• শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কদর বেড়েছে গাছের গুঁড়ির

  জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

১৭ জুলাই ২০২১, ১৬:৪৫
আনোয়ারা
আনোয়ারা চাতরী চৌমহনী বাজার থেকে তোলা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আর মাত্র তিন দিন পরই মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ইদুল আজহা। আর এ উৎসবকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের আনোয়ারার সর্বত্রই কদর বেড়েছে গাছের গুঁড়ি ও দা-ছুরির।

কোরবানির জন্য পছন্দসই পশু কেনার পর এবার ক্রেতাদের নজর আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনাকাটার দিকে। তাই ইদকে ঘিরে গাছের গুঁড়ি, বাঁশের টুকরি, চাটাই, খড় ও ঘাস বিক্রির উদ্দেশে বিভিন্ন পশুর হাটে, ফুটপাতে বসেছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। চলছে দা- ছুরি, বঁটি বিক্রি ও সান দেওয়ার কাজও। তবে করোনা ও লকডাউনের কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত বেচা-কেনা নিয়ে শঙ্কিত।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গাছের গুঁড়ি, বাঁশের টুকরি, চাটাই, খড় ও ঘাস, ছুরি, দা, বঁটি নিয়ে পশুর হাটে ও ফুটপাতে বসে আছে বিক্রেতারা। মৌসুম ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর কোরবানের আগে চার-পাঁচ দিন এ ব্যবসা করে থাকে। এখন পর্যন্ত তাদের কেনাকাটাও চলছে ভাল। আবার অনেককে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে দা-ছুরি সান দিতেও দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, পশু কোরবানি করার পরে মাংস ছাটাই (টুকরা) করার জন্য প্রয়োজন হয় শক্ত গাছের গুঁড়ির। তবে সব গাছ দিয়ে গুঁড়ি তৈরি করা যায় না। শক্ত ও ভাল গুঁড়ি তৈরি করতে প্রয়োজন তেঁতুল গাছ। কসাইদের মতে তেঁতুল গাছ ছাড়া অন্য গাছ দিয়ে গুঁড়ি তৈরি করলে মাংসের সাথে গাছের গুঁড়ি উঠে মাংসের মান নষ্ট হয়ে যায়। তাই ইদুল আজহা আসলেই তেঁতুল গাছের চাহিদা বেড়ে যায়। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ছোট, মাঝারি ও বড় এ ৩ ধরণের গুঁড়ি পাওয়া যায় বাজারে। আকার অনুযায়ী প্রতিটি গুঁড়ি ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়। চাতরী চৌমহনী বাজার, বটতলী রুস্তম হাট, জয়কালী হাট, সরকার হাট ও ছাত্তার হাট এলাকায় এ গুঁড়ি বিক্রি হয়।

চাতরী বাজারের গুঁটি বিক্রেতা নুরুল আবছার জানান, গত ৫ বছর ধরে গুঁড়ি ব্যবসা করেন তিনি। তবে করোনা ও লকডাউনের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা কম। এখন প্রতি দিন দেড়-দুই হাজার টাকার গুঁড়ি বিক্রি হলেও ঈদের আগের ২ দিন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে বলেও জানান তিনি।

রুস্তম হাটের গুঁড়ি ব্যবসায়ী আবুল খায়ের জানায়, কোরবানির সময় আসলেই গাছের গুঁড়ি, কুলা, মাদুর, চাটাই ও টুকরির কদর বেড়ে যায়। সারা দিন গড়ে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এদিকে গরু জবাই ও মাংস ছাটাইয়ে ব্যবহৃত দা, ছুরি, বঁটি ও চাপাতির বিক্রিও বেড়েছে। এতে কামার পল্লীও ব্যস্ত সময় পার করছে। আবার অনেকে পুরনো দা, বঁটি ও ছুরিতে সান দিয়ে নিচ্ছেন। ২শ থেকে ৪শ টাকায় নতুন দা-বঁটি, ছুরি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায়, চাপাতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড