• রোববার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফেনীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৮০ হাজার পশু

  এস এম ইউসুফ আলী, ব্যুরো প্রধান (ফেনী)

১৩ জুলাই ২০২১, ১৬:১৭
ফেনী
কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশু (ছবি : দৈনিক অধিকার)

প্রতিবারের মতো এবারও ফেনী জেলার পাঁচটি পৌরসভা ও ছয়টি উপজেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১৩০টি পশুর হাট বসবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেই সাথে কোরবানির জন্য ৭২ হাজার পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে স্থানীয়ভাবে লালন পালন করা ৮০ হাজারের অধিক গরু, ছাগল ও মহিষ।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রতি বছর ফেনীতে কোরবানির জন্য ৭২ থেকে ৭৫ হাজার গরু, ছাগল ও মহিষের প্রয়োজন পড়ে। এবার করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেকেই বসতবাড়ি ও তার আশপাশে বাণিজ্যিকভাবে গরু ও মাহিষের খামার গড়ে তুলেছেন। এতে করে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার অনেক বেশি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, জেলায় বিভিন্ন গৃহ ও খামারে বর্তমানে বিক্রিযোগ্য ৮০ হাজার ৮৬৫টি গবাদি প্রস্তুত রয়েছে। এরমধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ২১ হাজার ৩২২টি, দাগনভূঞা ৫ হাজার ৮৩০টি, ছাগলনাইয়ায় ১৮ হাজার ৭২৫টি, সোনাগাজীতে ১৭ হাজার ৫০৫টি, ফুলগাজীতে ৫ হাজার ২০৬টি এবং পরশুরামে আট হাজার ২২৭টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

সোনাগাজীর উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের মহিষ খামারি আবুল হোসেন বলেন, তার খামারে এখন ৭৫টি মহিষ রয়েছে। এগুলো কোরবানির বাজারে বিক্রি করতে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিটি মহিষ ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।

ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের আবদুল ওহাব রিয়াদ ভূঞা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ফেনী শহরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে গরু খামার গড়ে তোলেন। তার খামারে এখন ২০ টি মোটাতাজাকরণ চলছে। প্রতিটি গরু প্রকারভেদে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাবেন বলে তিনি মনে করছেন।

ফেনী সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ কৃষি ও পশুপালনে নিয়োজিত হয়েছেন।আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রাণীসম্পদ বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।

ফেনী জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনিসুর রহমান জানান, ফেনীতে কোরবানির জন্য ৭২ হাজার পশুর চাহিদার বিপরীতে জেলার বিভিন্ন খামারে প্রস্তুতকৃত ৮০ হাজারের অধিক গুরু, ছাগল ও মহিষ বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে।

এদিকে, করোনার প্রাদুর্ভাবের পাশাপাশি চোরাইপথে ভারতীয় গরু এলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

ভারতীয় গরুর প্রবেশ প্রসঙ্গে খামারি সাজেল চৌধুরী বলেন, পরশুরামের বক্সমাহমুদের খাজুরিয়া ও মির্জানগর সীমান্ত দিয়ে প্রতি রাতে কয়েকশ গরু প্রবেশ করে। এভাবে যদি গরু ঢোকে, তাহলে দেশি খামারিদের সব কষ্ট, শ্রম ও পুঁজি বৃথা যাবে।

সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধে নজরদারি বাড়িয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে। ফেনীস্থ ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুর রহিম বলেন, কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্তে গরু চোরাচালান রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবির সদস্যরা, বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও।

ফেনীর জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, অবৈধ পথে ভারতীয় পশু আসা বন্ধ করার জন্য বিজিবি ও পুলিশকে টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গরু বাজারে আসা ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet