• শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রকৃতি ও বাজার অনুকূলে কৃষকদের

রাজশাহীতে বৃদ্ধি পাচ্ছে পাটের চাষ

  রাজশাহী প্রতিনিধি

২৭ মে ২০২১, ১৯:৪৪
ছবি : দৈনিক অধিকার

দেশে প্রতিবছর সোনালি ফসল পাটের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে অন্যান্য ফসলের চাইতে পাটের জমিতে শ্রমিকের খরচসহ আনুষঙ্গিক খরচ কম। আর তাই লাভের আশায় রাজশাহী জেলার কৃষকদের মাঝে পাট চাষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। গেল বছর প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫শ টাকা মণ। এ বছর তা বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার টাকা মণ।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রকৃতি ও বাজার পাট চাষিদের অনুকূলে থাকায় রাজশাহী অঞ্চলে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বছর আবাদকৃত পাটগাছ সবে দেড় থেকে দুই ফিট পর্যন্ত গজিয়ে ওঠেছে। তাই এবার পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। এই উপজেলার কমবেশি সব ইউনিয়নেই পাটের আবাদ হয়ে থাকে। তবে পূর্ব বাগমারা অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা হওয়ায় সেখানে পাটের আবাদ কিছুটা বেশি হয় থাকে। তবে কৃষকরা বর্তমান পাটের বাজার দর অনুযায়ী উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পাবেন বলে আশা করছেন।

জানা গেছে, পাটের বীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পরবর্তীতে সময়মত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পাটগাছ এক-দেড় হাত বেড়ে ওঠেছে। অনেকে এখন পাটখেতে শেষবারের মত নিড়ানি দিচ্ছেন। বর্ষার পানি আসতে আসতে পাট গাছ আরো বড় হয়ে ওঠবে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সময় কৃষক পাট কাটা শুরু করে এবং ওই পানিতে জাগ (পচনী) দেয়। এ সময় গ্রামাঞ্চলগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বাড়ির নারীরা পর্যন্ত এ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

বাঘা উপজেলার কাচরীকোয়ালীপাড়া ও বাসুপাড়া ইউনিয়নের কয়েকজন পাটচাষির সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ বাবদ বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যা ও আনুসাঙ্গিক খরচ সহ রোদে শুকিয়ে তা ঘরে তোলা পর্যন্ত ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকার মত খরচ হয়। এ বছর তারা দুই জাতের পাটের আবাদ করেছেন। উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে তাদেরকে পাট বীজসহ বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছে বলে তারা জানান। এই এলাকায় পাটের হাট হিসাবে তাহেরপুর হাট সর্বাধিক পরিচিত। সেখানে দূরদূরান্ত থেকে বেপারীরা এসে পাট কিনে নিয়ে যায়।

এলাকার পাটচাষিদের মতে, তারা ধানের মত পাটের বাজারও সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করছেন। এ ক্ষেত্রে তারা সরকারি ভাবে পাটের দাম নির্ধারন ও পাট ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহনের দাবিও জানান। তাদের মতে, বর্তমানে পলিথিন যেভাবে মহামারি আকার ধারণ করছে এবং যত্রতত্র পলিথিনির ব্যবহার বাড়তে থাকায় পরিবেশ ক্রমশই বিষময় হয়ে ওঠছে। এ থেকে পরিত্রানের জন্য পাটের বহুমুখী ব্যবহার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল আউয়াল জানান, প্রতিবছর রাজশাহী অঞ্চলে পাট চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর রাজশাহী জেলায় ১৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে চাষাবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ৩৯ হেক্টর জমিতে। যা থেকে এবার উৎপাদন হতে পারে ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৫০ বেল পাট (প্রতি বেল ১৬৮ কেজি)। বিগত বছর আবাদ হয়েছিল ১৪ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে।

কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও জানান, পাটের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি পাটের জমিতে শ্রমিক কম লাগে এবং জমির আগাছা ওষুধ প্রয়োগ করেই নির্মূল সম্ভব। এসব কারণে রাজশাহীতে পাট চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা। পাট একটি পরিবেশবান্ধব উদ্ভিদ। বর্তমান বাজারদরে পাট চাষ করে কৃষকের লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড