• মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শরীয়তপুরে ‘আয়নাবাজি’, সেই লিটন ফরাজী গ্রেপ্তার

  জাভেদ শেখ, শরীয়তপুর

১২ এপ্রিল ২০২১, ১৭:১৯
গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

বেশ কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় শরিয়তপুরে নামের গরমিল করে কারাগার থেকে আসামি পালানোর ঘটনা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অপরাধধর্মী থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘আয়নাবাজি’র কাহিনীর। যেন পর্দার ঘটনারই বাস্তবরূপের প্রতিফলন ঘটেছিল শরীয়তপুরের কারাগারে।

শরীয়তপুর জেলা কারাগার থেকে নামের গরমিল করে লিটন সিকদারের বদলে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল লিটন ফরাজী (২৮) নামের আরেক আসামিকে। কারাগার থেকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া সেই লিটন ফরাজীকে আবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১০ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে ঢাকা রামপুরা থানা পুলিশের সহযোগিতায় শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পুলিশ রামপুরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার (১১ এপ্রিল) শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় তাকে আনা হয়েছে।

সোমবার (১২ এপ্রিল) দৈনিক অধিকারকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন পালং মডেল থানার নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আক্তার হোসেন।

এ ঘটনায় রবিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে শরীয়তপুর কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. আব্দুস সেলিম বাদী হয়ে লিটন ফরাজীর বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

শরীয়তপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, গোসাইরহাট থানার একটি চুরির মামলার আসামি লিটন ফরাজি ও লিটন সিকদার। তারা দুজন রাজবাড়ী ও খুলনার আরও দুটি মামলারও আসামি। লিটন ফরাজী বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দামুরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। আর লিটন সিকদার খুলনার খালিশপুরের বাসিন্দা। গত ১১ মার্চ তাদের শরীয়তপুর জেলা কারাগারে আনা হয়।

গত ৪ এপ্রিল শরীয়তপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে গোসাইরহাট থানার ওই মামলায় তাদের জামিন দেওয়া হয়। আর খুলনা ও রাজবাড়ীর মামলায় লিটন সিকদার জামিনে থাকলেও লিটন ফরাজী জামিনে ছিলেন না। আদালত থেকে ওই জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছালে কারা কর্তৃপক্ষ লিটন সিকদারকে না ছেড়ে লিটন ফরাজীকে সন্ধ্যায় মুক্তি দেয়। লিটন সিকদারকে আটক রাখা হয়।

লিটন সিকদারের স্বজনেরা বিষয়টি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তখন তাদের নজরে আসে নামের ভুলে লিটন ফরাজী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। পরে ৫ এপ্রিল রাতে লিটন সিকদারকে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ৫ এপ্রিল পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শরীয়তপুর কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার আমিরুল ইসলাম। পরে ৬ এপ্রিল দুপুরে কারারক্ষী মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষকে জানান, শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার গোলাম হোসেন। কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্তের জন্য বরিশাল বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।

৬ এপ্রিল তারা শরীয়তপুর জেলা কারাগার পরিদর্শন করে ঘটনাটির তদন্ত করেন। ৭ এপ্রিল কারা মহাপরিদর্শক মোমিনুর রহমান ডেপুটি জেলার হোসেনুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। আর কারাগারের জেলার আমিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করেন। তাকে ঢাকা বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শকের দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড