• শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শৈলকুপায় পানি স্বল্পতা ও কিষান সংকটে পাটচাষিরা

  রয়েল আহমেদ, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ)

১৯ জুলাই ২০২১, ১১:২০
পাটখেতে কাজ করছেন চাষিরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পানি স্বল্পতা ও কিষান সংকট হওয়ায় বিপাকে পড়েছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাটচাষিরা। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, এবার বর্ষার ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষক পানির অভাবে পাটের জাগ দিতে পারছে না।

অন্যদিকে কিষানের মজুরি সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪শ থেকে ৬শ টাকা হলেও কিষান সংকট দেখা দিয়েছে। আবার পাট কাটার পর চাষিরা গরুর গাড়ি বা মহিষের গাড়িতে করে পানি সমৃদ্ধ এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে জাগ দিয়ে পাট পঁচানোর জন্য। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন ও মোটরের পানি দিয়ে পাট জাগ দিতে গিয়ে বাড়তি খরচ করছেন।

কৃষকরা পাটকাটা এবং জাগ দেবার জন্য অন্যত্র বহন করা আর কিষানীরা খড়ি থেকে আঁশ আলাদা করার কাজে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। জীবন-জীবিকার স্বাভাবিক তাগিদে কিষাননির্ভর মানুষগুলো বিঘাপ্রতি (২০) কাঠা জমির পাট কাটতে এবং পাটের বোঝা মাথায় করে রাস্তায় ওঠানোর মজুরি নিচ্ছে ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। যে কারণে সেঁচনির্ভর বুনন থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত আঞ্চলিক ক্রমানুসারে ২৫/৩০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা।

তারা আরও জানান, ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি ১০ মণ, খারাপ হলে প্রকারভেদে ৫ মণ করে পাট উৎপাদন হয়েছে। যা বর্তমান বাজারে ২৩শ থেকে ২৪শ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। যদিও পাটকাঠির বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাটকাটি থেকেও ভালো টাকা আয় করতেন তারা।

উপজেলার বড় মৌকুড়ি গ্রামের কৃষক নায়েব আলী বলেন, এবার ৩ বিঘা জমিতে পাটচাষ করেছি। ফলন আশানুরূপ হলেও পাট বুনন থেকে শুরু করে ঘরে তুলতে যা খরচ হচ্ছে তাতে কষ্টই বৃথা। তারপর আবার বাজারে পাটের দাম কম। এবার পাটের ভালো দাম না পেলে পরের বছর থেকে আর পাটচাষ করবো না।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসার আকরাম হোসেন বলেন, হিসাব মতে এবার প্রায় ৮৩৮০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এবার পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫০০ হেক্টর জমি।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet