• রোববার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না ক্রেতা-বিক্রেতারা

  সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ

১৭ জুলাই ২০২১, ১৭:০২
সিরাজগঞ্জ
পশুর হাট (ছবি : দৈনিক অধিকার)

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট শুরুর কথা থাকলেও সিরাজগঞ্জের পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ফলে করোনা প্রকোপ বেড়ে যাবার শঙ্কা রয়েছে।

হাট ইজারাদাররা বলছেন, হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও মাইকিং করা হচ্ছে। তবুও অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।

প্রশাসন বলছে, পশুর হাটগুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল রয়েছে। তারপরেও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে হাট বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হবে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় জেলা প্রতিদিন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

জানা যায়, জেলায় সরকারের ইজারাভুক্ত ছোট-বড় প্রায় ৩৬টি হাট রয়েছে। গত ১৫ জুলাই থেকে একযোগে প্রতিটি হাটে গবাদি পশু ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়েছে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারনায় হাটগুলো মুখরিত হয়ে ওঠেছিল। তবে বেচাকেনা কিছুটা কম হয়েছে। অনেকে প্রথমবার গরুর দাম-বাছাইয়ের জন্য হাটে গিয়েছিল।

সরেজমিনে জেলা সদরের কান্দাপাড়া ও শালুয়াভিটা হাটে গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড় গবাদি পশুতে ভরপুর হাট। ক্রেতার সমাগমও প্রচুর। কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধিতে অনেকটাই অসচেতন। কেউ মাস্ক পড়ছে, কেউবা মাস্ক শুধু কানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে আবার অনেকে মাস্ক বিহীন ঘোরাফেরা করছে। হাটগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। গায়ে গা লাগিয়ে গবাদি পশু দরদাম করছে।

মাস্ক পড়েনি এমন ব্যক্তিদের সাথে কথা বললে তারা ব্যক্ত করেন ভিন্ন অনুভূতি।

একজন গরু বিক্রেতা জানান, গরীবের ঘরে কখনো করোনা আসবে না। আমরা শারীরিক পরিশ্রম করি। করোনা আমাদের ধরবে না। তবে মাস্ক পকেটে রাখি, কারন পুলিশ দেখলে মাস্ক পড়ি। যাতে জরিমানা দিতে না হয়।

অনেকে বলছেন, গরমের কারণে মাস্ক পড়লে দম বন্ধ হয়ে আসে এ কারণে মাস্ক পড়ি না। আবার অস্বস্তির অজুহাতে মাস্ক দুইকানে ঝুলিয়ে রাখছে অনেকেই।

শালুয়াভিটা হাট ইজারাদার লুৎফর রহমান জানান, হাটের প্রবেশপথে হ্যান্ড-স্যানিটাইজার রয়েছে। সাবান পানির ব্যবস্থা রয়েছে। মাস্ক রয়েছে। মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তারপরেও অনেকে এগুলো মানছে না। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি কিন্তু যারা ক্রেতারা-বিক্রেতা তারা যদি না মানে তবে আমাদের কি করার আছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২০ জুলাই পর্যন্ত হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করতে পারে সে জন্য হাট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এরপরও যদি পশু হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয় তবে প্রয়োজনে হাট বন্ধ করা দেয়া হবে।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet