• রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ, দুর্ভোগে কয়েকশ পরিবার

  কাজী শাহরিয়ার রুবেল, আমতলী (বরগুনা)

০১ মে ২০২১, ০৮:৫৫
খাল ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বরগুনার আমতলী উপজেলার খেকুয়ানী বাজার সংলগ্ন প্রবাহমান খেকুয়ানী খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দখল করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও ইউপি সদস্য ইউসুফ মৃধা। ওই খাল ভরাট করে সেখানে নির্মিত হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। খালটি ভরাট করায় খেকুয়ানী বাজারের কয়েকশত পরিবার দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত ওই খাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভূক্তভোগীরা।

জানা গেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানী খালে ১৯৯০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে। বাঁধ নির্মাণ করায় ওই খালটির একাংশ খেকুয়ানী বাজারের পেছনে থেকে যায়। বাঁধ দেয়ার সুযোগে গত ২০ বছর পূর্বে (২০০০ সালে) তথ্য গোপন করে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ওই খালকে নাল জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত নেন স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও ইউপি সদস্য ইউসুফ মৃধা। খাল বন্দোবস্ত নেয়ায় বিষয়টি তারা এতদিন গোপন রাখেন। গত বছর ওই খালে বাঁধ দিয়ে তারা মাছ চাষ শুরু করেন। এরপর সম্প্রতি তারা ওই খাল বালু দিয়ে ভরাট করলে তখন বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, খালটি বালু দিয়ে ভরাট করে কয়েকটি স্থাপনা উত্তোলন করেছেন ও আরও নতুন স্থাপনা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। বন্দোবস্ত পাওয়া সূত্রের মালিক ইউপি সদস্য ইউসুফ মৃধা ও আবদুল মান্নান হাওলাদার ওই খালের ভরাটকৃত জমি বিভিন্ন মানুষের কাছে প্লট আকারে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রশাসনের নিকট অভিযোগ দেওয়ার পরেও তারা অবিরত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই খালটি ভরাট হওয়ায় খেকুয়ানী বাজারের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই দ্রুত বন্দোবস্ত বাতিল করে এ খালটি উদ্ধার করা হউক।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, এ প্রবহমান খালটির পানি খেকুয়ানী বাজারের কয়েকশত পরিবার তাদের গোসল থেকে শুরু করে সংসারিক কাজে ব্যবহার করে আসছেন। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ইউপি সদস্য ইউসুফ মৃধা ও আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, ২০ বছর পূর্বে (২০০০ সালে) ওই খালটি সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত এনেছি। গত বছর মাছ চাষ করেছি। সম্প্রতি বাজার সম্প্রসারণের জন্য খালটি বালু দিয়ে ভরাট করেছি।

গুলিশাখালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি দায়িত্ব থাকা অবস্থায় এসিল্যান্ড স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে খালটি ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এখন আমি অন্যত্র বদলি হয়ে চলে এসেছি। বর্তমানে ওখানে কি হচ্ছে সেটা আমার জানা নেই।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জমান মুঠোফোনে বলেন, প্রবহমান খাল কিভাবে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবহমান খাল বন্দোবস্ত দেওয়া যায় না। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে বন্দোবস্ত বাতিল করা হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড