• রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চার বছরেও হয়নি সীমানা নির্ধারণ

দোহাজারীতে পৌর নির্বাচন চেয়ে মুক্তিযোদ্ধার আবেদন

  কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

০৯ জুন ২০২১, ১৬:৩৪
ছবি : দৈনিক অধিকার

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ইউনিয়নকে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়েছে চার বছর আগে। কিন্তু সীমানা নিয়ে জটিলতা থাকায় শুরু হচ্ছে না নির্বাচন প্রক্রিয়া। দোহাজারী ইউনিয়নকে পৌরসভায় উন্নীত করে ২০১৭ সালের ১১ মে গেজেট প্রকাশের পর থেকে পদাধিকারবলে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। বিভিন্ন মেয়াদে চার জন প্রশাসক দায়িত্ব পালন করলেও সীমানা নির্ধারণ জটিলতা নিরসন হয়নি।

বিলুপ্ত দোহাজারী ইউনিয়ন (সম্পূর্ণ অংশ) ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের হাছনদন্ডী ৮ নং ও ৯নং ওয়ার্ড নিয়ে নবগঠিত দোহাজারী পৌরসভার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য/সদস্যাদের সমন্বয়ে সহায়ক কমিটি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে ডিও লেটার দিলেও এখন পর্যন্ত সহায়ক কমিটি গঠিত হয়নি।

বিলুপ্ত দোহাজারী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ও ৬ নং ওয়ার্ড এবং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মৃত্যুবরণ করায় ওই তিন ওয়ার্ডের জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সরকারপ্রদত্ত কিংবা সংস্থা বা ব্যক্তি প্রদত্ত ত্রাণ বন্টনে অসুবিধা হচ্ছে। বয়স্ক, বিধবা, মাতৃকালীন, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী নির্বাচনে অসুবিধার পাশাপাশি জন্ম-মৃত্যু, নাগরিক, ওয়ারিশ সনদ প্রাপ্তিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রাম্য বিরোধ স্থানীয়ভাবে মীমাংসায় অসুবিধা, উন্নয়ন কাজের প্রকল্প প্রস্তাব প্রেরণ ও সুষ্ঠু তদারকিতেও হচ্ছে সময়ক্ষেপণ।

নবসৃষ্ট দোহাজারী পৌরসভার নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবিতে বিলুপ্ত দোহাজারী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নাগরিকদের পক্ষে গত ২২মে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী বরাবরে এলাকাবাসীর স্বাক্ষর সম্বলিত লিখিত আবেদন করেছেন জামিজুরী বড়ুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাবেক অফিস সুপার ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চন্দনাইশ উপজেলা কমান্ডের সাবেক সহকারী কমান্ডার এবং দোহাজারী মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল কান্তি বড়ুয়া।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর নির্বাচন হওয়া দরকার। এরই ধারাবাহিকতায় যেমন সংসদ নির্বাচন হয়, তেমনি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়া দরকার। তাহলে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। তবে সীমানা নির্ধারণ জটিলতা ও হাছনদণ্ডী এলাকার একজন বাসিন্দার হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন মামলা এবং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৮ নং ও ৯ নং ওয়ার্ডকে দোহাজারী পৌরসভার সাথে অন্তর্ভুক্ত করার জটিলতায় দোহাজারী পৌরসভার নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাঁর নিজের দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় বিধায় পৌরসভা পরিচালনায় তিনি পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারায় প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে মাননীয় সাংসদের নিকট লিখিত আবেদন করার পর গত ২৯ মে উপজেলা সমন্বয় সভায় দোহাজারী পৌরসভার নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি উত্থাপন করে জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাংসদ মহোদয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউ.পি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতিও এ বিষয়ে জোর সুপারিশ করেছেন বলে পত্রিকা মারফত জেনেছি। আশা করি, মামলা জটিলতা নিরসন ও সীমানা নির্ধারণ করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

জানা যায়, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ইউনিয়নকে পৌরসভায় রূপান্তরের জন্য ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় দোহাজারী ইউনিয়নের নয়টি ও পার্শ্ববর্তী সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দুইটি ওয়ার্ড নিয়ে ২০১৭ সালে গঠিত হয় দোহাজারী পৌরসভা। ওই বছরের ১১মে দোহাজারী ইউনিয়নকে পৌরসভায় উন্নীত করে সরকারি গেজেট বা পরিপত্র জারি করা হয়।

দোহাজারী পৌরসভার ওয়ার্ড বিভক্তি ও পুনর্বিন্যাসকরণের জন্য ২০১৭ সালের ১৪ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী সচিব এ.কে.এম আনিছুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক পত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে সহকারী সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। সেই পত্রের আলোকে দোহাজারী পৌরসভার ওয়ার্ড বিভক্তিকরণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত (আয়তন, জনসংখ্যা, ভোটার, ম্যাপ, সীমানা ইত্যাদি) সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের নিমিত্তে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে ওই দুই কর্মকর্তার দপ্তরে একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। এরপর প্রায় চার বছর কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বিভাগ ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট চন্দনাইশ উপজেলাধীন দোহাজারী পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে উপজেলার দোহাজারী ইউনিয়নের চাগাচর, দোহাজারী, রায়জোয়ারা, হাতিয়াখোলা, জামিজুরী, দিয়াকুল ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের হাছনদন্ডী মৌজা নিয়ে শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এ প্রজ্ঞাপন জারির অনুর্ধ্ব এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি উত্থাপন করতে পারবেন বলে নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এরপর ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর উল্লেখিত এলাকাসমূহকে শহর এলাকা ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব এ.কেএম আনিছুজ্জামান প্রজ্ঞাপন জারি করেন। এ কারণে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে দোহাজারী পৌর ও সাতবাড়িয়া ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তখন থেকে দোহাজারী পৌরসভায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

এদিকে দোহাজারীকে শহর এলাকা ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারির পর সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের (হাছনদন্ডী মৌজা) ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডকে দোহাজারী পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধে সাতবাড়িয়া এলাকার একজন বাসিন্দা বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং- ১২৪৫৮/২০১৫) দাখিল করেন। এই প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দোহাজারী পৌর ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নির্বাচন এখনো পর্যন্ত বন্ধ হয়ে আছে।

এ ব্যাপারে সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আহমদুর রহমান বলেন, দোহাজারী পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ না হওয়ায় সাতবাড়িয়া ইউপি নির্বাচনও ঝুলে আছে। সাতাড়িয়া ইউনিয়নের দুইটি ওয়ার্ডকে সংযুক্ত করে দোহাজারীকে পৌরসভা ঘোষণার পর এলাকাবাসীর অনুরোধে হাছনদন্ডী মৌজাকে পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধে আমি একটি মামলা করেছিলাম। স্থানীয় সাংসদের নির্দেশে ও দোহাজারীবাসীর অনুরোধে আমি সেই মামলা প্রত্যাহার করেছি। অবিলম্বে সীমানা নির্ধারণ করে সাতবাড়িয়া ও দোহাজারী পৌরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান তিনি।

পৌরসভার বিরুদ্ধে মামলাকারী মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, পৌরসভার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলে বিভিন্ন রকমের পৌর ট্যাক্স দিতে হয়। এ কারণে আমরা হাছনদন্ডীবাসী পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হতে চাই না। এ জন্য আমরা পৌরসভার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। যাতে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারি।

স্থানীয় সচেতন মহল জরুরিভাবে দোহাজারী পৌরসভা ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নির্বাচন করার লক্ষে হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের জবাব দাখিলের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় দুই এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হবে বলে দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘দোহাজারী পৌরসভায় নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের জন্য বিগত সময়ে কয়েকজন নির্বাহী কর্মকর্তা রিট পিটিশনের জবাব দেননি। এমনকি সহায়ক সদস্যদের তালিকা পর্যন্ত অনুমোদন করেননি, জবাবদিহিতা না করার অজুহাতে। সম্প্রতি যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খুবই কর্তব্যপরায়ণ। পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ ও সহায়ক কমিটি গঠন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করতে ইতিমধ্যে তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছি। ইতোমধ্যে তিনি কাজ শুরু করেছেন, আশা করি শীঘ্রই সমস্যাটির সমাধান হবে।’

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড