• মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ট্রাজেডির ৩০ বছর

অরক্ষিত বেড়িবাঁধ, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় বাঁশখালী উপকূলবাসী

  শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

২৯ এপ্রিল ২০২১, ১০:০২
ছবি : দৈনিক অধিকার

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল দেশের উপকূলীয় জনপদ। এদিন প্রায় আড়াইশ’ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত এবং ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস তছনছ করে দিয়েছিল উপকূলীয় জনপদ। সেদিনের ঘটনায় দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ নিহত হয়। ১ কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়।

ট্রাজেডির ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের স্বজন হারানোর আহাজারি থামেনি আজও। বাঁশখালী উপকূলের হতভাগ্যরা এখনো বুঝে পায়নি স্বপ্নের টেকসই বেড়িবাঁধ। নিত্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার উপকূলবাসী থাকে নানা শংকা আর উৎকণ্ঠায়। বেড়িবাঁধ না থাকায় উপকূলের মানুষজন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে হারাচ্ছে মাথা গুঁজে থাকার সম্বল বাপ-দাদার ভিটেমাটি।

কারো কারো বসতঘর সমুদ্রের অতলে হারিয়ে গেছে বহু বছর আগে। উপকূলীয় অঞ্চলের স্বপ্নের বেড়িবাঁধ আজও স্বপ্নের মতো অধরাই থেকে গেছে। বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ বুঝে পায়নি উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজন। বর্ষায় ডুবে, প্রাকৃতিক সাইক্লোন, বন্যায় তাদের হারাতে হয় বেঁচে থাকার নানা ফসলি জমি ও লবণের মাঠ। তবে বাঁশখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেও অনেক জায়গা এখনও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গোপসাগরের খানখানাবাদ ইউনিয়ন উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কদমরসূল ও হাছিয়াপাড়া অংশে পাঁচ চেইন বেড়িবাঁধ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এখানেও অতিরিক্ত জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসে লোকালয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। বর্ষা মৌসুমে জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্ধীসহ ফসলাদীর ক্ষতি হওয়া আশঙ্কা রয়েছে। এখনও উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসূল, গন্ডামারা পশ্চিম বড়ঘোনা ও গন্ডামারা এলাকায় বেড়িবাঁধের ভাঙন এলাকার কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ব্লক বসিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ এখনো চলমান।

সম্প্রতি শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে উপকূলবাসীর স্বপ্নের বেড়িবাঁধ। তবে স্বপ্ন স্বপ্নের মতো অধরাই থেকে গেছে। অনুন্নত পাথর ঢালাই, সমুদ্রের তট থেকে কাঁচা বালি নিয়ে নড়বড়ে যৎসামান্য কাজ হয়েছে বেড়িবাঁধের। স্থানীয়রা জানান, এই বেড়িবাঁধ যেভাবে হয়েছে তা যেনো তাসের ঘর। অতিবৃষ্টি কিংবা বর্ষার ঢলে, সমুদ্রের জোয়ারের ঢেউয়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। এখনো বাঁশখালী উপকূলের প্রেমাশিয়া, খানখানাবাদ, সরল, বাহারছড়া, ইলশা, কদমরসূল, গন্ডামারা-বড়ঘোনা, ছনুয়াসহ সমুদ্র উপকূলের নিম্নাঞ্চলেরর মানুষ দুর্যোগকালীন সময়ে আতংকে থাকে। এ উপজেলার মানুষ এখনো প্রতি বর্ষায় নির্ঘুম রাত কাটান। প্রাকৃতিক বৈরি আবহাওয়ার সাথে সংগ্রাম করেই উপকূলবাসীর জীবন কাটে। অরক্ষিত বেড়িবাঁধের কারণে লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে তলিয়ে যায় নিম্নাঞ্চল। শত শত পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়ে। এভাবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ৩০ বছর পার হলেও স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।

বাঁশখালী উপকূলের অরক্ষিত বেড়িবাঁধ নিয়ে কথা হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাঁশখালী) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রকাশন চাকমার সাথে। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে অতীব ঝুঁকিপূর্ণ হাছিয়া পাড়া কদমরসূল অংশে ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছেন। সিদ্ধান্ত হয়েছে স্থায়ী বেড়িবাঁধের জন্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্ধ চেয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। তাছাড়া ছনুয়া ও গন্ডামারার কিছু অংশ অরক্ষিত থেকে গেছে তাও যথাসময়ে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান এ কর্মকর্তা।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড