• বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ আশ্বিন ১৪২৮  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জিও টিউবে সুফল পাচ্ছে কুড়িগ্রামবাসী

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

১৩ জুলাই ২০২১, ২২:২৬
জিও টিউবে সুফল পাচ্ছে কুড়িগ্রামবাসী
জিও টিউবে সুফল পাচ্ছে কুড়িগ্রামবাসী (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সাধারণত জিও টিউবের ব্যবহার হয় সমুদ্র উপকূলে। কিন্তু এবছর ৬মিটার দীর্ঘ ও ২ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট জিও টিউব আশা জাগাচ্ছে কুড়িগ্রামের নদী পারের মানুষের মনে। তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন ঠেকাতে প্রথমবারের মতো বালু ভর্তি জিও টিউবের ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বিশেষ করে তিস্তার মেগা প্রকল্প না থাকায় স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজ নেই। তাই ১৮টি স্পটে ভাঙন বিধ্বংসী রূপ নিয়েছিল। ভাঙনের রাশ টানতে তাই জিও ব্যাগের পাশাপাশি জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। কম খরচ ও বেশি টেকসইয়ের কারণে এই টিউব নিয়ে আশাবাদী প্রকৌশলী ও স্থানীয় মানুষ।

বিশালাকারের এই টিউব তীব্র স্রোতে আর ঘূর্ণির সঙ্গে লড়াই করছে। ভাঙন প্রবণ এলাকার তলদেশ থেকে উপরিভাগ পর্যন্ত শক্ত আবরণের মাধ্যমে ঠেকিয়ে দিচ্ছে ভাঙন। ইতোমধ্যে তিস্তা নদীর পারে বুড়িরহাট স্পারসহ কয়েকটি এলাকার তীব্র ভাঙন রোধ করেছে এই টিউব। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমের আগে ভাঙন প্রবণ ২৫টি স্পট চিহ্নিত করা হয়। এসব স্পটের কয়েকটিতে ভাঙন প্রতিরোধে তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্প চলমান থাকলেও জরুরি পরিস্থিতিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করছে পাউবো।

২৫০-৩০০ কেজি ওজনের বালু ভর্তি জিও ব্যাগ স্রোতের সঙ্গে সব সময় লড়াই করতে পারে না। পানিতে ভেসে যায় অনেক ব্যাগ। গোঁড়ায় ধ্বস নামে। তাই ভাঙন প্রতিরোধ কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে এ বছর জিও ব্যাগের পাশাপাশি ৩ হাজার ৫শ থেকে ৪ হাজার কেজি ওজনের জিও টিউবের ব্যবহার করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। মিলছে সাফল্যও।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজারহাটের তিস্তাপারের বুড়িরহাট স্পারটির কনক্রিটের অংশটি অক্ষত থাকলেও মাটির অংশের ১৫০ মিটার গত বছর ভেঙে যায়। জিও ব্যাগ দিয়ে মেরামতের পর এবছর পুনরায় তা ভেঙে যায়। পরে এখানে জিও টিউব ফেলার কারণে স্পারটি অক্ষত থাকার পাশাপাশি স্রোতের গতিও দ্রুত সরে গেছে। একইভাবে জিও টিউব দিয়ে তিস্তার নাগরাকুড়া টি হেড গ্রোয়েনটির ধ্বস ঠেকিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে। ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গ্রোয়েনটির কিছু অংশে গত বছর ধ্বস নেমেছিল। এছাড়া সদর উপজেলার সারডোব, উলিপুরের গোড়াইপিয়ার, কাশিমবাজারসহ তিস্তা, ধরলার ১২টি স্পটে ব্যবহার করা হচ্ছে এই নতুন প্রযুক্তির এই টিউব।

বুড়িরহাট এলাকার বাসিন্দা জামসেদ আলী জানান, একটা সময়ে তিস্তার ভাঙন থেকে বুড়িরহাট স্পারটি রক্ষা করা কঠিন হয়েছিল। কিন্তু জিও টিউব ফেলার পর নদীর স্রোত সরে যাওয়ায় স্পারটির ক্ষতির আর কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা জানান, জিও টিউবে প্রেশার দিয়ে বালু ভরাতে হয়। এজন্য ব্রহ্মপুত্র থেকে আনা একাধিক বালুর ট্রলার ব্যবহার করা হচ্ছে। গাইবান্ধা থেকে আনা হয়েছে প্রশিক্ষিত শ্রমিক। ওজন বেশি হওয়ায় জিও টিউব পানির গভীরে গিয়ে খনন বাঁধাগ্রস্ত করে। ফলে ভাঙন থেমে যায়। সারিবদ্ধ টিউবের উপর ঢেউ আছরে পরলেও কোন ক্ষতি হয় না।

আরও পড়ুন : দেশের সবচেয়ে বড় ব্রাংঘাস গরু আমিষ এগ্রোতে

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, জিও টিউব দিয়ে কয়েকটি স্পটে ভাঙন ঠেকানো গেছে। এই প্রযুক্তি কুড়িগ্রামের নদ-নদীর ভাঙন প্রতিরোধে আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠেছে। এতে খরচ কম; অথচ টেকসই। বন্যা পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জনগণ রক্ষণাবেক্ষণ করলে দীর্ঘ সময় ধরে জনপদ রক্ষা করবে এই টিউব।

ওডি/এএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]m

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড