• শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নওগাঁয় ১৬ জুন পর্যন্ত বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ

  কাজী কামাল হোসেন, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী

০৯ জুন ২০২১, ১৮:২৬
ছবি : দৈনিক অধিকার

নওগাঁয় সাতদিনের আংশিক লকডাউন শেষে আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত পুরো জেলায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বুধবার (৯ জুন) দুপুর ২টায় নওগাঁ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ এ ঘোষণা দেন।

সম্প্রতি উদ্বেগজনকহারে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নওগাঁয় ৩ জুন থেকে নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন এবং সাপাহার, পোরশা ও মান্দা উপজেলার হাটবাজার এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার থেকে জেলায় সাত দিনের আংশিক লকডাউন ও বিধিনিষেধের শেষ দিনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘সাত দিনের আংশিক লকডাউন ও বিধিনিষেধ আরোপের কিছুটা সফলতা আমরা পেয়েছি। বুধবার থেকে সাত দিন আগে করোনা সংক্রমণের হার যেখানে ২৫ শতাংশের উপরে ছিল, সেটা এখন ৮ শতাংশের কাছাকাছি নেমেছে। গত মঙ্গলবার জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির মিটিংয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংক্রমণ স্থিতিশীল হওয়ায় আগামীকাল থেকে আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত পুরো জেলায় ১৫ দফা বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত হয়।

১৫ দফা বিধিনিষেধে বলা হয়, নওগাঁ জেলায় সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। হোটেল রেস্তোরা শুধুমাত্র পার্সেল আকারে বা অনলাইনে অর্ডার গ্রহণ করে খাবার বিক্রয় করতে পারবে। রাস্তার পাশে চায়ের দোকান খোলা রাখা যাবে না। ওষুধ, খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসাসেবার মতো প্রয়োজন ছাড়া সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না।

ঘোষণা অনুযায়ী, নওগাঁ জেলার সঙ্গে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার যাতায়াতের সকল পথ বন্ধ থাকবে। জেলার অভ্যন্তরে নিয়ামতপুর উপজেলা ব্যতীত অন্যান্য উপজেলায় বাস ও মাইক্রোবাস আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। সিএনজি ও অটোরিকশা শুধুমাত্র দুইজন যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে।

আমের বাজার, কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্রয়বিক্রয় করা যাবে। শতভাগ মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইন আমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমার নামাজসহ প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও সমানসংখ্যক ব্যক্তি উপাসনা করতে পারবেন।

এ সময় পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া, সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ, নওগাঁ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উত্তম কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইব্রাহীম হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ বলেন, জেলায় র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ও আরটিপিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে করোনা রোগী শনাক্ত করা হচ্ছে। আগের তুলনায় গত সাত দিনে করোনা শনাক্তের হার কিছুটা নিম্নমুখী। তবে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। কারণ গত রবিবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনে নওগাঁয় দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে চলতি পথের উপসর্গহীন মানুষের করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা করে উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। জেলার ১১টি উপজোয় ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্প করে ১ হাজার ৮০৬ জন চলতি পথের মানুষের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে করা হয়। এতে ১৬৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। শনাক্ত হওয়া এসব ব্যক্তির অধিকাংশই উপসর্গহীন ছিলেন।

প্রায় ৩০ লাখ মানুষের এই জেলায় শনাক্তের বাইরে থেকে যাওয়া আক্রান্তের সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা পেতে স্বাস্থ্য বিভাগ গত রবিবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সদরসহ ১১ উপজেলায় একযোগে এই অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষার যে ফলাফল পাওয়া গেছে তাতে আমাদের কাছে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে। ফলাফল দেখে মনে হয়, জেলায় উপসর্গহীন আছে এমন আক্রান্তের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৩ বা ৪ শতাংশের কাছাকাছি। যাদের অধিকাংশই এখনও শনাক্তের বাইরে। তাই সংক্রমণ রোধ করতে পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি মানুষকে সচেতন হতে হবে। সবাই স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’

সীমান্ত জেলা নওগাঁয় ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছিল ইদের পর থেকেই। দৈনিক শনাক্ত রোগী বাড়তে থাকায় গত ৩ জুন থেকে নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় সর্বাত্মক লকডাউন ও সাপাহার, পোরশা ও মান্দা উপজেলায় হাটবাজার এলাকায় বিধিনিষেধ জারি করে জেলা প্রশাসন।

২৪ ঘণ্টায় আরও ৫২ জনের করোনা শনাক্ত

নওগাঁ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ২৯২ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ওই ৫২ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৮১ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ওই ৩৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৯২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এদিকে চলতি জুন মাসের ১ম দিন ৬৭জন করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৩ জন, ২য় দিন ১৫ জন, ৩য় দিন ২৩ জন, ৪র্থ দিন ২৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে ১ জন, ৫ম দিন ২৪ এবং মৃত্যুবরণ করেছে ১জন, ৬ জুন আক্রান্ত হয়েছে ৯৫ জন, ৭ জুন আক্রান্ত হয়েছে ১১৯ জন এবং ৮ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৬ জন ও মৃত্যুবরণ করেছে ৩ জন।

নওগাঁয় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ২৩ এপ্রিল। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৬১১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৫৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা পুরো জেলার করোনা শনাক্তের প্রায় ৪৪ শতাংশ। জেলায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৯২ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪৮ জন মারা গেছেন। মৃত্যের হার ১ দশমিক ৯১ শতাংশ।

করোনা মোকাবিলায় নওগাঁ স্বাস্থ্য বিভাগ

নওগাঁ করোনা চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ আধুনিক হাসপাতালসহ ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ আধুনিক হাসপাতালে ৪৫টি, সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি এবং জেলার অপর ৯টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫টি করে মোট ১৩৫টি শয্যা রয়েছে।

জেলার ১১টি সরকারি হাসপাতালের কোনোটিতেই আইসিইউ শয্যা নেই। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে চারটি হাসপাতালে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ আধুনিক হাসপাতাল, নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা আছে। বাকি ৭টি সরকারি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নেই। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১ হাজার ১৪৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে।

জেলায় বর্তমানে ৫০০ জন করোনা রোগীর মধ্যে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৬২ জন রোগী জেলার সরকারি হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকিদের অধিকাংশই বাড়িতে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পার্সন ও ডেপুটি সিভিল সার্জন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন, জেলার করোনা পরিস্থিতি জানার জন্য এবং মানুষকে নমুনা দিতে আগ্রহী করতে গত রবিবার থেকে জেলার ১১টি উপজেলায় সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। বর্তমানে করোনা রোগীর জন্য প্রস্তুত করা সংখ্যার চেয়ে করোনা রোগী কম থাকলেও ভবিষ্যতে করোনা রোগী বেড়ে গেলে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড