• বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে জামালপুরের আইরমারী খান গ্রাম!

  তানভীর হীরা ও লালন, জামালপুর

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৫৭
নদী ভাঙন
নদী ভাঙনে বিলীনের পথে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইরমারী খান গ্রাম। ছবি : দৈনিক অধিকার

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় বছরের পর বছর দশানী নদী ভাঙনের কারণে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইরমারী খান গ্রাম। তীব্র ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পরেছে এই গ্রাম। গত পাঁচ বছরে প্রায় ৫ শতাধিক বসত ভিটা-ফসলের মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইরমারী খান গ্রামের বুক চিরে বয়ে গেছে দশানী নদী। নদীর করাল গ্রাসে প্রতি বছরই ভাঙন দেখা দেয় এই গ্রামে। শুধু খানপাড়া গ্রামই নয় পার্শ্ববর্তী আইরমারী ও খেওয়ারচর গ্রামেও নদী ভাঙন দেখা গেছে।

আইরমারী খানপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম আসাদুজ্জামান খান খোকা দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমার বাড়ি-ঘর ৪ বার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এবারও দশানীর পেটে গেছে আমার ভিটে-মাটি। আমি এখন বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নুতন ঠিকানা খুঁজে বেড়াচ্ছি।’

এ দিকে, স্থানীয়দের দাবি- ভাঙন অব্যাহত থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে খানপাড়া গ্রাম বলে কোনো কিছু থাকবে না। এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডে দশানী নদী ভাঙন রোধে ৩শ’ মিটার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে নিম্নমানের কাজে কারণে তেমন কোনো সুফল আসছে না।

অন্যদিকে বছরের পর বছর নদী ভাঙনের শিকার খানপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম, শান্তি বেগম, আফসার আলী, কালু মিয়া, জিয়াউল খানের মতো আরও অনেকেই বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে স্থায়ী টেকসই কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কয়েকশত পরিবার বসত ভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে।

তারা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে আইরমারী খান পাড়া হয়ে জব্বারগঞ্জ বাজার পর্যন্ত উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা না গেলে অচিরেই এই গ্রাম বিলীন হবে। তাই অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান টিটু দৈনিক অধিকারকে জানান, আইরমারী খানপাড়া গ্রামসহ ব্রহ্মপুত্র নদ ও দশানীর তীরবর্তী আরও কয়েকটি গ্রামে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২২০টি বসত ভিটা ও বাড়ি-ঘর নদীতে সম্পূর্ণ বিলীন ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুন : আড়াইহাজারে উচ্চ ফলনশীল পাট বীজ বিতরণ

এ দিকে, জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ দৈনিক অধিকারকে জানান, আইরমারী খান পাড়া গ্রামের নদী ভাঙনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। নদী ভাঙন রোধে যে পরিমাণ জিও ব্যাগ ফেলার দরকার ছিল, তা ফেলা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম চলমান বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড