• শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অনিশ্চয়তা নির্ধারিত সময়ে মডেল মসজিদ নির্মাণ

  নাজির আহমেদ আল-আমিন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

০৯ জুন ২০২১, ১০:১৬
নির্মাধীন মসজিদ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের গোছামারা ইদগাহ মাঠের পাশে মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে নির্ধারীত সময়ে নির্মাণ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদিও মডেল মসজিদ নির্মাণে মাটির নিচের অবকাঠামো এবং মাটির উপরে প্রথম তলার নিচের বিমের কাজ শেষে থমকে থাকার কারণে রডগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে। ফলে দিনে দিনে রডের কার্য ক্ষমতা কমছে বহুগুণে। আর এমন দৃশ্য দেখে উপজেলার সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ আর হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশপাশের জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় দৃষ্টি নন্দন মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ভৈরবে মডেল মসজিদ নির্মাণে ঠিকাদারের ধীরগতি আর অবহেলার কারণে আটকে গেছে নির্মাণ কাজ। ফলে উপজেলার ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার মুসলমানদের মনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাই, দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাজমুল হাসান পাপনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলাবাসী।

সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ফাউন্ডেশনের তত্বাবধায়নে ও গণপূর্ত বিভাগের তদারকিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ফলে সারা দেশের মতো ভৈরব উপজেলায় একটি মডেল মসজিদ নির্মাণে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় ১৩ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। আর এই মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হেলাল এন্টারপ্রাইজ। যদিও পরে হেলাল এন্টারপ্রাইজ থেকে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট সাব ঠিকাদার হিসেবে নির্মাণ কাজের দায়িত্ব বুঝে নেন এবং ২০১৯ সালের শেষ সময়ে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কিন্তু নির্মাণ কাজে সাব ঠিকাদারের ধীরগতি আর অবহেলার কারণে আটকে যায় নির্মাণ কাজ। একই সঙ্গে বরাদ্দের টাকা না আসায় কাজ বন্ধ করে সাব ঠিকাদার। ফলে দুবছর মেয়াদী নির্মাণ কাজ নির্ধারীত মেয়াদে শেষ করা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এ প্রসঙ্গে শিমুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান যোবায়ের আলম দানিস বলেন, কাজ শুরুর পর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কাজ শেষ না হতেই নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের ধীরগতি এবং বরাদ্ধে টাকা না পাওয়ায় মডেল মসজিদ নির্মাণ এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

ভৈরবে মডেল মসজিদ নির্মাণ তত্বাবধায়নে থাকা উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. ওমর ফারুক জানান, আসলে উপজেলা পরিষদ বা পৌরসভা কেন্দ্রীক মডেল মসজিদটি নির্মাণে প্রথম থেকেই অবহেলার শিকার হয়েছে। এই মসজিদ নির্মাণে মাত্র ৪০ শতাংশ ভূমির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু উপজেলা পরিষদের আশপাশে কিংবা পৌর এলাকায় ভূমি না পাওয়ায় অবশেষে শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা কবরস্থান সংলগ্ন ইদগাহ মাঠের পাশে জায়গা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সেখানে নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের ধীরগতি কারণে বরাদ্ধের টাকা আসা কমে যায়। ফলে মডেল মসজিদ নির্মাণে মাটির নিচের অবকাঠামো এবং মাটির উপরে প্রথম তলার নিচের বিমের কাজ শেষে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক বছর ধরে কাজ বন্ধের কারণে মরিচা পড়ে রডগুলো নষ্ট হচ্ছে। ফলে দিনে দিনে রডের কার্য ক্ষমতা কমছে বহুগুণে।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সায়দল্লাহ মিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকার্ষণ করে দ্রুত কাজ শুরু করার আহবান জানান। আর এই মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সরকারের ভাব-মূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। একই সঙ্গে সরকারের সুনাম বয়ে আনবে বলে মনে করে তিনি।

এছাড়াও এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবিএম আশরাফুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, যেসব মডেল মসজিদ নিমার্ণ কাজের অগ্রগতি ছিল। সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বরাদ্দের টাকা সংকটের কারণে যেগুলোর কাজে ধীরগতি ছিল। সেগুলোর টাকা বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে ঠিকাদাররাও নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। তবে, এ বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত বরাদ্ধের টাকা ছাড় হবে। আর টাকা আসলেই নির্মাণ কাজও শুরু হবে।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড