• শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এক ফোন কলেই মিলবে পুলিশের ফ্রি অক্সিজেন সেবা

  আল মামুন, জয়পুরহাট

১৮ জুলাই ২০২১, ১৩:১৯
সদ্দফসদ
অক্সিজেন সেবায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্য (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দেশে দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। থেমে নেই মৃত্যুও। করোনা শনাক্ত বা উপসর্গ দেখা দেওয়া বেশির ভাগ রোগীদেরই হচ্ছে শ্বাকষ্ট। অক্সিজেনের অভাবে পড়ছেন বেকায়দায়। করোনার এই দুঃসময়ে অক্সিজেন সংকটে ভুগতে থাকা মানুষের মাঝে সিলিন্ডারের অক্সিজেন সরবরাহ এবং অক্সিজেন সেবা দিয়ে বেশ সাড়া ফেলেছে জয়পুরহাট জেলা পুলিশের ফ্রী ‘অক্সিজেন ব্যাংক’। মানবসেবার ব্রত নিয়ে পুলিশই এ সেবার হাল ধরেছেন। বিনামূল্যে সেবাগ্রহীতাদের কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। করোনায় দেশে শনাক্তের সাথে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। এই ভাইরাসের রোগীদের অন্যতম অনুসঙ্গ হলো অক্সিজেন। যা হাসপাতাল ছাড়া মিলছে না। কিন্তু জয়পুরহাটের হাসপাতালগুলোতে এই সেবা তেমন চালু না হওয়ায় বেশ বেকায়দায় পড়েছেন করোনা আক্রান্ত বা উপসর্গ রোগীরা। অনেক রোগীরা চলে যাচ্ছেন পার্শ্ববর্তী জেলা বগুড়াতে। সেখানেও রয়েছে বেড সংকট। অনেক রোগী আছেন যারা অক্সিজেনের সুবিধা পেলেই বাড়িতেই সুস্থ হতে পারেন। তাদের জন্যই ‘অক্সিজেন ব্যাংক’।

হাসপাতালে সেবা নেওয়া গণমাধ্যমকর্মী মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, আমি যখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টে ভুগতেছিলাম ঠিক সেই মূহেুর্তে জয়পুরহাট জেলার মানাবিক পুলিশ মাছুম আহাম্মদ ভূঞা আমার বাসায় অক্সিজেন পাঠিয়ে দেয়, তার পর পরই আমি আল্লাহর রহমতে সুস্থ হই, শুধু অক্সিজেনই সাথে পুষ্টিকর খাবার , ফলমুলসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ আমাকে দিয়ে যায়। এই সেবা পেয়ে পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

জামালপুর পাইকরতলী এলাকার আ. মতিন জানান, তার স্ত্রীর করোনা হওয়ার পরে শ্বাস বৃদ্ধি পায়, রাত ২টার দিকে পুলিশের অক্সিজেন সেবার নাম্বারে ফোন দিলে পুলিশ সদস্যরা সাথে সাথেই বৃষ্টির মধ্যে ভিজে আমার স্ত্রীকে অক্সিজেন দিয়ে যায়। সাথে সাথেই আমার স্ত্রী সুস্থ হতে থাকে। আমি বিশেষ করে এই সেবার কথা কখনো ভুলবো না। সেবা দেওয়া পুলিশ সদস্য আরিফুল ইসলাম ও মেফতাহুল জান্নাত জানান, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সেবা দেওয়ায় এই মহৎ কাজটি করতে পেরে আমরা নিজেক গর্ববোধ করি। অক্সিজেন পাওয়ার পর করোনা আক্রান্ত রোগীরা যে হাসি দেন তাতেই আমরা প্রশান্তি ফিরে পাই।

জয়পুরহাটে জেলা সার্ক মানবাধিকারের সাধারন সম্পাদক, সমাজ উন্নয়ন কর্মী ও সুজন’এর জেলা সাধারন সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, করোনার যুদ্ধের সম্মুখভাগের যোদ্ধা ও মানবতার সেবক হিসেবে ইতিমধ্যে পুলিশ নিজেদের প্রমাণ করেছেন পুলিশ জনগণের বন্ধু। তা জয়পুরহাট জেলার পুলিশ সুপার করোনা রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ ও বহুমুখী সেবাপ্রদানের মাধ্যমে ইতিমধ্যে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।তিনি এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে জনগণের মনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা পরিবর্তন হয়ে পুলিশের সাথে জনগণের বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

পুলিশ সুপার মাসুম আহমেদ ভূঞা জানান, সাধারণ মানুষদের কথা চিন্তা করেই এই অক্সিজেন সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারাটা একটি মহত কাজ ও গর্বের বিষয়। কেবল অক্সিজেনই নয়, দেশের যে কোন পরিস্থিতিতে পুলিশরা মানবিক পুলিশ হয়ে কাজ করবে ইনশাআল্লাহ।

ওডি/

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet