• বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কোরবানির চামড়া নিয়ে বিপদে পাহাড়ের মানুষ

  এম কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি

২২ জুলাই ২০২১, ২০:৫৪
কোরবানির চামড়া নিয়ে বিপদে পড়েছেন পাহাড়ের মানুষ (ছবি : সংগৃহীত)

রাঙামাটিতে এবারও কোরবানির চামড়া নিয়ে বিপদে পড়েছেন পাহাড়ের মানুষ।

বুধবার (২১ জুলাই) শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির পশু দুপুর ১টার মধ্যে জবাই কার্যক্রম শেষ হলেও চামড়া অলিগলিতে পড়ে আছে। বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদরাসায় ফোন করেও চামড়া নেওয়ার জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় শহরের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে।

পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কোরবানি পশুর মালিক মো. আবদুস সাত্তার ও মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ইদের নামাজ পড়তে গিয়ে এতিমখানার ২জন পরিচালকের সাথে কথা হয়েছে তারা পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। কিন্তু কোরবানি শেষ করে তাদের বারবার ফোন করেও চামড়া নিতে আসেনি। মনে হয় চামড়া নিয়ে আবার কোন বিপদে পড়বে তারা তাই চামড়া নিতে আসেনি। কোন অর্থ ছাড়াই ফ্রিতে চামড়া দিতে যাচ্ছি তারপরও কেউ চামড়া নিতে আসেনি। বাংলাদেশে কোরবানির পশুর চামড়া এখন অবহেলায় পরিণত হয়েছে। দুপুর ২টার পরে মানিকছড়ি ও ভেদভেদী এতিমখানার লোকজন এসে জেলা প্রশাসন ও চেম্বারের সহযোগিতায় তারা আমাদের চামড়া নিয়ে গেল।’

রাঙামাটির গরু ব্যবসায়ী ও মাংস বিক্রেতা মো. জাফর আলী বলেন, একসময় কোরবানির চামড়ার জন্য আমরা গ্রাম মহল্লায় অগ্রিম টাকা দিয়ে আসতাম। আর এখন পশুর চামড়া নিয়ে আমাদের কোন মাথাব্যথা নাই। এমনকি পশুর চামড়ার জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে বসে থাকতাম। আর এখন সেই পশুর চামড়ার কোন মূল্যই নেই। এটার জন্য দায়ী চট্টগ্রাম ও ঢাকার বড় বড় ট্রেনারি মালিকেরা। যার ফলে মফস্বল এলাকা থেকে পশুর চামড়া নিয়ে গেছে বিভিন্ন অজুহাত ও তালবাহানা করে চামড়া কিনতে গড়িমসি করে ট্যানারির মালিকেরা। চামড়া হলো, পঁচনশীল জিনিস। এক দিন এদিক সেদিক হলেই প্রচুর লোকসান গুনতে হয়। এ জন্য চামড়ার ব্যবসা আমরা ছেড়ে দিয়েছি।

রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স সভাপতি মো. আবদুল অদুদ বলেন, চামড়াশিল্প দেশের তৃতীয় স্তরের একটি রপ্তানি পণ্য। আজ এ চামড়া নিয়ে কত তালবাহানা। রাঙামাটিতে জেলা প্রশাসনও চেম্বার অব কমার্সের সহযোগিতায় এবার প্রতিটি এলাকায় গিয়ে গিয়ে পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। পশুর চামড়া চট্টগ্রামে নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ৩টি ট্রাক ফ্রিতে দেওয়া হয়েছে। এবারে চামড়া সংগ্রহে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নত না হলে ব্যবসার অবনতি ঘটে। আমি চট্টগ্রামে ট্যানারি মালিকদের সাথে ২-৩ বার কথা বলেছিলাম কিন্তু তাদের কাছ থেকে ব্যবসায়ী মনোভাব বা আন্তরিকতা পাইনি। চট্টগ্রাম ও ঢাকার ট্যানারি মালিকেরাই চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করছে। ট্যানারি মালিকদের একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। সরকার ওই সিন্ডিকেট সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে না দিলে চামড়া চিরতরে ধুয়ে মুছে বিদায় নেবে। চামড়াশিল্পের মধ্যে অসত্য প্রবেশ করছে যার কারণে দিনদিন চামড়াশিল্প ধ্বংসের পথ বেচে নিতে যাচ্ছে। রাঙামাটি শহরের মধ্যে এবার প্রায় ২-৩ হাজার পশু জবাই করা হয়েছে। এর প্রায় ২ হাজার পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, পশুর চামড়া নিয়ে ৩-৪ বার চেম্বার অব কমার্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি মাদরাসার শিক্ষক, ব্যবসায়ীদের নিয়ে দফায় দফায় এ সংক্রান্ত ব্যাপারে বৈঠক করা হয়েছে। যারা পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে তাদের সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এমনকি পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয় সে জন্য আমি লবণ ও চট্টগ্রামে চামড়া নিয়ে যাওয়ার জন্য যানবাহন খরচ বহন করবো বলে কথা দিয়েছি। যেকোনো মূল্যে চামড়া সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে হবে। সরকারিভাবে এ বছর পশুর চামড়া সংগ্রহে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড