• মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গফরগাঁওয়ে খাল খননে হাজারো কৃষকের স্বস্তি

  আশরাফুল ইসলাম, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ)

১৩ এপ্রিল ২০২১, ১৬:৩৩
গফরগাঁওয়ে খাল খননে হাজারো কৃষকের স্বস্তি
খননকৃত খাল (ছবি : দৈনিক অধিকার)

একটি খাল খননের ফলে হাজারো কৃষকের স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন আর তাদের বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। ফলে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন তারা। খালটি খননের ফলে তিনটি ইউনিয়নের ১৪টি বিলের প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলাই বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর মাধ্যমে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘হাফাইল বিলের খাল সংস্কার’ প্রকল্পে ৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করায় উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১৪টি বিলের প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে।

এতে কৃষকরা ক্ষুদ্র সেচযন্ত্রের মাধ্যমে খাল থেকে জমিতে পানি নিয়ে একাধিক ফসল উৎপাদন করতে পারছেন। যার ফলে প্রকল্প এলাকায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর মাধ্যমে ‘হাফাইল বিলের খাল পুনঃখনন’ প্রকল্পের আওতায় ৯ কিলোমিটার খাল পুনঃ খনন করায় লংগাইর, গফরগাঁও ও মশাখালী ইউনিয়নের ১৪টি বিলের জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে।

গফরগাঁও ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের হাফাইল বিল থেকে খালটি শুরু হয়ে ৬টি মৌজার উপর দিয়ে মশাখালী ইউনিয়নের বীর খারুয়া পর্যন্ত পুনঃখনন করা হয়েছে। যুক্ত হয়েছে হাফাইল বিল, টুরিয়ার বিল, চিনার বিল, নওলা বিল, ফকিরনির বিল, বগা বিল, তেল বিল, চৌবান্ধার বিল, ভাটিয়া বিল, খারুয়া বিল, কেন্নাবিল, কুড়ি বন, চাপর বন, আউট বাড়িয়া বিল হয়ে বীর খারুয়া পর্যন্ত।

এতে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর হয়ে চাষাবাদের আওতায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা ক্ষুদ্র সেচযন্ত্রের মাধ্যমে (সেলু মেশিন) খাল থেকে পানি নিয়ে চাষাবাদ করতে পারছে কৃষকরা। তবে মার্চ মাসের দিকে খালের পানি শুকিয়ে যায়। তাই এই সময় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে খালে পানি উত্তোলন করা হলে চাষাবাদ নির্বিঘ্ন হত।

গফরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম খোকন বলেন, আমার নেতা সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের সহযোগিতায় এই খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। কিন্তু খালটি শেষের দিকে শীলা নদী পর্যন্ত আরও ২ কিলোমিটার, কনহীর বিল পর্যন্ত ১ কিলোমিটার ও তালতলা বিল পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সম্প্রসারণ করা হলে আরও অন্তত এক থেকে দেড় হাজার হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর হয়ে চাষাবাদের আওতায় আসত।

উপজেলা বিএসডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তানভীর হাসান বলেন, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য ব্রহ্মপুত্র থেকে পানি উত্তোলন করে খালে প্রবাহিত করার জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ বদরুল আলম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদে পাম্প স্থাপন করে ২.৫ কিলোমিটার বারিড পাইপের মাধ্যমে পুনঃখননকৃত হাফাইল বিলে পানি সরবরাহ বিষয়টি নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে গফরগাঁও ইউনিয়নের ৮০ ভাগ এই সেচ প্রকল্পের আওতায় আসবে এবং মশাখালী ও লংগাইর ইউনিয়নের ৪০ ভাগ জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানি দিয়ে কৃষক সেচ দিতে পারবেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড