• শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুড়িগ্রামে পশুর হাটগুলোতে অতিরিক্ত খাজনা আদায়

  হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

১৮ জুলাই ২০২১, ১২:৩০
গরুর হাট (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কুড়িগ্রামে ৪-৫ গুণ অতিরিক্ত মূল্যে টোল চার্জ আদায় করা হচ্ছে পশুর হাটগুলোতে। ইজারাদাররা লকডাউনের সময় পশুর হাট বসাতে না পেরে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন বলে স্বীকার করলেও অভিযোগ না পাওয়ায় কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে হাট-বাজরগুলোতে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে না দেয়ায় এমন অবৈধ সুযোগ নিচ্ছেন বলে ক্ষোভ ভুক্তভোগীদের। অপরদিকে পৌরসভা জানিয়েছে গতবার সরকার লকডাউনে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পরও কিভাবে ইজারাদারগণ বেশি অর্থ নিচ্ছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।

শুক্রবার ও শনিবার বিকালে সরজমিন জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুরহাট, সদরের পৌরবাজার হাট ও যাত্রাপুর হাট এবং নাগেশ্বরীর কচাকাটা হাট ঘুরে দেখা যায় চরম অব্যবস্থাপনা। এসব পশুর হাটের কোথাও টোল চাজের্র মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখা হয়নি। এছাড়াও হাটগুলোতে রয়েছে উপচে পরা মানুষের ভিড়। নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা। সরকারিভাবে পশুর হাটের জন্য টোল চার্জ হিসেবে গরু ও মহিষের জন্য ২২০ টাকা এবং ছাগল ও ভেড়ার জন্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও এসব পশুর হাটে গরু ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ছাগল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে অতিরিক্ত খাজনা নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইজারাদারের বক্তব্য হচ্ছে, আমরা লকডাউনের কারণে হাট বসাতে পারিনি। লস কমিয়ে নিতে কিছুটা বেশি খাজনা নেয়া হচ্ছে। এতে মানুষ খুশি হয়ে দিচ্ছে। কেউ অভিযোগ করছে না।

এ সময় কথা হয় উলিপুরের দুর্গাপুরহাটে বেশ কয়েকজন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে। এই ইউনিয়নের অর্জুনেরডারা গ্রামের নজরুল ইসলাম ৬৯ হাজার টাকায় কিনেছেন একটি গরু। তার এবং বিক্রেতার কাছ থেকে মোট ৯শ টাকা নিয়েছে ইজারাদাররা। পার্শ্ববর্তী রাজারহাটের ফুলকারচাকলা গ্রামের ইয়াছিন কিনেছেন ২৭হাজার টাকায় একটি গরু। তাদের দুজনের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার টাকা।

এই ইউনিয়নের আনন্দ বাজারের ছাগল বিক্রেতা জামালের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ২০০ টাকা এবং ক্রেতার কাছ থেকে নিয়েছে ২৫০টাকা। প্রতিবাদ করায় বাজার কমিটির ভলান্টিয়াররা ছাগল আটকে দেয়। একই অভিযোগ করলেন ওই এলাকার স্বপন মিয়া। তিনি ৪ হাজার টাকায় ছাগল কিনে ২৫০ টাকা দিয়েছেন। বিক্রেতা দিয়েছে ২০০ টাকা। প্রতিবাদ করলেই জবরদস্তি করা হচ্ছে। অনেকের পশু আটকে দেয়া হচ্ছে।

দুর্গাপুর পশুহাট ইজারাদার আজিজুল ইসলাম অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, ৮-১০জন মিলে ৭৯ লাখ টাকা দিয়ে এই হাট ইজারা নিয়েছি। লকডাউনের কারণে ঠিকঠাক হাট বসেনি। ইদকে সামনে রেখে ক্ষতিয়ে পুষিয়ে নিতে বাড়তি খাজনা নেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উলিপুরের পৌর মেয়র মো. মামুন সরকার মিঠু জানান, সরকারিভাবে গরু ও মহিষের জন্য ২২০ টাকা এবং ছাগলের জন্য ১০০ টাকা খাজনা নির্ধারণ করা আছে। প্রতি ৩ বছর পর এটি রিভিউ করার কথা থাকলেও বেশ কয়েক বছর থেকে এটি রিভিউ করা হচ্ছে না। বর্তমান পারি পাশ্বিক অবস্থা, আর্থিক মূল্য বিবেচনা করে এটি সংশোধন করা দরকার।

এছাড়াও তিনি জানান, গতবার সরকার দুর্গাপুর পশুরহাটে ৩৫ লাখ টাকা প্রণোদনা হিসেবে ইজারা মওকুফ করে দিয়েছে। এবারও সমস্যা হলে সরকার বিষয়টি দেখবে। তাই বলে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা ঠিক হবে না।

অতিরিক্ত খাজনা আদায় বিষয়ে উলিপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম রাসেল জানান, সরকার নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত খাজনা নেয়ার ব্যাপারে অভিযোগ পেলে অবশ্যই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, সরকার নির্ধারিত টোল চার্জের বাইরে অতিরিক্ত চার্জ নেয়ার কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি যেহেতু জানলাম। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সরজমিন ঘুরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet