• শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মধ্যরাতের লোমহর্ষক সালিস

  সুমন খান, লালমনিরহাট

১৪ জুলাই ২০২১, ২১:৪৩
লোমহর্ষক নির্যাতন
লোমহর্ষক নির্যাতনের কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান (ছবি: দৈনিক অধিকার) 

তিন বছরের শিশু সন্তানের সামনে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয় মোখলেছুর রহমানকে। পরে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। শর্ত দিয়ে আটকে রাখা হয় তার মোটরসাইকেল। এতসব ঘটেছে চেয়ারম্যানের সালিস বৈঠকের রায়ের পরে। মধ্যরাতের সালিস বৈঠকের নামে লোমহর্ষক এমন নির্যাতনের কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ী মোখলেছুর।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এ অভিযোগ করা হয়।

নির্যাতনের শিকার মোখলেছুর একই জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের দক্ষিণ গোপাল রায় গ্রামের আনিছার রহমানের ছেলে।

থানায় লিখিত অভিযোগে বলা হয়, আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মহিষাশ্বহর গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের মেয়ে ইছমোতারা বেগমকে ৫ বছর আগে বিয়ে করেন ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান। বিয়ের পর তাদের সংসারে আদম আলী (৩) নামে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। গত ৩ জুলাই বাবার বাড়ি বেড়াতে যায় স্ত্রী ইছমোতারা। বেড়াতে গিয়ে ফিরে না আসায় মোবাইলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়।

এ ঘটনায় স্ত্রী ইছমোতারা পলাশী ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে গত শনিবার (১০ জুলাই) মৌখিকভাবে বিচার দেন। ওই দিন রাতেই সন্তানের অসুস্থতার কথা বলে মোখলেছুরকে ডেকে নেন ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী। পরে নিজ বাড়িতেই মধ্যরাতে সালিস বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে মোখলেছুরকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে স্ত্রীর নামে ব্যাংকে দেড় লাখ টাকার ডিপিএস করতে হবে বলে সালিসের রায় ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রায় ঘোষণার পর চেয়ারম্যানের নির্দেশে বৈঠকে স্ত্রী ও সন্তানের সামনে মোখলেছুরকে পাকা মেঝে ফেলে লোহার রড দিয়ে পেটান তার মামা শ্বশুর আব্দুস সাত্তার। এরপর মোখলেছুরের বাবাকে মোবাইলে কল করে ডেকে নেন চেয়ারম্যান। সেখানে জোরকরে সাদা কাগজে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাদের মোটরসাইকেলটি আটক করেন চেয়ারম্যান। ডিপিএস জমা হলে তার রশিদ দেখিয়ে মোটরসাইকেলসহ স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনাও দেন। এ নিয়ে কাউকে অভিযোগ দিলে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

মোখলেছুর রহমান বলেন, মেঝে ফেলে লোহার রড দিয়ে এলোপাতারি পেটানো হয়। এতে আমার পা ও কাঁধের হাড় ফেটে গেছে। তাদের হাতে পায়ে ধরেও রক্ষা হয়নি। উল্টো সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন চেয়ারম্যান। আমি মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে এসেছি।

অভিযুক্ত মামা শ্বশুর আব্দুস সাত্তার বলেন, স্ত্রীর নামে দেড় লাখ টাকার ডিপিএস করলে মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়া হবে। মোখলেছুরকে বৈঠকে কে বা কারা মেরেছে রাতের আঁধারে আমি দেখিনি।

পলাশী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, স্ত্রীকে নির্যাতন করায় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রতিশোধ নিতে মোখলেছুরকে একটু মারপিট করেছে। বিবাহ বিচ্ছেদ ঠেকাতে স্ত্রীর নামে ডিপিএস করতে বলা হয়েছে। ডিপিএস করলেই স্ত্রীসহ মোটরসাইকেলটি নিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান চাইলে মধ্যরাত নয়- যে কোনো সময় নিজ বাড়িতে সালিস বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এ রায়ে কোনো অপরাধ হয়নি বলেও জানান তিনি।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওডি/আজীম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet