• শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নকশীকাঁথা তৈরি করে স্বাবলম্বী তেঁতুলিয়ার সাগরিকা

  এম মোবারক হোসাইন, পঞ্চগড়

১০ এপ্রিল ২০২১, ১৫:৩৫
সাগরিকা
নারী উদ্যোক্তা উত্তরের সীমান্তবর্তী পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার সাগরিকা চৌধুরী রুমা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের সেই নকশী কাঁথা তৈরি করে নকশী আপু হয়েছেন এক নারী উদ্যোক্তা। নকশী কাঁথা তৈরি করে সাফল্যের পথে তিনি। প্রতিনিয়ত বাড়ছে তার ক্রেতার সংখ্যা। অনলাইনে আসছে অর্ডার। ক্রেতাদের কাছে হয়ে উঠেছেন নকশী আপু। নারী এ উদ্যোক্তা উত্তরের সীমান্তবর্তী পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার সাগরিকা চৌধুরী রুমা।

জানা যায়, মহামারি করোনা ভাইরাসে চলাকালীন লকডাউনে ঘরে আবদ্ধ থাকার সময়কে কাজে লাগাতে বেছে নেন নকশী কাঁথার কাজ। ছোট বেলা থেকেই সুই সুতার কাজের প্রতি একটা ভালোলাগা কাজ করে। তাই নিজের জামাগুলোতে করতেন নকশার কাজ। পাশাপাশি এলাকার স্মৃতির আপুর কাছ থেকে হাতে খড়ি নেন তিনি। সে অভিজ্ঞতার আত্মবিশ্বাস নিয়ে গত বছর ১৮ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক লক্ষে শুরু নকশিকাঁথার কাজ। এভাবেই বলছিলেন উদ্যোক্তা সাগরিকার উঠে আসার গল্প।

মাত্র ৭ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করেন নকশি কাঁথার কাজ। অনলাইন মার্কেট থেকে কিনেন কাঁথার কাপড়, সুই সুতা, ফ্রেম এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি। প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন এস আর হ্যান্ডিওয়ার্ক। মাত্র এক বছরেই কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্যের মধ্য দিয়ে এখন লাখ পেরিয়েছে বিক্রয় কার্যক্রম।

এদিকে কাজের পরিচিতি ও অনলাইনে মার্কেট নিজের পণ্য তুলে ধরতে যুক্ত হন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ‘উই গ্রুপে’। গ্রুপে যুক্ত হয়ে তৈরি হয় নতুন অনুপ্রেরণা। মেনে চলেন উই আর ডি এস বির নির্দেশনা। ফেসবুক গ্রুপ ও অনলাইনে “শেয়ার” করার পর থেকেই আসতে থাকে ক্রেতাদের অর্ডার। তখন বড় কাঁথার সাথে বেবিদেরও কাঁথা সেলাই কাজ পান। সেই টাকা দিয়ে কাঁথার জিনিস কিনে আবার কাঁথা তৈরি করতেন। নকশিকাঁথার কাজের মধ্য দিয়ে নিজ এলাকায় তার বেড়েছে বেশ পরিচিতি।

প্রথম দিন মেহেদী, রনি ও বিপ্লব নামের বেশ কয়েকজন ক্রেতার কাছ থেকে কাজের অর্ডার পান সাগরিকা। সময় নিয়ে কাজগুলো করে সাপ্লাই দেন। কাজের শুরুতে ক্রেতার চাহিদা পূরণ করতে একটু সমস্যা হতো। আত্মীয়ের মাধ্যমে পাঠানো হতো পার্সেল। দূরের অর্ডারগুলো সপ্তাহ পর পর ৫২ কিলোমিটার পারি দিয়ে জেলা শহর পঞ্চগড়ে গিয়ে কুরিয়ার করতেন।

সফল উদ্যোক্তা সাগরিকা দৈনিক অধিকারকে বলেন, প্রথমদিকে আমার স্বামী রাজি ছিল না এ কাজ করার। পরে আমার কাজের আগ্রহ দেখে তিনি এগিয়ে আসেন সহায়তা করার জন্য। ২ বছরের ছেলেকে সময় দেয়াসহ সবকিছু সামলিয়ে নিয়ে চালিয়ে গেছি নকশার কাজ। কাজের শুরুতে কোন সহযোগী না থাকলেও সংসার সামলিয়ে অনার্স ৪র্থ বর্ষে পড়ালেখা করছেন বলে জানান তিনি।

শুরুতে মানুষজন নানা ধরনের কথা বলতো, স্বামী চাকরি করে আর আপনি নকশিকাঁথা সেলাই করেন কেন, কি দরকার এতো পরিশ্রমের, টাকার অভাব নাকি? নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হলেও ওদের কথায় কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে গেছি।

আরও পড়ুন : টেকনাফে ২০ লাখ টাকার ইয়াবাসহ ...

এ নারী উদ্যোক্তা কাজ করছেন ছোট বড় নকশিকাঁথা, নকশী বিছানার চাদর, নিমা-ন্যাপি, বেবি ড্রেস ও দেশীয় শাড়ি নিয়ে। বেশ সময় লাগে তা করতে। সময় লাগলেও বেশ চাহিদা রয়েছে এ নকশী কাঁথার। প্রায় এক বছরে লাখ পেরিয়েছে বিক্রয়। তার অনুপ্রেরণা পেয়ে আইরিন নাহার, রাজিয়া সুলতানাসহ অনেকেই নেমেছেন এই কাজে।

সাগরিকার স্বামী হারুন অর রশীদ দৈনিক অধিকারকে বলেন, প্রথম দিকে সংসারের দিকে চিন্তা করে সাপোর্ট না করলেও পরে ওর ইচ্ছেটাকে প্রাধান্য দিয়েছি। অনুপ্রেরণাসহ সার্বিক সহযোগিতা করছি। একটু সমস্যা ছিল। তেঁতুলিয়ায় তেমন কুরিয়ার সার্ভিস নেই। মাঝেমধ্যে আমাকে জেলা শহরে গিয়ে ডেলিভারির জন্য কুরিয়ার করতে হয়।

শূন্য পুঁজি থেকে লাখ টাকায় পৌঁছে যাওয়া এ উদ্যোক্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন নারী কর্মসংস্থানের। সেখানে কাজ শিখবে শিক্ষিত বেকার নারীরা। বর্তমান সরকার উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনা ও অর্থ ঋণ দিচ্ছেন। সে প্রণোদনা চান উদ্যোক্তা সাগরিকাও। এ আর্থিক প্রণোদনা সহযোগিতা পেলে ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে গড়ে তুলবেন নারী কর্মসংস্থান।

ওডি/হাসান

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড