• শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সালথায় তুলকালাম : ইউএনওসহ কয়েকটি সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগ

  হারুন আনসারী, সালথা (ফরিদপুর)

০৬ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫৫
এসিল্যান্ড ও থানা চত্বরে অগ্নিসংযোগ
এসিল্যান্ড ও থানা চত্বরে অগ্নিসংযোগ। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ফরিদপুরের সালথায় এসিল্যান্ড ও থানা চত্বরে অগ্নিসংযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর আগে থানার গেটে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

সোমবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলতে থাকে ব্যাপক সংঘর্ষ। তবে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে গভীর রাতেও থেমে থেমে চলতে থাকে পুলিশের গুলিবর্ষণ।

পুলিশ জানায়, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধাওয়া ও থেমে থেমে ফাকা গুলি ছোড়েন। উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে মোতায়েন করা হয়। এসময় পুলিশ ও র‍্যাবের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছে বলে জানান তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, রাত ৮টার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উপজেলা সদরের পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হামলায় প্রথম পর্যায়ে নবনির্মিত সালথা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়, থানা চত্বর ও ফটকের চারপাশে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়।

জানা যায়, রাত ১০টার দিকে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ ওই ভবনে অবস্থিত কয়েকটি সরকারি কার্যালয়ে হামলা হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়, ত্রাণ কর্মকর্তার কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। দুটি সরকারি প্রাডো গাড়িসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল।

সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এসময় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওই কার্যালয়ে আটকা পড়েন। পুরো এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) সুমিনুর জানান, স্থানীয় পুলিশের সাথে ফরিদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে পুলিশের অতিরিক্ত দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা মধ্যরাত পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।

তিনি বলেন, পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করতে গিয়ে র‌্যাবও আক্রান্ত হয়েছে। তবে কত জন আহত হয়েছেন তা বলতে পারছি না। পুলিশ সুপার জানান, উপজেলা অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থানে অগ্নিসংযোগ ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়েছে। ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী পৌঁছানোর পর মধ্যরাতে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর গাড়ি থেকে নেমে এক স্থানীয়কে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন একজন সরকারি কর্মচারী। এর জেরই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে গিয়ে সেখানে এসআই মিজান নামে একজন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন আহত হন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মারুফা সুলতানা হীরামনি বলেন, লকডাউন কার্যকর হচ্ছে কিনা সেটি দেখার জন্য ফুকরা বাজারে যাই। এরপর তারা আমার গাড়ি ধাওয়া করলে আমি বিষয়টি থানা পুলিশকে জানাই। এরপর তারা থানা ঘেরাও করে তাণ্ডব চালায়। তবে তিনি বা তার কোনো সহকর্মী কাউকে আঘাত করেনি বলে জানান।

এসিল্যান্ড বলেন, স্থানীয় একজন হুজুরকে মেরে ফেলা হয়েছে এই গুজব ছড়িয়ে গ্রামবাসীকে একত্রিত করে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, এটি পুলিশের সাথে হামলাকারীদের সংঘর্ষ। এখানে সরকারি কোনো কর্মকর্তা জড়িত নন। ফুকরা বাজারে জাকির হোসেন মোল্যা (৪০) নামে একজন গ্রামবাসীকে এসিল্যান্ডের গাড়ি থেকে নেমে একজন কর্মচারী লাঠি দিয়ে পিটিয়ে কোমড় ভেঙ্গে দেওয়ার খবরে রাত সাড়ে সাতটার দিকে একদল উত্তেজিত গ্রামবাসী প্রথমে থানা ঘেরাও করে। পরে এসব হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মুহুর্মুহু গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

ওডি/জেআই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড