• বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নওগাঁয় সংক্রমণ কমলেও স্বস্তি নেই

  কাজী কামাল হোসেন, ব্যুরো প্রধান (রাজশাহী)

০৮ জুন ২০২১, ১৮:৩১
আটক
করোনা টেস্ট (ছবি প্রতীকী)

নওগাঁ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে মান্দায় ১ জন, পত্নীতলায় ১ জন এবং ধামইরহাটে ১ জন রয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোলরুম সূত্র মতে গত সোমবার সকাল ৮ থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টায় এই মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটান ঘটেছে।

সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ জানিয়েছেন, এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৬ ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ সময় মোট জেলায় ৪৭৪ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৭২ ব্যক্তির এ্যান্টিজেন এবং ২ ব্যক্তির পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আক্রান্তের হার ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ালো ২৫৪০ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় ৮ জন, আত্রাই উপজেলায় ১ জন, মহাদেবপুর উপজেলায় ৩ জন, মান্দা উপজেলায় ৭ জন, বদলগাছি উপজেলায় ৩ জন, ধামইরহাট উপজেলায় ৩ জন, নিয়মতপুর উপজেলায় ৭ জন এবং সাপাহার উপজেলায় ৪ জন।

এদিকে চলতি জুন মাসের ১ম দিন ৬৭জন করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যু বরণ করেছে ৩জন, ২য় দিন করোনায় আক্রান্ত ১৫জন, ৩য় দিন করোনায় আক্রান্ত ২৩ জন, ৪র্থ দিন করোনায় আক্রান্ত ২৪জন এবং মৃত্যু বরণ করেছে ১জন, ৫ম দিন করোনায় আক্রান্ত ২৪ এবং মৃত্যু বরণ করেছে ১জন, ৬জুন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৯৫ জন, ৭জুন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১১৯ জন এবং ৮জুন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৬ জন ও মৃত্যু বরণ করেছে ৩জন।

এ পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১১১৯ জন, রানীনগর উপজেলার ৯৩ জন, আত্রাই উপজেলার ৫৬ জন, মহাদেবপুর উপজেলার ১৮৭ জন, মান্দা উপজেলার ৯৬ জন, বদলগাছি উপজেলার ১৫৭ জন, পত্নীতলা উপজেলার ১৫৬ জন, ধামইরহাট উপজেলার ১১৭ জন, নিয়ামতপুর উপজেলার ১৮১ জন, সাপাহার উপজেলার ১৬২ জন এবং পোরশা উপজেলার ১৩২ জন।

এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা হলো ২৫৪০ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ২০৮৮ জন।

নওগাঁয় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ১৩ মে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ১৮ হাজার ২৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৫৪০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা পুরো জেলার করোনা শনাক্তের ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ। জেলায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৮৮ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪৯ জন মারা গেছেন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

সংক্রমণের হার কমলেও স্বস্তির কোনও কারণ নেই

নওগাঁয় শনাক্তকরণ পরীক্ষা বৃদ্ধি হওয়ায় বেড়েছে করোনা রোগীর সংখ্যা। তবে পরীক্ষা ও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও কমেছে সংক্রমণের হার। শনাক্তের হার কমলেও স্বস্তির কোনও কারণ নেই বলে মনে করছেন জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পার্সন ও ডেপুটি সিভিল সার্জন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা হওয়া নমুনায় করোনা শনাক্তের হার আগের পরিস্থিতির তুলনায় কম মনে হলেও স্বস্তির কোনও কারণ নেই। কারণ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অ্যান্টিজেন টেস্টের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় বর্তমানে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা বেশি হচ্ছে এবং শনাক্তের সংখ্যাও বেশি হচ্ছে। প্রায় ৩০ লাখ জনসংখ্যার এই জেলায় এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬ হাজার মানুষ করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করিয়েছেন। আরও বেশি পরীক্ষা হওয়া দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘নওগাঁতে করোনা পরীক্ষার জন্য কোনও আরটি-পিসিআর ল্যাব নেই। নওগাঁর সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করোনা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে। সেখানে নমুনার স্তূপ জমে যাওয়ায় ফলাফল পেতে চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। ফলে মানুষজন সঠিক সময়ে ফলাফল জানতে পারছেন না। এতে করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। এখনও প্রায় ছয় শতাধিক নমুনার ফলাফল ঝুলে আছে। ওই সব নমুনার ফলাফল আসলে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।’

করোনা মোকাবিলায় নওগাঁ স্বাস্থ্য বিভাগ

নওগাঁ করোনা চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ আধুনিক হাসপাতালসহ ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ আধুনিক হাসপাতালে ৪৫টি, সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি এবং জেলার অপর ৯টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫টি করে মোট ১৩৫টি শয্যা রয়েছে। জেলার ১১টি সরকারি হাসপাতালের কোনোটিতেই আইসিইউ শয্যা নেই। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে চারটি হাসপাতালে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ আধুনিক হাসপাতাল, নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা আছে। বাকি ৭টি সরকারি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নেই। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১ হাজার ৮২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে।

আরও পড়ুন : সেই চামেলীর বেতন-ভাতা বন্ধ হল

জেলায় বর্তমানে ৪৫২ জন করোনা রোগীর মধ্যে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আইসোলেশনে আছেন ২০ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১১ জন। বাকিদের অধিকাংশই বাড়িতে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া অনেকে রাজশাহী কিংবা বগুড়ায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ওডি/এএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড