• রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে মায়ের মানবেতর জীবনযাপন

  মো. জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর

০৪ মে ২০২১, ১০:০৬
তিন প্রতিবন্ধী ভাই-বোন ও তাদের মা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাও ইউনিয়নে একটি হতদরিদ্র পরিবারের চার জন সদস্যের মধ্যে তিন জনই প্রতিবন্ধী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এতে চিকিৎসা এবং অর্থকষ্টে দিন কাটছে তাদের। তাদের মধ্যে মা রোকেয়া বেগম (৫০) শুধু ভালো রয়েছেন। তার তিন সন্তান মো. আলম চৌকিদার (২৮), মো. জহির ইসলাম চৌকিদার (২৫), এবং এক মেয়ে তানজিলা (২৩) প্রতিবন্ধী হয়ে ঘরেই দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,পরিবারে প্রতিবন্ধী তিন সন্তানকে দেখার জন্য শুধু তাদের মা রয়েছেন, বাবাও প্রতিবন্ধী হয়ে মারা গেছে। এমন কি হতদরিদ্র পরিবারটির ঘরে তাদের বাবার বাবা অর্থাৎ তাদের দাদাও এই অজ্ঞাত রোগে প্রতিবন্ধী হয়ে মারা গেছে বলে জানান মা রোকেয়া বেগম। তবে প্রশ্ন রয়ে যায় এই পরিবারে প্রতিবন্ধী হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি আসলে কী?

প্রতিবন্ধী তিন সন্তানের জননী রোকেয়া বেগম কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আমার যখন বিয়ে হয় তখন ওদের বাবা ভালো ছিলেন। পরে আস্তে আস্তে তার শরীর অন্য রকম হতে থাকে। অর্থাৎ শরীর শুকিয়ে চিকন হয়ে যায় এবং কথা বলতে সমস্যা হয়ে যায়। এমনকি শেষ পর্যন্ত হাটা চলা বন্ধ হয়ে যায় এবং এক সময় মারা যায়।

তিনি আরও জানান,আমার শ্বশুরও এ রোগে মারা যান। আমার বড় ছেলেও এভাবেই মারা যায়। আমি বুঝতে পারি না। আমার সন্তানরা বড় হয়ে আস্তে আস্তে শরীর হাত পা অন্য রকম হয়ে যায়। তাদের এক সময় হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায়। সেই সাথে কথা বলা পর্যন্ত সমস্যা হয়ে একসময় মারা যাচ্ছে।

আমার এক মেয়ে তানজিলা আক্তার (২৩) বিয়ের আগে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। ভালো ছিল। সমাজের দশজনে দেখে শুনে নিলো পাশের বাড়ির রুবেল গাজীর সাথে বিয়ে দিলাম, সন্তান হয়েছে। এখন আমার ভালো মেয়েটা আস্তে আস্তে প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা দেখে আমার মেয়েটাকে রেখে অন্য জায়গায় বিয়ে করে এখন আর আমার মেয়ের কোন খোঁজ খবর নেয় না মেয়ের জামাই।

এলাকাবাসীরা জানান, ওদের দাদা, বাবা,এবং এক ভাই এরকম হয়েই মারা গেছে। কেন এ রকম হয়ে যায় আমরা বুঝতে পারি না। ওরা আমাদের মতো এক সময় সুস্থ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে এমন হয়ে গেছে। এখন কথাবর্তা ঠিক মতো বলতে পারে না এবং হাটতেও পারে না। ওদের শুধু ওর মা ছাড়া আর কেউ দেখার নেই।

তবে তাদের পরিবারটি কিভাবে চলছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন, সামান্য কিছু টাকা ভাতা পায় আর এলাকাবাসী মাঝে মধ্যে কিছু দেয় তা দিয়েই কোন রকম চলছে। তবে খুব কষ্টে কাটছে তাদের জীবন, না আছে ভালো একটা থাকার ঘর না আছে তাদের সংসারে উপার্জন কারী কেউ। তাই আমরা চাই সরকারিভাবে তাদের জন্য একটা ঘর এবং তাদের আর্থিক কোন সহযোগিতা করলে হয়তো একটু ভালো থাকতে পারবে।

প্রতিবন্ধী তিন সন্তানের জননী রোকেয়া বেগম বলেন, আমার এই তিন সন্তান নিয়ে আমি খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি, সংসারে কামাই করার মতো কেউ নেই। তাই যদি সরকার আমার সন্তানদের দিকে তাকিয়ে আমাকে একটা থাকার ঘর এবং আর্থিক সহযোগিতা করতো তাহলে হয়তো এতো কষ্ট করতে হতো না।

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা তাপস বিশ্বাস দৈনিক অধিকারকে বলেন, ভেদরগঞ্জ আমি নতুন জয়েন করেছি তাই বিষয় টি আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসিফ দৈনিক অধিকারকে বলেন, ছয়গাও ইউনিয়নের একই পরিবারের তিনজন প্রতিবন্ধী বিষয়টি আমার জানা ছিল লো। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এই পরিবারের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করব।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড