• বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মান্দায় বিদেশী তরমুজ চাষে সফল ইমন

  সুলতান আহমেদ, মান্দা (নওগাঁ)

২৮ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫২
তরমুজের ক্ষেতে কাজ করছেন ইমন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

করোনায় দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেকার বাড়ি বসে না থেকে কৃষিতে মনোনিবেশ করেছেন ইসতিয়াক আহমেদ ইমন। তিনি রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড সার্ভেয়ারিং ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। 'ভিয়েতনামের গোল্ডেন ক্রাউন ও ব্ল্যাকবেরি' জাতের তরমুজের চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন। তার বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে।

মাচার ওপর সবুজ পাতা ছেয়ে আছে। আর নিচের দিকে ঝুলছে কালো ও সোনালী রঙের ছোট-বড় তরমুজ। গাছ থেকে যেন ছিঁড়ে না যায় জন্য প্রতিটি তরমুজ নেটের মধ্যে রাখা হয়েছে। এমন দৃশ্য পাকুড়িয়া গ্রামের মাঠে তরমুজের ক্ষেত। ভিয়েতনামের গোল্ডেন ক্রাউন (সোনালী) ও ব্ল্যাকবেরি (কালো) জাতের তরমুজ।

জানা গেছে, করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে বাড়ি চলে আসেন ইমন। এ সময়কে কাজে লাগাতে তিনি বিভিন্ন অনলাইনে সম্ভাবনাময় কৃষি প্রতিবেদনগুলো দেখেন। স্বল্প সময়ে সম্ভাবনাময় নতুন জাতের তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। এরপর চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে ভিয়েতনামের গোল্ডেন ক্রাউন ও ব্ল্যাকবেরি বীজ সংগ্রহ করে। বীজ নিয়ে আসার পর বাড়িতে পলিব্যাগে করে চারা তৈরি করেন। এরপর নিজেদের দেড় বিঘাতে জমিতে উর্বর করতে গোবর, পরিমাণ মতো ডিএপি, পটাশ, জিপসাম ও দানাদার সার ব্যবহার করেন। মালচিং পদ্ধতিতে চাষের জন্য ১১টি বেড তৈরি করেন। নির্দিষ্ট দূরত্বে রোপণ করা হয় তরমুজের চারা। এরপর মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়। রোগ বালাই দমনে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয় ফেরোমন ফাঁদ। যেখানে খরচ হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক টাকা।

ফেব্রুয়ারি মাসে ১৮ তারিখে চাষাবাদ শুরু হয়। মার্চ মাসের শেষের দিকে গাছে ফুল আসা শুরু করে। এরপর ফল দেখা দেয়। ক্ষেতে প্রায় দুই হাজারের মতো তরমুজ আছে। ইতোমধ্যে পাইকারি ৮০ টাকা কেজি দরে ১০০ পিস বিক্রি করা হয়েছে। গোল্ডেন ক্রাউন এবং ব্ল্যাকবেরি তরমুজ সুস্বাদু হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

উদ্যোক্তা ইসতিয়াক আহমেদ ইমন বলেন, করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ সময়কে কাজে লাগাতে কৃষির ওপর মনোনিবেশ করি এবং কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। বিভিন্ন অনলাইনে কৃষি প্রতিবেদন দেখার পর উন্নত জাতের তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ হই। চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে বীজ সংগ্রহ করে চাষাবাদ শুরু করি। বীজ, সিডলিং ট্রে ও মালচিং পেপারসহ আনুষঙ্গিক প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে মাচা, শ্রমিক, সার ও কীটনাশকে খরচ করতে হয়েছে। যেখানে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মতো খরচ হয়েছে। বর্তমানে গাছের বয়স প্রায় ৭০ দিন। ইতোমধ্যে বিক্রিও শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এই দুই জাতের তরমুজ সুস্বাদু হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি কেজি ৮০ টাকা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খুরচা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। প্রতি পিস তরমুজ প্রায় দেড় থেকে তিন কেজি ওজন হয়ে থাকে। আর কয়েক দিনের মধ্যে সবগুলো পুষ্ট হলে বিক্রি করা হবে। বাজারে দাম মোটামুটি ভাল আছে। ধারনা করা হচ্ছে প্রায় দুই লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে। এখন কোনো ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লাভবান হতে পারব। প্রথমবার তেমন ধারনা না থাকায় খরচটা একটু বেশি পড়েছে। তবে দ্বিতীয়বার আবাদ করলে খরচের পরিমাণ কিছুটা কমবে।

ইসতিয়াক আহমেদ ইমনের চাচা আলম হোসেন বলেন, তিনি ক্ষেতে পরিচর্যা করেন। ক্ষেতে প্রায় দুই হাজারের মতো তরমুজ আসছে। এরমধ্যে গত কয়েকদিন আগে ১০০ পিস বিক্রি করা হয়েছে। আরও প্রায় ১৯শ পিস আছে। বাজারে দাম ভাল পাওয়া যাচ্ছে। এ ফসলে ছত্রাকের পরিমাণ একটু বেশি। আশপাশে এ ধরনের কোনো আবাদ না থাকায় পোকামাড়কের আক্রমণটা বেশি দেখা যাচ্ছে।

মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, এটা একটা নতুন ফসল। উদ্যোক্তা ইসতিয়াক আহমেদ ইমন নিজের চেষ্টায় চাষ করেছেন। বর্তমানে তরমুজ চাষে কোন বরাদ্দ নাই। তিনি যদি লাভবান হতে পারেন তাহলে আগামীতে সরকারি ভাবে বরাদ্দ চাওয়া হবে। পরবর্তীতে যারা আগ্রহ দেখাবে তখন তাদের উৎসাহ দেয়া হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড