• শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে রাহেলাদের ইদ আনন্দ

  হারুন আনসারী, ফরিদপুর

১৮ জুলাই ২০২১, ১২:৪৬
সদফসদফ
এই প্রথম নিজের ঘরে ইদ করবে রাহেলা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

‘আমার ইট্টু জমি হবে, একখান ঘর হবে, এই কথা স্বপ্নেও ভাবি ন্যাই। তয় এইবার আল্লাহ মুখ তুইল্যা তাকাইছে। মাইয়াগো নিয়্যা জীবনে এই পত্থমবারের মতো এট্টা ইদ করবো নিজের ঘরে! আমি অহন নিজের এট্টা ঠিকানা পাইছি।’ মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জমিসহ ঘর পেয়ে এভাবেই তাঁর আনন্দ অনুভূতি জানান বোয়ালমারীর চতুল ইউনিয়নের সুকদেবনগর গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী বিধবা নারী রাহেলা বেগম। ২০ বছর আগে তাঁর স্বামী হারেজ মোল্যা মারা গেছেন। খেয়ে না খেয়েই কেটেছে সারাজীবন। স্বামী ছিলেন ভূমিহীন। পৈত্রিক সূত্রেও তাঁর কোন জমি নেই। অসহায় রাহেলা বেগমের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা। তাঁর মতো একজন বিধবার ভাগ্যে নিজের জমি আর সেখানে থাকার পাকা ঘর হবে এটি স্বপ্নেও ভাবেননি।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এপর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় ৩ হাজার ৬শ’ সাতটি ভূমিহীন ছিন্নমূল পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। আর ওই ঘরের জমিও তাদের নামে কবুলিয়াত দলিল রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়। এখনো সামান্য কিছু ঘরের কাজ বাকি আছে। অনেক ঘরে এরই মধ্যে বরাদ্দপ্রাপ্তরা উঠে পড়েছেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যাদের মাথার উপরে ছাদ ছিলোনা, ঘরে খাবার ছিলো না, প্রতিদিন যাদের চিন্তা করতে হতো কোথায় থাকবে; সেই মানুষগুলো এখন মাথার উপরে একটি ছাদ পেয়েছে। এর ফলে তারা নিজেদের অর্থনৈতিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে পারবে। আলফাডাঙ্গা উপজেলার ‘স্বপ্ননগর’ থেকে সদরপুরে ‘শত স্বপ্ন নীড়’ এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জীবন বিনির্মাণে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

সুকদেবনগর গ্রামের ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরেকটি ঘরের মালিক আব্দুস সামাদ শেখের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, ‘আমাগের মতো গরিবের জীবনতো পথে পথেই শ্যাষ হইয়্যা যায়। কেউ হয়তো বিপদের সময় চাইল, ডাইল, কাপড় দেয়; কিন্তু জমির সাথে ঘর দিয়ার কথা শুনি ন্যাই। আমাগো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাগের জন্য এই ব্যবস্থা কইর‌্যা দিছে। আমরা তাঁর প্রতি চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞ। আল্লাহ উনারে আরো অনেকদিন বাঁচায় রাখুক।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ এসব ঘর নির্মাণের খরচের একটি পরিসংখ্যান দেখিয়ে বলেন, এইসব ঘর নির্মাণ কাজে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নেই। তবে কিছু নিচু জমিতে হয়তো বালি ফেলে ভরাট করার পর ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে নতুন বালি সরে ঘরের কিছু ক্ষতি হতে পারে। আর নির্মাণ ত্রুটি বা সঠিকভাবে কিউরিং না করায় কোথাও ফাটল বা অন্য সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সেগুলো সংস্কার করা হবে।

সদর উপজেলার কানাইপুরে ইব্রাহিমদি গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেলো সেখানে সাতটি সারিতে ২৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরগুলোতে এরই মধ্যে অনেকেই বসবাস শুরু করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেলো সেখানকার বাসিন্দারা কেউ ঘর গোছাচ্ছেন, কেউ রান্নাবান্নায় ব্যস্ত। ঘরের কোনার জমিতে এরই মধ্যে নানাজাতের ফুলের গাছসহ ফলজ ও বনজ গাছ রোপন করেছেন অনেকে।

কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ফকির বলেন, আমরা সর্বোচ্চ যাচাই-বাছাই করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একেবারে হতদরিদ্রদেরকেই বাছাই করে এসব ঘরের তালিকা পাঠানোর পরে সে অনুযায়ীই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য প্রকৃত অর্থেই বাস্তবায়ন হয়। এইসব পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সময়ে সরকারের দেয়া ভিজিডিসহ নানা সাহায্যসহ কোভিড-১৯ এর জন্য মানবিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, সদাশয় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই কেননা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেকটা ঘরের নরনারী একটি নতুন জীবনের সন্ধান পেয়েছে। যেই জীবনের স্বপ্নের হাতছানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের দেখিয়েছেন। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তাদের মুখে স্বর্গীয় আভা দেখতে পেয়েছি। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ভিত্তি পেয়ে তারা এখন ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা করানোর স্বপ্ন দেখছে। নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা তারা খুঁজে পেয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের মৌলিক অধিকার বাসস্থান নিশ্চিত হয়েছে। আর যখন বাসস্থান নিশ্চিত হয়েছে তখন তাদের চিকিৎসা, শিক্ষা ও খাদ্যের নিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে।

ওডি/

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড