• শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নামের গরমিলে আসামি মুক্তির ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ

  জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর

০৭ এপ্রিল ২০২১, ১৯:২৩
কারারক্ষী
সাময়িক বরখাস্ত কারারক্ষী মো. ইব্রাহিমক (ছবি : দৈনিক অধিকার)

শরীয়তপুর জেলা কারাগার থেকে জামিনের আসামি লিটন সিকদারের বদলে লিটন ফরাজী (২৮) নামের এক হাজতিকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় কারারক্ষী মো. ইব্রাহিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল এ বিষয়টি ছিল আলোচিত। তবে এবার মুখ খুলেছে কারারক্ষী মো. ইব্রাহিম। এর পর একে অপরের ঘারে দোষ চাপিয়ে যাচ্ছেন।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কারারক্ষী মো. ইব্রাহিম বলেন, পানি সব সময় নিচের দিকে গড়ায়। তারা বাঁচার জন্য আমাকে দোষারোপ করেছেন। এই চাকরি নিতান্তই গরিব মানুষ গুলো করে।

গত ৪ এপ্রিল লিটন সিকদার ও লিটন ফরাজি দুই জনের জামিননামা লিস্ট করি। দুই জনেরই সিডাব্লুডি বের করে দেখি যে লিটন শিকদার এর ২ টা মামলা দেখে আমি লিটন শিকদার এর নাম কেটে দেই এবং লিটন ফরাজিকে জামিন দিয়ে গেটে দেই। ডিপুটি জেলার স্যারের অনুমতি ক্রমে এসব করি। আমি তার অনুমতি ছাড়াতো জামিন দিতে পারি না।

আরও পড়ুন : আয়নাবাজি : নামের গরমিল করে আসামির পলায়ন

২৫ তারিখে খুলনা থেকে যে জামিন নামাটা এসেছিলো সেটা লিটন সিকদার এর। সেই মামলাটা ডিপুটি স্যার ও জেলার স্যার কেটেছে লিটন ফরাজির। আমি শুধু সিল মেরে দিয়েছি। আমি অনেক সময় সিল মারার ক্ষেত্রে ভুল ত্রুটি হলে স্যার'রা আমাকে দেখিয়ে দিতেন এভাবে না, এই ভাবে। আমি আসলে আগে কোথাও কখনো কাজ করিনি। এটাই আমার প্রথম কাজ আমি স্যারদের বলেছি। অফিসের চালান থেকে শুরু করে অনেক কাজ আমি করি। আমি হার্টের রোগী, আমার এতো চাপ সহ্য হয় না। স্যার বলে লোক নাই তুমি করো।

এবিষয়ে জেলার আমীরুল ইসলাম ও ডেপুটি জেলার হোসেনুজ্জামান কোন বক্তব্য দিতে রাজি নন।

এবিষয়ে ৭ এপ্রিল বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় জেলা কারাগারের জেল সুপার গোলাম হোসেন বলেন, তিন জনই একই মামলার আসামি। শরীয়তপুর গোসাইরহাটে, রাজবাড়ী ও খুলনা দৌলতপুরে তিন জনের নামে চুরি ও ছিনতাই মামলা রয়েছে।

লিটন ফরাজির বাড়ি পিরোজপুর, লিটন সিকদারের বাড়ি খুলনা, একেক সময় একেক জনের বেল বন্ড আসে। তিন জনের বেল বন্ড কাটা হয়েছে। শুধু দৌলতপুরে মামলা যেটা ওই বেল বন্ড টা একজনের হইছে। কাটা হয়েছে। লিটন সিকদার আর লিটন ফরাজি। রেজিস্টারে নাম আছে। নোট দিবে সিকদারকে না দিয়ে দিয়েছে ফরাজিকে। ভুলটা ওই জায়গায় হয়েছে। নোটটা দিয়েছে কারারক্ষী ইব্রাহিম। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আসামির বাবার নাম না দেখেই নোট দিয়ে দিয়েছে। যাচাই-বাছাই না করেই দিয়েছে।

নোট যাচাই কারার দায়িত্ব ডিপুটি জেলার তারপর জেলার। কেন শুধু কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হল? অন্যদের হলো না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু কারারক্ষী পর্যন্ত আমার সাসপেন্ড করার ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তারা ব্যাখ্যা দিলে আমি বিভাগীয় ডিআইজির কাছে পাঠিয়ে দিব।

আরও পড়ুন : আয়নাবাজি : নামের গরমিল করে আসামির পলায়ন

ডিআইজি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। ইব্রাহিমকে সিল মারার অপরাধে দেয়া হয়েছে। তিনি পুনরায় চাকরিতে যোগদিলে যাতে ভুল না করে এই জন্যই এই দণ্ড দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় শরিয়তপুরে লিটন সিকদার জামিন পান। জেলা কারাগারে সেই জামিনের কাগজে বেরিয়ে যান অপর আসামি লিটন ফরাজী।

ওডি/এএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড