• শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ছেলের পোড়া লাশের অপেক্ষায় বাবা

  সাইদুর রহমান, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

১৮ জুলাই ২০২১, ১১:৩২
নারায়ণগঞ্জ
হাসেম ফুড কারখানার আগুনে নিহত হাসনাঈমে বাবা-মা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ১০ দিন পর নিহত নিখোঁজ ছেলের পোড়া লাশের অপেক্ষায় রয়েছেন ছেলেহারা এক বাবা। গ্রাম থেকে ছেলে ঢাকা এসে লাশ হবে, এটা বুঝতে পাড়লে কখনই একমাত্র ছেলেকে ঢাকায় আসতে দিতাম না। আমার একটাই ছেলে আমার আর কোনো সন্তান নেই যে আমি মারা গেলে আমায় কবরে রেখে আসবে। আগুন লাগার পর তার কোন খোঁজ পাচ্ছি না। অন্তত যদি ছেলের পোড়া লাশটা পাইতাম তাহলে গ্রামে নিয়ে দাফন করে একটু শান্তি পাইতাম। ছেলের অপেক্ষায় তার মা নাজমা বেগম পাগল প্রায়।

শনিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে হাসেম ফুড কারখানার সামনে অসুস্থ শরীর নিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে এভাবেই বলছিলেন আগুনে নিহত হাসনাঈমের বাবা ফজলুল হক।

ফজলুল হক জানান, ছেলের পুড়ে যাওয়া লাশ পেতে গিয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে অনেক লাশের মধ্যে রয়েছে তাঁর ১২ বছরের হাসনাঈমের লাশও। কিন্তু সেটা কোনটা, তা বোঝার উপায় নেই। তাই সেখানে ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন ফজলুল হক। ডিএনএ মিললে নিয়ে যেতে পারবেন ছেলের লাশ। সেটা কত দিনে হবে তাও জানেন না ফজলুল হক। তাই একদিন ঢাকায় আরেকদিন হাসেম ফুডের গেইটে পাগলের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, ভোলার চরফ্যাশন থানার মিনা বাজার আব্দুল্লাহপুর ৬নং ওয়ার্ডে তার বাড়ি। ছেলে হাসনাইম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আমিনাবাদ কবি মোজাম্মেল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। তিনি গ্রামে কৃষি কাজ করতেন। কয়েকদিন যাবত শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারছিলেন না। তার কষ্ট দেখে ছেলে হাসনাঈম নিজেই ঢাকায় কাজ করতে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি ছেলেকে বলেন, তোমার তো এখন লেখাপড়ার বয়স। তুমি কাজ করতে পারবে না। ছেলে হাসনাঈম আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিল, তুমি চিন্তা করো না। তুমি যতদিন অসুস্থ আছো আমি কাজ করে তোমার চিকিৎসা করাব। আর করোনার কারণে এখন তো স্কুল খোলা নেই। স্কুল খুললে আবার বাড়ি ফিরে আসব।

গত দেড় মাস আগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় পাঁচ হাজার টাকা বেতনে কাজ নিয়েছিল হাসনাঈম। কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে হাসনাঈমের আর কোনো খোঁজ নেই।

এর আগে গত ৮ জুলাই সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকান্ডে ৫২ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এমএ হাসেমসহ ৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার পর প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এম এ হাসেমসহ আট আসামিকে গ্রেফতার করে চারদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করলে দুই জনকে জামিন ও ছয় আাসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শ‌নিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সিআইডি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজিসহ সিআইডির তদন্ত টিম।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড