• বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

ফেনীর কাউন্সিলর কালামের আ.লীগ নেতা হিসেবে যেভাবে উত্থান

  এসএম ইউসুফ আলী, ব্যুরো প্রধান (ফেনী)

১৮ জুলাই ২০২১, ১৭:১৬
জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর সঙ্গে হত্যা মামলার আসামি কাউন্সিলর আবুল কালাম
জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর সঙ্গে হত্যা মামলার আসামি কাউন্সিলর আবুল কালাম (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ফেনীতে গরু ছিনতাই করতে না পেরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আলোচিত ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর আবুল কালাম সাড়ে তিন বছর আগেও ছিলেন যুবদলের কর্মী। তিনি আরও একটি হত্যা মামলার আসামি। যখন যে দল ক্ষমতায় তখন সেই দলের নেতা হয়ে উঠেন তিনি। এখন তিনি আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় আলোচিত। তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতা রতন হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপি নেতা ভিপি জয়নালের খুব ঘনিষ্ঠজন হিসাবে পরিচিত যুবদলকর্মী কালাম যুবলীগে যোগ দিয়েই এক বছরের মধ্যেই বনে যান আ. লীগের নেতা। এরপর সরকারী দলের প্রভাব বিস্তার করে উত্থান শুরু হয় তার।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে কাউন্সিল আবুল কালামের এমন অজানা তথ্য।

একসময় বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন আবুল কালাম। তখন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপির বাড়ীর পাহারাদার ছিলেন তিনি। সেই সময় কেউ কেউ বলতেন ভিপি জয়নালের ‘বিশ্বস্ত দেহরক্ষী’। পদ ছিল জেলা যুবদলের সদস্য।

দল ক্ষমতায় থাকাকালে এলাকার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেকে তার আক্রমণের শিকারও হয় বলে স্থানীয়রা জানায়।

ক্ষমতা হারানোর পর অন্যদের মতো সরকারী দলের রোষানলের শিকার হয় কালামও। অন্তত দেড় ডজন মামলার আসামি হয়ে যান কালাম।

ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ওরফে রতন হত্যা মামলার আসামি হিসেবে কালাম উঠে আসেন পুলিশের অপরাধীর খাতায়। ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর সুলতানপুর এলাকায় যুবদলের মধ্যে সংঘর্ষে কাউন্সিলর রতন নিহত হন।

ওই ঘটনায় করা মামলাটি পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে আবুল কালামের নাম রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়।

কাউন্সিলর রতনকে যেখানে হত্যা করা হয়েছিল, সেই একই এলাকায় গত বৃহস্পতিবার গুলি করে হত্যা করা হয় গরু ব্যবসায়ী শাহজালালকে। কাউন্সিলর রতন হত্যার ঘটনাটি ফেনীতে তখন বহুল আলোচিত ছিল।

নিহত রতনের ভাই আলমগীর হোসেন হাজারী টেলিফোনে সাংবাদিকদের জানান, ‘রতন হত্যা মামলার আসামি আ.লীগে যোগ দিয়েছে, আবার নেতা হয়েছে। এখন চাঁদাবাজি করছে, মানুষ হত্যা করছে। এটা ভাবিয়ে তুলছে।’

কাউন্সিলর আবুল কালাম ২০১৭ সালে যুবদল ছেড়ে যুবলীগে যোগদেন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক সভায় ফেনীর সংসদ সদস্য ও জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহম্মেদ নাসিমের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আ.লীগে যোগ দেন এই কাউন্সিলর কালাম।

বিএনপি অধ্যুষিত বিরিঞ্চির বাসিন্দা কালামকে পেয়ে ওই এলাকায় শক্তি বেড়ে যায় নিজাম উদ্দিন হাজারীর।

ওই নির্বাচনের নৌকার জনসভায় বিএনপির প্রার্থী ভিপি জয়নালের সমালোচনা করে অল্প সময়ে আলোচনায় এসে যান কালাম। কৌশলে আ.লীগের প্রভাবশালী নেতাদেরও নজর কাড়েন তিনি। রাতারাতি প্রভাব বাড়তে থাকে তারও।

একপর্যায়ে সদর হাসপাতাল মোড়, পলিটেকনিক, বিরিঞ্চি, একাডেমী, সুলতানপুর ও ফলেশ্বরসহ আশপাশের এলাকার অঘোষিত নিয়ন্ত্রক বনে যান কালাম। এর কিছুদিন পর জেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য পদ বাগিয়ে নেন তিনি।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে বাড়ি হলেও একপর্যায়ে নিজাম হাজারীর ইশারায় ৬নং ওয়ার্ড আ.লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদ দেয়া হয় তাকে।

চলতি বছর পৌরসভার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যান ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

৪, ৫, ৬নং ওয়ার্ডে একক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাঁদাবাজি, সালিশ বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে অল্প সময়ে অঢেল অর্থবিত্ত উপার্জন করে হয়ে উঠেন গাড়ি-বাড়ির মালিক। তার অপকর্মে অনেকে অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও এলাকার কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করে না। এমনকি পদস্থ নেতাদের কাছে অভিযোগ করেও কোন ফল হয়নি বলে জানান একাধিক ভুক্তভোগী। বরং তার দাপটে পুরনো আ.লীগের নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হতে থাকে।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা অনেকে জানান, কয়েকজনকে নিয়ে একটি সন্ত্রাসী চক্রও গড়ে তোলেন কালাম।

এদের মধ্যে আরাফাত, সজিব, হোনা মিয়া, জাহিদ, সোহাগ, রনি, তার ভাগ্নে সোহেল ওই চক্রের অগ্রভাগে রয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে ওই তিনটি ওয়ার্ডে কিশোর গ্যাং কালচার গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মেহরাজ নামে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করে এই কিশোর গ্যাং।

পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি অমর কৃষ্ণ দাস জানান, এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে আমরা বিব্রত, আমরা লজ্জিত।

আরও পড়ুন : মায়ের মুক্তির দাবিতে দুগ্ধপোষ্য সন্তান রাস্তায়!

জানতে চাইলে ফেনী পৌর আ.লীগ সভাপতি আয়নুল কবির শামীম বলেন, কোন ব্যক্তির অপকর্মের দায়ভার সংগঠন নেবে না। এ হত্যাকাণ্ডে আইনের আওতায় শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) গভীর রাতে শহরের সুলতানপুরে এক গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার পর লাশ ফেলে দেয়া হয় পুকুরে। ওই ঘটনায় কাউন্সিলর আবুল কালামকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার বাড়ী থেকে রক্ত মাখা পাঞ্জাবী ও দুইটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করেছে। পরে অভিযান চালিয়ে শহর থেকে তার এক সহযোগীকে আটক কিরেছে পুলিশ।

ওডি/এএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড