• রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাহাড়ে উন্নয়নের নামে লুটপাট

  এম.কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি

১০ জুন ২০২১, ১৩:৩৪
dfhgdf
ছবি : দৈনিক অধিকার

পাহাড়ে রাস্তা ঘাট ও ব্রীজ কালভার্ট উন্নয়নের নামে চলছে লুটপাট। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে ব্যাপক বরাদ্দ দিয়ে আসছে। এক কথায় পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। তা হলে কি হবে চোর ডাকাতরা প্রতি নিয়ত উন্নয়ন কাজে লুটপাট করে আসছে। তার জলন্ত দৃশ্য বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের একরাম পাড়ার ৮ নং ওয়ার্ড এ নির্মিত এই ব্রীজটি।

জানা গেছে, এই ব্রিজটি ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের অর্থ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই সময়ে ঠিকাদার হিসেবে কাজটি সম্পন্ন করেন বাঘাইছড়ি উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মো. শাহরিয়ার হোসেনের বড় ভাই মো. আবুল কাসেম। আর কাজটি তদারকি করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। স্থানীয় ভাবে দেখবাল করার কথা ছিল তৎকালীন আমতলী ইউপি চেয়ারম্যানের।

স্থানীয় লোকজন জানান, ব্রীজটি সেই সময় নামে মাত্র নির্মাণ করা হয়েছিল। একটি ব্রীজ নির্মাণ করতে যে সকল মালামাল ব্যবহার করার কথা তা সঠিক ভাবে দেওয়া হয়নি। ব্রীজটি নির্মাণে ব্যাপক লুটপাট করা হয়েছিল। একটি ব্রীজ যদি ৬-৭ বছরে ভেঙ্গে যায় তাহলে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কেন ব্রীজ নির্মাণ করে? আমাদের দাবি ব্রীজ নির্মাণের সাথে যারা জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হউক। বর্তমানে ব্রীজটি মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের বিপদ হতে পারে।

আমতলী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. রাসেল চৌধুরী বলেন, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রালয়ের অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস এসব ব্রীজ কালভার্ট নির্মাণ করে থাকেন। সে সুবাদে ৬-৭ বছর আগে ব্রীজ নির্মানের কাজ করেছেন উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শাহরিয়ার হোসেনের বড় ভাই ঠিকাদার মো. আবুল কাসেম। একটি ব্রীজ নির্মানে ৩ সুতা রড ও তিন ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে ব্রীজ নির্মাণ করা হলে যা হয় তাই হয়েছে। ৫-৭ বছর যেতে না যেতেই ব্রীজ অকেজো হয়ে পড়েছে। এধরনের লুটপাট থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে চাই।

আমতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মো. রুবেল আলম বলেন, ব্রীজটি নির্মাণে যে সকল সরঞ্জাম দেওয়ার কথা ছিল তার কিছুই ব্যবহার করা হয়নি। ব্রীজটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাট করা হয়েছে। ব্রীজটির যে পরিনতি হয়েছে তাতে যে কোন সময় বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। ব্রীজটি তদন্ত করতে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ার কারনে লংগদু উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে এবং ভোগান্তির স্বীকার আমতলী ও লংগদুবাসী। এ ধরনের উন্নয়নে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে কতিপয় ঠিকাদার মহল।

বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা প্রবীণ সাংবাদিক দীলিপ কুমার দাশ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। একটি ব্রীজ নির্মাণে যদি এধরনের অনিয়ম দুর্নীতি হয় তাহলে আমরা যাব কোথায়। যারা উন্নয়নের নামে ব্রীজ নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে কঠোর হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আমতলী ব্রীজ ভেঙ্গে পড়েছে বিষয়টি আমি জেনেছি। সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি ব্যাপারে ঠিকাদারকে ডাকা হয়েছে, দেখি তাকে দিয়ে ব্রীজের কাজ করানো যায় কিনা। সে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে ঠিকাাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তৎকালীন ব্রীজ নির্মাণ ঠিকাদার আবুল কাসেম ব্রীজ নির্মাণের কথা অস্বীকার করে বলেন, কোন সালে আমতলী ইউনিয়নে ব্রীজ নির্মাণ করেছি তা খতিয়ে দেখতে হবে। এখন বিষয়টি সঠিক মনে পড়ছে না।

ওডি/

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড