• শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পলাশ উপজেলায় ১৫ টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ

  নাসিম আজাদ, পলাশ (নরসিংদী)

১৭ জুলাই ২০২১, ১৭:০৪
চরসিন্দুর ইউনিয়নের ব্রিজটি হেলে গিয়ে পলাশ-শিবপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
চরসিন্দুর ইউনিয়নের ব্রিজটি হেলে গিয়ে পলাশ-শিবপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার হাঁড়িধোয়া নদী পুনঃখনন কাজে ড্রেজার বসিয়ে লাগামহীন বালু উত্তোলনের কারণে উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের একটি ব্রিজ হেলে গিয়ে পলাশ-শিবপুর উপজেলার সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে করে এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার হওয়া হাজারও মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

নরসিংদীর অন্যতম নদী হাঁড়িধোয়া। শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ভেলানগর পর্যন্ত প্রায় ৪১ কিলোমিটার এই নদীতে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ১৫ টি সেতু। নদী পাড়ে স্কুল-কলেজসহ আছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া দুই তীরেই রয়েছে অনেক ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও গ্রাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাঁড়িধোয়া নদী পুনঃখনন কাজে যেখানেই বালু পাওয়া গেছে, সেখানেই ড্রেজার বসিয়ে ৩০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত গভীর করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। একেকটি স্থানে ৮-৯ মাস ধরে বালু উত্তোলন করে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় তা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে তারা। এসব বিষয়ে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও মেলেনি সমাধান।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের উদাসীনতায় হাঁড়িধোয়া নদী পুনঃখনন কাজের নামে লাগামহীন বালু উত্তোলন কারীদেরকে থামানো যায়নি। যার ফলশ্রুতিতে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের চরসিন্দুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়ন ও আলীনগর হয়ে দুলালপুর প্রবেশ করার সড়কটির ওপর নির্মিত ব্রিজের পিলার ভেঙ্গে হেলে গিয়ে দুই উপজেলার সংযোগ সড়ক দুটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশলী অফিস বলছে, ১৯৮০ সালের দিকে উপজেলা প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত ব্রিজটির কাছ থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণে এই ব্রিজগুলোর পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। এ কারণে হেলে গিয়ে দুই উপজেলার সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফলে ব্রিজগুলো পুনরায় নতুন করে নির্মাণ না করা পর্যন্ত দুটি সড়ক দিয়ে চলাচল করলে যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অবস্থা নাজুক দেখে ব্রিজ দুটি সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে প্রকৌশলী অফিস।

সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে চরসিন্দুর শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক তোফাজ্জল হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দিন ভূইয়া ও টিপু সুলতানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, হাঁড়িধোয়া নদী পুনঃখননের নামে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় ব্রিজ দুটি হেলে গিয়ে সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করেও কোনো সমাধান হয়নি।

উপজেলা প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল রিয়াদুল কুদ্দুস জানান, ব্রিজদুটির দুপাশ থেকে হাঁড়িধোয়া নদী খনন কাজে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণে ব্রিজদুটির পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ব্রিজগুলো হেলে গেছে। নতুন করে এই ব্রিজগুলো নির্মাণ না করলে এই দুটি সড়ক দিয়ে পারাপারের সময় যেকোনো বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নরসিংদীর আড়িয়াল খাঁ, হাঁড়িধোয়া, পাহাড়িয়া, মেঘনা শাখা নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ ও নারায়ণগঞ্জের অন্তর্গত পুরনো ব্রহ্মপুত্র শাখা নদ পুনঃখননে ৫২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড।

এপ্রিল ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্প সূত্রে এই তথ্য জানা যায়। ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল সদর উপজেলার চর এলাকার করিমপুর ইউনিয়নের শুটকিকান্দি গ্রামে এই নদী খনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম হিরু (বীরপ্রতীক)।

এ সময় তিনি জানিয়েছিলেন, প্রায় ২৩২ কিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র খনন, ২২কিলোমিটার তীর প্রতিরক্ষার পাশাপাশি ৮৫টি সেতুর ফাউন্ডেশন শক্তিশালী করা হবে। তবে গেল বছরের ৭ সেপ্টেম্বর এক সভা শেষে নদী রক্ষা কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাবেক জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন জানিয়েছিলেন, নরসিংদীর নদ-নদীর ভরাট দূর করতে ইতিমধ্যে খননের কাজ প্রায় ৭১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে।

সেখানে এক প্রতিবেদনে তিনি জানান, হাঁড়িধোয়া নদীর অবৈধ দখলদারের কাছ থেকে মুক্ত করা হয়েছে ৮৪ একর জমি। যার বাজার মূল্য ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তবে জেলা সদরের ভেলানগর থেকে শুরু করে শিবপুর উপজেলার সাধারচর ও পলাশের সীমান্তবর্তী এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত হাঁড়িধোয়া নদীতে প্রায় ৮ থেকে ১০টি ড্রেজার বসিয়ে এখনো বালু উত্তোলনের কাজ চলমান রয়েছে। ফলে হাঁড়িধোয়া নদীর দুই তীরে অবস্থিত স্কুল-কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ব্রিজসহ ফসলিজমি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের তালতলি বাজারের ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান বলেন, হাঁড়িধোয়া নদীর তীরে আমার মুদি দোকান। আমার দোকানের সাথেই ড্রেজার বসিয়ে প্রায় ৬ মাস ধরে অবাধে বালু উত্তোলন করায় আমার দোকানটিও নদীর দিকে হেলে গেছে। যে কোনো সময় হয়তো আমার দোকানটি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ওনারা দুই উপজেলার প্রশাসনই ঠেলাঠেলি করে।

এব্যাপারে চরসিন্দুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার ইউনিয়নে দুটো নয় অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করার কারণে ৫ টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিমধ্যে বিষয়টি পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নরসিংদী জেলা প্রশাসককে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।

আরও পড়ুন : তানভীরের বাগানে ফুটেছে দুর্লভ লাল কদম

এ ব্যাপারে নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ আবু জাকির সেকান্দারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সেতু গুলো আমরা দেখেছি খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

ওডি/এএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet