• বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গাজীপুরে জমে উঠেছে কাঁঠালের বাজার

  আব্দুর রউফ রুবেল, গাজীপুর

১৬ জুন ২০২১, ১২:২০
গাজীপুরে জমে উঠেছে কাঁঠালের বাজার
পাইকাররা ভ্যানগাড়িতে করে কাঁঠাল নিয়ে বাজারে যাচ্ছেন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও এখন মূলত সারাবছরই ফলটি কম-বেশি বাজারে পাওয়া যায়। কাঁঠালের হলদে রঙের রসালো কোষ ও চমৎকার স্বাদ-গন্ধের জন্য ফলটি খুবই জনপ্রিয়।

কাঁঠাল বাংলাদেশের সব এলাকায় কম-বেশি ফলে। সবচেয়ে বেশি হয় উঁচু লাল মাটিতে। এ জন্য গাজীপুরকে বলা হয়ে থাকে কাঁঠালের রাজধানী। তাছাড়া এই জেলা ছাড়াও দেশের সব জায়গায় ফলে সুমিষ্ট এই ফল। বিশেষ করে উঁচু অঞ্চল, ময়মনসিংহ, সাভার, ভাওয়াল মধুপুরের গড়, বৃহত্তর সিলেট জেলার পাহাড়ি এলাকা, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকায় কাঁঠাল ভালো উৎপন্ন হয়। তবে সারাদেশে প্রসিদ্ধ এবং জনপ্রিয় হচ্ছে গাজীপুরের কাঁঠাল।

স্থানীয় লোকদের দাবি, শ্রীপুরে সারা বছর কাঁঠাল সংরক্ষণের মতো ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এমনকি এই অঞ্চলে একটি কাঁঠালের জাদুঘরও গড়ে তোলা দরকার।

কাঁঠালের রাজধানী গাজীপুরের চারিদিকে এরই মধ্যে পাকা কাঁঠালের মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। হাটে-বাজারে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে হাজার হাজার কাঁঠাল। গাছ থেকে কেউ পাড়ছেন, কেউ খাচ্ছেন, কেউবা আবার বিক্রির জন্য হাটে-বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রায় সব এলাকাতেই চোখে পড়ে এমন দৃশ্য।

বাগান মালিকেরা প্রতিদিন ভোরে বাগান থেকে পাকা কাঁঠাল সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য ভ্যান, ঠেলাগাড়িতে করে নিয়ে আসছেন বাজারে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে চলছে কাঁঠালের ভরা মৌসুম। এলাকার ভ্যান-ঠেলাগাড়ি এবং রিকশা চালকরা এ সময় শুধু কাঁঠাল আনা-নেওয়ার কাজ করে থাকেন। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলেই দেখা যায় মহাসড়কের ওপর ট্রাকের বহর। বিভিন্ন আড়তের সামনে থেকে লাইন ধরে ট্রাকগুলোতে কাঁঠাল তোলা হচ্ছে।

এখানকার উৎপাদিত কাঁঠাল মিষ্টি, সুস্বাদু ও স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয়। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় এখান থেকে কাঁঠাল নিয়ে বিক্রি করলে ভালো লাভ পাওয়া যায়।

এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজারে বসে দেশের সর্ববৃহৎ কাঁঠালের বাজার। বাজারে কাঁঠালের মৌসুমে প্রতিদিন দিনে রাতে বিক্রি হয় হাজার হাজার কাঁঠাল। সব সময়ই কাঁঠালের বেচা-কেনা চলে। তবে জমজমাট থাকে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা আসেন গাজীপুরের শ্রীপুরের জৈনাবাজার হাটে। নিয়ে যান রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

বাগান থেকে বাজারে আনা, কেনা-বেচা, গাড়িতে ওঠানো-নামানোসহ বাজারটিতে বিভিন্ন কাজ করে শত শত লোক। জৈনাবাজারের আশপাশে অনেক কাঁঠালের বাগান রয়েছে। ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পাইকারদের থাকা-খাওয়ার অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধার কারণে জৈনাবাজার হয়ে উঠেছে কাঁঠালের সবচেয়ে বড় বাজার।

আরও পড়ুন : হারিয়ে যাচ্ছে ‘গাড়িয়াল ভাই’ ও গরু-মহিষের গাড়ি

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছানো যায় শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায়। জৈনাবাজার পৌঁছানোর কিছু আগে থেকেই কাঁঠালের বাজারের কারণে হালকা যানজট থাকে। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে সামনে গিয়ে চোখে পড়লো কাঁঠালের হাট। যানজটও হয়েছে হাটের কারণেই।

বাজার ছাড়িয়ে মহাসড়কের অর্ধেক জোড়েই বিশাল কাঁঠালের হাট। ছোট ছোট ঠেলাগাড়িতে কাঁঠাল ভরে বাজারে নিয়ে আসছেন। সড়কের পশ্চিম পাশে সারিবদ্ধভাবে ঠেলাগাড়ি, ট্রাক, রিকশায় করে কাঁঠাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিক্রেতারা। আড়তদাররা কিনে পাশেই স্তূপ করে রাখছেন। কৃষকরা কাঁঠাল নিয়ে বাজারে আসছেন। এ বছর ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন স্থানীয় কাঁঠাল উৎপাদনকারীরা।

গাজীপুরে জমে উঠেছে কাঁঠালের বাজার

বাজারের সামনে বিক্রির জন্য ভ্যানগাড়িতে রাখা কাঁঠাল (ছবি : দৈনিক অধিকার)

তাছাড়া গাজীপুরের কাপাসিয়া, আমরাইদ, বরমী, এমসি বাজার, নয়নপুর বাজার, রাজাবাড়ি, বাঘের বাজার, বানিয়ার চালা, ভবানীপুর ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে বড় বড় কাঁঠালের বাজার বসছে। মধুমাস জ্যৈষ্ঠের শুরুতে এ রকম চিত্র চলে আষাঢ় মাসের শেষ পর্যন্ত।

শ্রীপুরের আবদার এলাকার বাসিন্দা আফাজ উদ্দিন জানান, বাড়িতে ৬০টি কাঁঠাল গাছ আছে। প্রতি বছরের মতো এ বছর এতো কাঁঠাল ধরেনি তবে দাম মোটামুটি ভালো।

সিলেট থেকে কাঁঠাল কিনতে আসা পাইকার খসরু মিয়া জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কাঁঠালের ফলন একটু কম কিন্তু চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। তাই চাষিরাও পাচ্ছে ন্যায্য মূল্য। তবে পরিবহন ভাড়া টা একটু বেশি। পরিবহন ভাড়াটা আরেকটু কম হলে আরও দাম দিয়ে কাঁঠাল কেনা যেত।

জৈনাবাজার হাটের ইজারাদার শাহাবুদ্দিন জানান, এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁঠাল আসতে শুরু করেছে। করোনা ভাইরাস মহামারিতে সরকারি বিধি নিষেধ শিথিল করায় ও বাজারের খাজনা কম থাকায় দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছে।

তিনি জানিয়েছেন, বাজারটি ঢাকা সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা আসেন। প্রতিদিন ৫০-৬০টি ট্রাক ভর্তি করে কাঁঠাল চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। এবার কাঁঠাল প্রতি খাজনা নেওয়া হচ্ছে ২ টাকা যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম। বাজারের পাইকার থাকায় চাষিরা পাচ্ছে কাঁঠালের ন্যায্য মূল্য।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম মূয়ীদুল হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকায় কম-বেশি কাঁঠাল গাছ দেখা গেলেও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এর চাষ অনেক বেশি। এখানে প্রায় সব বাড়িতেই কাঁঠালের গাছ রয়েছে। উপজেলার সর্বত্রই মৌসুমি ফল কাঁঠাল কেনা-বেচার হাট জমে উঠেছে।

আরও পড়ুন : বরমী বাজারের দুঃখ যেন কেন্দুয়া ব্রিজ

তিনি আরও বলেন, কাঁঠালে রয়েছে চমৎকার স্বাদ ও সুগন্ধের পাশাপাশি মানব শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানাবিধ পুষ্টিগুণ। কাঁঠালে বিদ্যমান নানা ভিটামিন ও মিনারেলস বা খনিজ পদার্থ স্বাস্থ্যের নানারকম উপকার সাধন করে। কাঁঠাল চাষ করে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয় করাও সম্ভব। এছাড়া দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত উৎপাদন বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। তাই আমরা কৃষকদেরকে কাঁঠাল চাষে আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

ওডি/কেএইচআর

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড