• শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রামেক হাসপাতালে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার

  রাজু আহমেদ, রাজশাহী

০৫ জুন ২০২১, ১৫:৩১
সদফফ
ছবি : দৈনিক অধিকার

রাজশাহীতে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সাথে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা। এসব রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। জনবল কম থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে।

রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদেরকে সাধারণ রোগীদের সাথেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে করোনা রোগীদের জন্য শুধুমাত্র পৃথক ওয়ার্ডে ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। অথচ গেল বছর করোন মহামারি দেখা দিলে খ্রিস্টান মিশন হাসপাতাল ভাড়া নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের পৃথক ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সকাল পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ২৮১জন। যাদের মধ্যে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন ২২৪ জন। করোনা ও উপসর্গে আক্রান্ত রোগীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের সরিয়ে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে অন্তত ১১টি ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডগুলোতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিন্টেম চালু রয়েছে। করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের জন্য ২৩২ টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত করা হচ্ছে আরো একটি ওয়ার্ড। এটি চালু হলে মোট ২৬৪ বেডে করোনা সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হবে। এছাড়া হাসপাতালে ২০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। যার মধ্যে ১৭টি বেড করোনা আক্রান্ত সিরিয়াস রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যার সবগুলোতেই এখন রোগী রয়েছে। করোন ও উপসর্গ নিয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি আছে ২২৪ জন রোগী।

এই অবস্থায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীরাও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। ঈদের পর থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে রামেক হাসপাতালে। গত ২৪ মে থেকে ৫জুন পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১০১ জন, যাদের মধ্যে ৬০ জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন।

এদিকে বর্তমানে প্রতিদিন এই হাসপাতালে অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ছে ৭ হাজার লিটার। সাধারণ সময়ে এই চাহিদা ছিলো মাত্র এক থেকে দেড় হাজার লিটার। তবে অক্সিজেন সিস্টেম শুধুমাত্র ডেবের সাথে সংযুক্ত। আর তাই যারা বেডের বাইরে ওয়ার্ডের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন তাদেরকে অক্সিজেন দেয়া সম্ভভ হচ্ছে না। সেক্ষত্রে এসব রোগীরা বাইরে থেকে সিলিন্ডার অক্সিজেন কিনে এনে ব্যবহার করছেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নওশাদ আলী বলেন, হাসপাতালে করোনা রোগীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। সেই সাথে এবার মৃতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনা বা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ছে বেশি। রামেক হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম বেডের সাথে সংযুক্ত তাই শুধুমাত্র বেডের রোগীদের অক্সিজেন দেয়া সম্ভভ হচ্ছে। সাধারণ রোগী ও করোনা আক্রান্তদের এক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ায় কেউই করোনা সংক্রমণের বাইরে নেই। আমরা রাজশাহী সদর হাসপাতাল চালুর জন্য বার বার বলে আসছি। তবে অবকাঠামো ও জনবল প্রস্তুতের বিষয় রয়েছে। আর তাই এটা দ্রুত চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

ডা. নওশাদ আলী আরো জানান, এবার চিকিৎসকদের জন্য আলাদা বরাদ্দ নেই। হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অতিরিক্ত ডিউটি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের বিশ্রামের পর্যন্ত সময় দেয়া যাচ্ছে না।

ওডি/

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড