাছে গিয়েও আজ অবধি লাশ ফেরত পায়নি।

উভয় ঘটনায় বিজিবি- বিএসএফ সীমান্তে পতাকা বৈঠক করলেও লাশ ফেরতের ব্যাপারে কোনো কিছুই বলেনি বিজিবি। সীমান্তের একটি সূত্রের ভাষ্যমতে নিহত তিন বাংলাদেশির লাশ ভারতের মাথাভাঙ্গা হাসপাতাল মর্গের হিম ঘরে রাখা আছে।

নিহত ইউনুস আলীর পিতা বুলবুল আহম্মেদ বলেন, সন্তান হারানোর ব্যথা নিয়ে অনেকের কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার দাবি সীমান্তে নিহত ছেলের মুখ এক নজর দেখে দেশে যেন কবর দিতে পারি সে ব্যবস্থাটা যেন মাননীয় মন্ত্রী করে দেন।

ইউনুসের স্ত্রী (২৪) আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ৫ বছরের একমাত্র সন্তান আলিফ বাবু সারাদিন তার বাবার জন্য কাঁদে। বলে বাবা কেন আসে না। আমি বাবাকে দেখব। কি করি সারাদিন চোখের পানি ঝরে। আমাদের জন্য কি কারও কিছু করার নেই?’

জগন্নাথ রায় সাগরের পিতা ধনবর রায় বলেন, ছেলের মুখ দেখতে অস্থির হয়ে আছি। ৪- ৫ দিন জলঢাকা থেকে বুড়িমারী গেলাম কেউ আমাদের কথা শোনে না।

আমি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতসহ বুড়িমারী বিজিবি কোম্পানি কমান্ডারকে সীমান্তে আমার ছেলে হত্যা ও লাশ নেওয়ার জন্য ২৯ আগস্ট রবিবার আবেদন দিতে যাই। তিনি নেননি। পরদিন সোমবার (৩০ আগস্ট) বিকালে আবেদন নেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আছি ত্বে লাশ পাব কি না এ ব্যাপারে কথা বললে তারা (বিজিবি) বলেন, উপর থেকে আদেশ না হলে কিছু বলতে পারবে না। লাশের জন্য আমাদের আত্মীয়রাসহ বুড়িমারী স্থলবন্দর বিজিবি চেকপোস্টে অবস্থা নেই। দাঁড়িয়ে থাকি। পরে পুলিশ আমাদেরকে সরিয়ে দেয়।

সাগরের স্ত্রী শ্যামলী রানী বলেন, ‘মৃত স্বামীর মুখ দেখতে চাই। কার কাছে গেলে লাশটা ফেরত পাব। আমাদের আফসোসের শেষ নেই।’

বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত বলেন, বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে কথা বলেছি। বিজিবি বলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আদেশ দেয়নি। এজন্য লাশ পাওয়ার বিষয় সঠিক বলা যাচ্ছে না।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৬১ (বিজিবি) বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার বেলাল হোসেন বলেন, ‘লাশ ফেরতের ফাংশন শেষ। এগুলো নিয়ে আমরা আর কিছু বলতে বা করতে চাইনা। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।

আরও পড়ুন : ৪ দিনেও দুই বাংলাদেশীর লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ

এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৬১ (বিজিবি) রংপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর হাসান শাহরিয়ার মাহমুদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড