• রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাতক্ষীরা শহরে ধুলা-বালিতে বিপর্যস্ত জনজীবন

  মো. মুশফিকুর রহমান, সাতক্ষীরা

০৫ এপ্রিল ২০২১, ১৩:১৯
সাতক্ষীরা শহরে ধুলা-বালিতে বিপর্যস্ত জনজীবন
শহরের রাস্তায় ধুলা উড়ছে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বিগত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের আহবানে ‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা’ নামের একটি পরিচ্ছন্নতা আন্দোলন শুরু হয়। সে সময় এ আন্দোলনটি ব্যাপক আলোচিত ও প্রশংসিত হয়।

ঘটা করে এই আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা’ আন্দোলনের অফিশিয়াল লোগো ডিজাইন প্রতিযোগিতার।

প্রচার করা হয় সচেতনতা মূলক ভিডিও চিত্র। শহরের বেশিরভাগ দোকানদারদের ময়লা ফেলার জন্য দেওয়া হয় বিশেষ পাত্র। কিন্তু আলোচিত এই আন্দোলন দেড় বছর পেরিয়ে কতটুকু সফল তা নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাস্তার ধুলা আর কাঁদায় ‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা’ এখন ‘ধূলার সাতক্ষীরা, কাঁদার সাতক্ষীরা’য় রূপান্তরিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলায় ব্যাপক হারে ধূলা-বালি বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ রাস্তা দিয়ে অবৈধ যন্ত্রদানব (ট্রাক্টর)-এ করে ইট ভাটার মাটি পরিবহন। এদিকে শহরের ধূলা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ প্রাণ সায়ের খালের মাটি পরিবহন। রাস্তা দিয়ে মাটি ফেলতে-ফেলতে যাওয়া হলেও এসব মাটি আর পরিষ্কার করা হয় না। ফলে বিভিন্ন যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে এসব মাটির টুকরো রাস্তার সাথে মিশে যায়।

পরে এই মাটি শুকিয়ে সৃষ্টি হয় ধূলা-বালির। আবার রাস্তার সাথে মিশে থাকা এই মাটিই এক সময় দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাড়ায়। কারণ সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পড়ে থাকা এসব মাটি পরিণত হয় পিচ্ছিল কাঁদায়। সে কাঁদার উপর দিয়ে যেকোন ধরনের যানবাহন চলাচলই হয়ে ওঠে বিপদজনক।

সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরায় যেসব সড়ক দুর্ঘটনাগুলো হয়েছে তার বেশিরভাগই ঘটেছে এই মাটি পরিবহনের ডাম্পার ট্রাক্টর অথবা রাস্তায় পড়ে থাকা মাটিতে সৃষ্টি হওয়া ধূলা-কাঁদার কারণে। সর্বশেষ সাংবাদিক ফিরোজ জোয়ার্দারের মৃত্যুও হয়েছে ইটভাটায় মাটি বহন করা ডাম্পার ট্রাক্টরের সাথে সংঘর্ষের জেরে।

এদিকে সাতক্ষীরা শহরের নারকেলতলা মোড় থেকে পাকাপুলের মোড় পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা সবচেয়ে করুণ। এই রাস্তার পাশেই কৃষি অধিদপ্তরের খামার বাড়ি, জেলা জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের বাসভবন, সাতক্ষীরা পৌরসভা, সাতক্ষীরা কালেক্টরেট ও সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও এই রাস্তার ধূলা-বালি যেন কারও চোখেই পড়ে না। সমাধান না পেয়ে এই ধূলা-বালি সহ্য করেই শহরে চলাচল করতে হয় সাধারণ নাগরিকদের।

এদিকে জেলায় ব্যাপক হারে ধূলা-বালি বেড়ে যাওয়ায় বায়ুবাহিত রোগ ও চর্মরোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ব্যাপারে আমির হোসেন খান চৌধুরী নামের এক পথচারী বলেন, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা তো আর আমাদের মতো রাস্তা দিয়ে হেঁটে অথবা ছোট যান বহনে চলাচল করে না। তারা চলেন গ্লাস দিয়ে পরিবেষ্টিত এসি গাড়িতে। এজন্যই হয়তো এসব ধূলা-বালি তাদের চোখে পড়ে না।

তিনি আরও বলেন, আমার এলার্জীর সমস্যা আছে। রাস্তায় বের হলেই এই ধূলা-বালি মেখে এই সমস্যা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আমার মতো অনেকেই ধূলা-বালির কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ‘নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ’ সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম বলেন, আসলে প্রাণ সায়ের খাল যেভাবে খনন করার কথা সেভাবে খনন করা হচ্ছে না। এই খাল পরিপূর্ণ শুকিয়ে তারপর খনন করার কথা। শুকানোর জন্য আলাদা বাজেটও আছে। কিন্তু আপনারা দেখেছেন খাল না শুকিয়েই কর্দমাক্ত অবস্থায় খনন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খাল খনন করার পর মাটি পরিবহন করার জন্যও আলাদা বাজেট আছে কিন্তু রাতের আঁধারে এই মাটি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। আর এই মাটি পরিবহন করার সময়ই রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে। ওই মাটি থেকেই শহরে এতো ধূলা-বালি।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, সামান্য ধূলা-বালিতেই ‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা’ আন্দোলন ব্যার্থ হয়ে গেল! এতো সহজে এ আন্দোলনের ইতি টানা যাবেনা। সাতক্ষীরা শহরে ধূলা-বালির মূল কারণ প্রাণ সায়ের খাল খনন। এখন খাল খনন করলেতো মাটি নিয়ে যেতেই হবে। আর এ মাটি থেকে একটু ধূলা-বালিতো হবেই। তবে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলে দিয়েছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাস্তার মাটি পরিষ্কার করে রাস্তা ধুয়ে দেবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড