• সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বান্দরবানে মউশিক কার্যক্রমে দুর্নীতির অভিযোগ

  মো. নুরুল করিম আরমান, লামা প্রতিনিধি, (বান্দরবান)

০৫ মে ২০২১, ১২:০২
ছবি : প্রতীকী

মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের (মউশিক) বান্দরবানের লামা উপজেলা মডেল কেয়ার টেকার ও ফিল্ড সুপার ভাইজারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, জিম্মি করে টাকা আদায়, সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (৫ মে) সকালে কর্মরত কেয়ারটেকার মো. শোয়াইব ও সুপার ভাইজার মহি উদ্দিনের বিরুদ্ধে মউশিকের ভুক্তভোগী ২৪জন শিক্ষক এ অভিযোগ করেন। এর আগে অভিযোগের বিষয়ে প্রথমে মউশিকের জেলা কর্মকর্তাদের অবহিত করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উধর্তন কর্তৃপক্ষ বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অভিযোগে উল্লেখ করেন, লামা উপজেলায় মউশিকের ১১৭ টি কেন্দ্র রয়েছে। ২০১৫ সালে মডেল কেয়ার টেকার মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হককে কৌশলে হটিয়ে দায়িত্ব নেন মো. শোয়াইব। এরপর থেকে শুরু হয় কেয়ার টেকার মো. শোয়াইব ও সুপার ভাইজার মহি উদ্দিনের অনিয়ম দুর্নীতি। এরই ধারাবাহিকতায় তারা মউশিকের নতুন কেন্দ্র সৃষ্টির জন্য প্রতিজন থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা আগাম ঘুষ নেন।

এছাড়া ২০২১ সালেও নতুন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য টাকা নেওয়ার পাশাপাশি পুরাতন কেন্দ্র নবায়ন ফি বাবদ ২ থেকে ৩ হাজার টাকা, প্রাক-প্রাথমিক থেকে সহজ কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র রূপান্তরিত করার অজুহাতে শিক্ষকদের কাছ থেকে ব্যক্তি বিশেষ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, সার্টিফিকেট দুর্বলতার অজুহাতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক থেকে ১০ হাজার টাকা, ব্যাংকে বেতনের টাকা জমা হলে প্রতিবার ব্যক্তি অনুপাতে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা, কোন শিক্ষকের কোন কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশের অজুহাতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা, দারুল আরকাম মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগকারীন সময় কোন কোন শিক্ষক হতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আদায় করেন কেয়ার টেকার ও সুপার ভাইজার।

শুধু তাই নয়, মডেল কেয়ার টেকার মো. শোয়াইবের অনৈতিক আচরণের কারণে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষিকা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। যদি কোন শিক্ষক তাদের বিরোধিতা করেন কিংবা দাবীকৃত টাকা দিতে গড়িমসি করেন, তাহলে ওই শিক্ষককে মোটর সাইকেল চাপা দিয়ে মেরে ফেলার হুমকিসহ মারধরও করেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে লামা উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মাহিউদ্দীন ও কেযার টেকার মো. শোয়াইব এক সূরে বলেন, শিক্ষকদের অনিয়ম ধরা পড়ার কারণে আমাদের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছেন মাত্র।

তবে ইসলমিক ফাউন্ডেশন বান্দরবান জেলার উপ-পরিচালক মীর মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ শিক্ষকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে মডেল কেয়ারটেকার মো. শোয়াইবকে আলীকদমে বদলি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মসজিদ ভিত্তিকশিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের প্রকল্প উপ-পরিচালক আবু বকর ছিদ্দিক জানান, শিক্ষকদের কাছ থেকে এভাবে টাকা আদায়ের নিয়ম নেই। যদি কেউ এ কাজ করে থাকেন সেটা অনিয়ম ও দুর্নীতি। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড