• শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

  সারাদেশ ডেস্ক

০৮ জুন ২০২১, ১১:২৭
শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
(ছবি : সংগৃহীত)

সিরাজগঞ্জ জেলার অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন বাবদ বোর্ড নির্দেশিত ফি’র থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে জেলার বেলকুচির একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে এর সত্যতাও মিলেছে। আর সেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই বলছে, আনুষাঙ্গিক অনেক খরচ থাকে বলেই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে!

বেলকুচিতে রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে বেলকুচির রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বোর্ডের নির্ধারিত টাকার চেয়ে রেজিস্ট্রেশন বাবদ শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিলেও তাদের দেওয়া হচ্ছে না কোনো রশিদ। এমনকি রেজিস্ট্রেশনের নির্ধারিত টাকারও কোনো রশিদ দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষাবোর্ড থেকে রেজিস্ট্রেশন বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২১৫ টাকা ও চাইলে সঙ্গে স্কাউট ফি বাবদ ৩৫ টাকাসহ সর্বমোট ২৫০ টাকা নিতে পারবে। তকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশনা না মেনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। এই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে প্রায় আড়াই শো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই দু’শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এই টাকা ইতিমধ্যে উত্তোলন করলেও কাউকে দেওয়া হয়নি কোনো রশিদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বোর্ড থেকে কয় টাকা নেওয়ার নির্দেশনা আছে জানি না। তবে রেজিস্ট্রেশন বাবদ সর্বনিম্ন ৩৫০টাকা করে নিচ্ছে বিদ্যালয়।’

টাকা নেওয়ার দায়িত্বে থাকা রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কেরানি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নানান কাজ নিয়ে ব্যাস্ত থাকি তাই রেজিস্ট্রেশনের টাকা গণিতের শিক্ষক উত্তোলন করছেন।’

তবে বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক মো. সোহেল রানা বলেন, ‘শুধু আমরা না প্রতিটি বিদ্যালয়ই বেশি টাকা নিচ্ছে। তাদের গিয়ে ধরুন।’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শান্তি কুমার সান্যাল বলেন, ‘আমাদের বোর্ডে যাতায়াত ও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে কিছু খরচ থাকে। তাই বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।’

বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. শাহজাহান আলী সরকার বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়ে বলেছি ২০ থেকে ৩০টাকার বেশি অতিরিক্ত না নিতে। যদি এর বেশি নিয়ে থাকে তবে দেখবো।’ কিন্তু ২০ থেকে ৩০ টাকা কেন বেশি নিতে বলেছেন এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

বেলকুচি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম গোলাম রেজা বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশনে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। তারপরও বিদ্যালয় নিয়ে থাকলে জিজ্ঞাসা করবো ও অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিসুর রহমান ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড