• বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইমাম হত্যার ঘটনায় এখনো গ্রেফতার হয়নি কেউ

  মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান

২৩ জুন ২০২১, ২১:১৯
হত্যাকাণ্ডের শিকার ইমাম মোহাম্মদ ওমর ফারুক (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার ইমাম মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৫২) এর হত্যাকারীদের কাউকে গত ৫ দিনেও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় নিহত ওমর ফারুকের স্ত্রী বাদী হয়ে রোয়াংছড়ি থানায় অজ্ঞাতনামা ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

রোয়াংছড়ি থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টায় অভিযান চলছে। এ ঘটনার পর রোয়াংছড়ি উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বান্দরবান শহরে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে স্থানীয়রা কয়েক দফায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পাশাপাশি লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ এবং পাহাড়ে বসবাসরত ভুক্তভোগী জনসাধারণ সন্ত্রাসীদের রুখতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের দাবি তোলেন।

অন্যদিকে, এ ঘটনার পরপরই বান্দরবান সদর উপজেলার ২নং কুহালং ইউনিয়নের ভাংগামুড়া চেমীর মুখ এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এক কৃষি খামারিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শনিবার থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েও অপহৃতের কোন হদিস পায়নি।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে ভাঙ্গা মুড়াপাড়া এলাকা থেকে খামারের মালিক নুরুল হক, গাড়িচালক মো. রায়হান ও কর্মচারী শহীদ কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের সবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী চন্দনাইশ উপজেলায়। তারা গাড়িতে যাওয়ার সময় চেমীর মুখ এলাকার কুহালং পাড়া ও বটতলী পাড়ার মাঝামাঝি স্থানে চার থেকে পাঁচজনের একদল সন্ত্রাসী গতিরোধ করে। এ সময় গাড়ি থেকে চালক রায়হান ও কর্মচারী শহীদকে নামিয়ে দিয়ে খামারের মালিক নুরুল হককে অপহরণ করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। তাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদ জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ইমাম ওমর ফারুকের স্ত্রী। এই ঘটনায় আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টায় অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, হত্যাকাণ্ডে নিহত ওমর ফারুক (৫২) পূর্বে খ্রিস্টানধর্ম ত্যাগ করে ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি রোয়াংছড়ি উপজেলার তুলাছড়ি পাড়ার কাছে নিজের জায়গায় একটি মসজিদ স্থাপন করে ওই মসজিদে ইমামতি করতেন। সে কারণে পাহাড়ের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ শুক্রবার (১৮ জুন) রাত ৯টার দিকে তাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এই সন্ত্রাসীরা যুগ যুগ ধরে পাহাড়ে জনসাধারণকে অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তারা দরিদ্র জনগণকে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায় ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড