• রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সরকার ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভাঙন রোধে গ্রামবাসীর সোটকা নির্মাণ

  সোহেল রানা, সিরাজগঞ্জ

০৮ জুন ২০২১, ১৩:২৯
ছবি : দৈনিক অধিকার

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা নদী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও এনায়েতপুর পয়েন্টে রাক্ষুসী রূপ ধারণ করছে। প্রতিদিন যমুনা গিলছে বসতভিটাসহ ফসলি জমি ও গাছপালা। ভাঙ্গনে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার। এক সময়ের ধনী ব্যক্তি মুহূর্তে ফকির হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, সরকারের মন্ত্রী, এমপিসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বারবার পরিদর্শনের পর আশ্বাস দিলেও ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করায় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন ভাঙ্গন কবলিতরা। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য গ্রামবাসী পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে বাঁশ দিয়ে নদীতে বেড়া বা টোটকা স্থাপন করছে। কিন্তু তাতেও কোন কাজে আসছে না। এ অবস্থায় ভয়-আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে ভাঙ্গন কবলিতদের। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বর্ষা মৌসুমে এনায়েতপুরের ব্রাহ্মন গ্রাম থেকে শাহজাদপুরের পাঁচিল পর্যন্ত ছয়টি গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে।

জানা যায়, কয়েক বছর যাবত সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের ব্রাহ্মন গ্রাম থেকে হাট পাচিল পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে প্রায় ৮-১০টি গ্রামের হাজার হাজার বসতভিটা, ফসলী জমি, মসজিদ মাদ্রাসা, তাঁত কারখানা বিলীন হয়ে গেছে। বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়ছে ভাঙ্গন কবলিত হাজার হাজার মানুষ। এসব মানুস কেউবা ওয়াপধার বাঁধে ঝুপড়ি তুলে কেউবা অন্যের জায়গায় ঘর তুলে মানবেতরভাবে বসবাস করছে। কিন্তু সরকার কখনো তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।

এ বছরও পানি বাড়ার সাথে ফের তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের ভাঙ্গনে এনায়েতপুরের খুকনি ইউনিয়নের আরকান্দি, জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর, ঘাটাবাড়ি পাকুরতলা, শাহজাদপুর থানার কৈজুরী ইউনিয়টের হাটপাচিল, সোনাতনি ইউনিয়নর পশ্চিম বানতিয়ার, ছোটচানতারা, ধীতপুর, দুইকান্দি, আগবাঙ্গলা, ধলাই গ্রামের শতাধিক বসতভিটা-ফসলী জমি বিলীন হচ্ছে। বারবার ভাঙ্গনের শিকার মানুষগুলো ফের ভাঙ্গনে মুখে পড়ায় ভয় আতঙ্কে নিঘুর্ম কাটছে দিনরাত।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর সরকারের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘটা করে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন শেষে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু এরপর আর তাদের কোন খোঁজ থাকে না। আতঙ্কিত গ্রামবাসী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেতে নদীর স্রোত ঘুরিয়ে দিতে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নদীতে বাঁশ দিয়ে বেড়া বা টোটকা স্থাপন করছেন। কিন্তু তাতেও ভাঙন রোধে না হওয়ায় ভাঙ্গন কবলিতরা বসতভিটা রক্ষা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গনে শুধু বসতভিটা বা ফসলি জমিই নয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ায় শিশু বয়সেই অনেকের শিক্ষাজীবন ঝরে পড়ছে। জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মহির উদ্দিন জানান, প্রতিদিন ভাঙ্গনে বসতভিটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কেউ দেখার নেই। এমপি-মন্ত্রী সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েই চলে যায়। কিন্তু কোন কাজ হয় না। সর্বশেষ যখন আশ্বাস দিয়ে কাজ হলো না তখন এ বছর ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য গ্রামবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে নদীর মধ্যে বেশ কয়েকটি বাঁশের বেড়া বা সোটকা নির্মাণ করেছি। কিন্তু নদীর স্রোত বেশি হওয়ায় তা কোন কাজেই আসছে না।

তিনি বলেন, এ বছর যদি সরকারের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তবে ছয় কিলোমিটার এলাকার প্রায় ৮-১০টি গ্রামের বসতভিটা-ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, হাট-বাজার তাঁতকারখানাসহ আরও বহু স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাবে। প্রায় ১২ হাজার পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম দৈনিক অধিকারকে জানান, চলতি বছর ভাঙ্গন রোধে অস্থায়ীভাবে হলেও যেখানে বেশি ভাঙ্গন রয়েছে সেখানে জরুরীভাবে জিওব্যাগ ফেলানো হবে। আর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের জন্য ৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি একনেকে চলতি সপ্তাহে পাস হলেই দরপত্র আহবান করা হবে যাতে বর্ষা মৌসুম শেষ হবার পরই স্থায়ী সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা যায়।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড