• বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মাদরাসায় রূপান্তরিত সৈকত সিনেমা হল

  ফিচার ডেস্ক

১৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:৪২
সৈকত সিনেমা হল এখন হাফিজিয়া মাদরাসা (ছবি : সংগৃহীত)

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ট্রলারঘাটে রয়েছে শতাব্দীর প্রাচীন বাজার। জেলার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা এটা। ট্রলারঘাটে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সৈকত’ সিনেমা হল। প্রতিষ্ঠার পর দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তাও লাভ করে। কিন্তু সিনেমা হলের বাজার পড়ে যাওয়ায় জৌলুস হারায় ‘সৈকত’। প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় তাকে মাদরাসায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেন ট্রলারঘাট বাজারের ব্যবসায়ী হাফেজ মাওলানা আবদুর রউফ। তাঁর প্রচেষ্টায় এক সময়ের সিনেমা হল পরিণত হয় ‘সওতুল হেরা হাফিজিয়া মাদরাসা’য়।

মাওলানা আবদুর রউফ বলেন, ‘দীর্ঘদিন মাদরাসায় পড়ানোর পর কাপড় ব্যবসার সঙ্গে আমি যুক্ত হই। আমার দোকান ছিল এই ট্রলারঘাট বাজারেই। আমি দেখি আশির দশকে প্রতিষ্ঠিত ‘সৈকত’ সিনেমা হলটি যখন ব্যবসায় মন্দা সময় কাটাচ্ছিল, তখন এতে ছবি প্রদর্শিত না হয়ে ভেতরে বিভিন্ন ধরনের পাপকাজ চলত। এ বিষয়টি আমাকে খুবই ব্যথিত করত। তখন আমি একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করছিলাম। আমার দূর সম্পর্কের এক ভাগ্নে আমাকে বলল, ‘মামা, আপনি এই সিনেমা হলটিকে ভাড়া নিয়ে মাদরাসা বানিয়ে ফেলেন।’ আমি তো ওর কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম। সে উদ্যোগ নিয়ে আমাকে সিনেমা হলের জায়গার মালিক জনাব গিয়াস উদ্দিনের (লাকি মহাজন) সঙ্গে কথা বলতে নিয়ে যায়। আমি তাঁকে আমার পরিকল্পনার কথা জানাই। কিন্তু এই স্থাপনাটির ভাড়া কত দেব এবং অ্যাডভান্স কত দেব তা নিয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে একটু মতানৈক্য তৈরি হয়। আমাকে তিনি পরে জানাবেন বললে আমি চলে আসি।

কিন্তু তাঁর স্ত্রী যখন বিষয়টি জানতে পারেন তখন বারবার তাঁকে তাগাদা দিতে লাগলেন, যেন সিনেমা হলের জন্য ভাড়া নেওয়া লোকের কাছ থেকে স্থাপনাটি নিয়ে আমাকে মাদরাসা করতে দেন। এরপর তিনি আমার প্রস্তাবিত টাকায়ই স্থাপনাটি ভাড়া দিতে রাজি হন। সব কিছু ঠিক হওয়ার পর ২০১৬ সালের রমজানে সিনেমা হলটি ভাড়া হিসেবে পাই এবং কয়েক লাখ টাকা খরচে এটিকে মাদরাসার উপযোগী করে তুলি। আলহামদুলিল্লাহ! এরপর থেকে বেশ ভালোই চলছে।’

আরও পড়ুন : বিকাশ-নগদকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কবার্তা

তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার প্রচুর শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করছে। তারা কোরআন-হাদিস পড়ছে, ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞানগুলো এখান থেকে শেখার চেষ্টা করছে। এলাকায় কোনো অতিথি এলে তাকে এলাকাবাসী এই প্রতিষ্ঠান দেখাতে নিয়ে আসে। আনন্দের সঙ্গে বলে, আগে আমাদের এলাকায় একটা সিনেমা হল ছিল, আল্লাহর রহমতে এখন এটি হিফজুল কোরআন মাদরাসায় পরিণত হয়েছে।’

সওতুল হেরা হাফিজিয়া মাদরাসায় বর্তমানে হিফজুল কোরআন বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫, নাজেরা বিভাগে ৩৪ এবং মক্তবে আছে ৩৮ জন। বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষকের পরিচালনায় চলছে প্রতিষ্ঠানটি। মাদরাসাটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে চান হাফেজ মাওলানা আবদুর রউফ।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড