• শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনা ও আধুনিক যন্ত্রাংশের দাপটে কামার শিল্পের দুর্দিন

  নাসিম আজাদ, পলাশ (নরসিংদী)

১৪ জুলাই ২০২১, ১৫:২৫
ছবি : দৈনিক অধিকার

দরজায় কড়া নাড়ছে কোরবানির ইদ। সারাবছর অলস সময় কাটলেও কর্মকাররা অপেক্ষায় থাকেন কোরবানির ইদের জন্য। কোরবানির মৌসুমের ব্যবসা দিয়েই সারা বছরের বড় উপার্জন হয় তাদের। তাই এ সময় কয়লার দগদগে আগুনে গরম লোহার ছন্দময় শব্দে মুখর থাকে কামারপাড়া। তবে করোনা ও আধুনিক যন্ত্রাংশের দাপটে কামার শিল্পের এখন দুর্দিন চলছে।

আগে কামারদের টুংটাং শব্দে ভোরেই ঘুম ভাঙতো আশেপাশের এলাকার মানুষের। কেউ আসতেন কোরবানি করার অন্যতম অনুসঙ্গ ধারালো ছুরি, বটি, ধামাসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতে। আবার কেউ আসতেন এসব সরঞ্জাম শাণ দিতে। বছরের অন্য সময়ে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হলেও এ সময় তাদের আয় হতো ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।

করোনা ভাইরাস পাল্টে দিয়েছে কামারশালার সেই চিরচেনা চিত্র। কাঙ্ক্ষিত কাজ না পাওয়ায় আয় রোজগারে ভাটা পড়েছে তাদের। আবার যে পরিমাণ কাজ পাওয়া যাচ্ছে, কয়লা ও ইস্পাতের অভাবে তাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মকারদের। তাই পুরনো ছুরি, বটি ও ধামা শাণ দিয়ে রাখছেন তারা বিক্রির আশায়।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার কালির বাজারের মোড়, সাধুর বাজার ও দগরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কামারের দোকান ঘুরে দেখা যায় আগের মতো ব্যস্ততা নেই তাদের। অথচ আগে এই সময়টাতে গ্রাহকের অর্ডার নিয়ে ঠিক সময়ে ডেলিভারি দিতে দোকানে বাড়তি কর্মচারী নিয়োগ দিতে হতো। আগেভাগেই কাচা লোহা কিনে রাখতে হতো। শাণ দেওয়ার যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য মজুত করতে হতো কয়লা। অথচ এখন গ্রাহকের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তাদের।

বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের দাপটে কামার শিল্পে চলছে দুর্দিন। তারপরও বাপ-দাদার পেশা টিকিয়ে রেখেছেন এ পেশার অনেকে। সাধুর বাজারের দুলাল কর্মকার বলেন, ইদের একমাস আগে থেকেই দা, ছুরি, বটি ও ধামা তৈরি করা শুরু হতো। আর কোরবানির একসপ্তাহ আগে থেকে বিক্রি চলতো ইদের আগের দিন পর্যন্ত। কিন্তু এ বছর তেমন কাজ পাওয়া যাচ্ছে না।

কালির বাজার মোড়ের সাধন কর্মকার বলেন, এই এলাকায় আমারসহ ছোট-বড় তিন-চারটি দোকান আছে। এবার তেমন কাজ নেই। ভাঙাচোরা দোকানটির মাসিক ভাড়া ১০০০ টাকা। তিনজন মিলে কাজ করি। অন্যান্য বছর অনেক কাজ থাকতো। করোনার কারণে কাজ কমে গেছে।

জিনারদীর সুশেন কর্মকাট বলেন, দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ দিয়ে সারা বছরই লোকসানে থাকতে হয়। এ লোকসান কাটিয়ে উঠতে কোরবানির অপেক্ষায় থাকি। এবার মাত্র কয়েকটি দা, ছুরি বিক্রি ও শাণ দেওয়ার কাজ পেয়েছি।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দোকানে তৈরি করা সব সরঞ্জামই কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সবাই আর আগের মতো কামারদের শরণাপন্ন হয় না। অন্যদিকে যে কাজের জন্য লোকজন আসছেন লোহা ও ইস্পাতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বানাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্মকাররা। এছাড়া চায়না থেকে আমদানি করা মাংস কাটার ধারালো অস্ত্রও পাওয়া যাচ্ছে। এই অবস্থা উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও। পরিচিতরা আসলেও নতুন কোনো ক্রেতা নেই দোকানে।

কর্মকাররা তাদের প্রতি সুদৃষ্টি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড